কলকাতা, ২১ জুন: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব কি ক্রমশ বাড়ছে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন ঘিরে জোরাল জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন আইনজীবী হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর রহমান মামলা, এমনকি সাম্প্রতিক নিয়োগ দুর্নীতি ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি তৃণমূলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন। ফলে দলের ‘আইনজীবী মুখ’ হিসেবে তাঁর ভূমিকা এতদিন পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল।
তবে গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা বদলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মামলার দায়িত্ব থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো এবং পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও পরে অভিষেকের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেন তিনি এবং তাঁকে ‘পুত্রসম’ বলেও অভিহিত করেন।
তবুও সূত্রের খবর, দলের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে আবারও অসন্তোষের সুর শোনা যায় কল্যাণের গলায়। সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁর পাশাপাশি বা তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীর নামও এই আলোচনায় উঠে আসে বলে জানা গেছে।
মানেকা গুরুস্বামী অতীতে রাজ্য সরকারের হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সওয়াল করেছেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নেতৃত্ব আগ্রহী বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে এই প্রস্তাব ঘিরে আপত্তি জানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, দীর্ঘদিনের ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব হ্রাসের ইঙ্গিত তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত, নিয়োগ দুর্নীতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে এই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ তাৎপর্যপূর্ণ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে তাঁর অবস্থান থাকলেও দলের ভিতরে ক্রমশ তাঁর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে জল্পনা।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দলের অভ্যন্তরে আইনজীবী নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন ঘিরে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা অব্যাহত।
No Comment! Be the first one.