সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ এবার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে করা মহুয়ার একাধিক মন্তব্য তাঁদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলত্যাগী সাংসদদের একটি জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়–সহ এনসিপিআই–তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ। কাকলির দাবি, মহুয়ার ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক মন্তব্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ করার বিষয়ে সাংসদরা একমত হয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, “মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছি। আপাতত এর বেশি কিছু বলতে চাই না।”
বিতর্কের সূত্রপাত মহুয়ার একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট ঘিরে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার ভাঙন প্রসঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করে তিনি তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের কটাক্ষ করেন। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি দাবি করেন, দলত্যাগী সাংসদরা নাকি মাথাপিছু ৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁর পোস্টে উল্লেখ ছিল, “আমাদের সাংসদেরা চার কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছেন, বাকি ৩৬ মাসে এক কোটি টাকা করে পাবেন।”
এই মন্তব্যকেই মানহানিকর বলে দাবি করছে বিদ্রোহী শিবির। তাঁদের মতে, কোনও প্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তাই বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমশ বেড়েছে। বিধানসভায় ভাঙনের পর লোকসভাতেও তার প্রভাব পড়ে। এরপর তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এনডিএ–সমর্থিত এনসিপিআই–তে যোগ দেন। তবে মহুয়া মৈত্র দলবদল না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা বজায় রেখেছেন।
No Comment! Be the first one.