সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা, ২১ জুন : সমগ্র দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পূর্ব রেলও অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৬ উদযাপন করেছে। এ বছরের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ” (Yoga for Healthy Ageing)।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে যোগাভ্যাসে অংশ নিয়ে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যোগ শুধুমাত্র একটি শারীরিক ব্যায়াম নয়, বরং এটি শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর মাধ্যম। দৈনন্দিন জীবনে যোগকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের বার্তা দেন। এই অনুষ্ঠানে পূর্ব রেলের মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করও উপস্থিত ছিলেন।
মহাপ্রবন্ধক মিলিন্দ দেওস্করের নির্দেশনায় পূর্ব রেলের সদর দফতর বেলভেডিয়ার রেলওয়ে ক্লাবে বিশেষ যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপ্রবন্ধক শীলেন্দ্র প্রতাপ সিং, প্রধান মুখ্য কর্মী আধিকারিক ড. মহুয়া বর্মা-সহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেন। ‘আর্ট অফ লিভিং’ মেডিটেশন সেন্টারের একজন প্রশিক্ষক সাধারণ যোগ প্রোটোকল অনুযায়ী উপস্থিতদের যোগাভ্যাস পরিচালনা করেন।
পূর্ব রেলের চারটি বিভাগ এবং তিনটি ওয়ার্কশপেও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে যোগ দিবস পালিত হয়। রেলের বিভিন্ন ইউনিটে আয়োজিত কর্মসূচিতে ২০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং ওয়ার্কশপগুলির চিফ ওয়ার্কশপ ম্যানেজাররা অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন।
এছাড়াও পূর্ব রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানেও যোগ সেশনের আয়োজন করা হয়। পূর্ব রেলের অধীনস্থ হাই স্কুলগুলিতে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অংশ নিয়ে যোগাভ্যাসের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করে। বি. আর. সিং হাসপাতাল, হাওড়া অর্থোপেডিক হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালেও বিশেষ যোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-এর সদস্য এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীরাও সক্রিয়ভাবে যোগাভ্যাসে অংশ নেন। পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের মতে, যোগ মানসিক চাপ কমানো, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মদক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত রেলকর্মীদের মতো ২৪ ঘণ্টা সতর্কতামূলক দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য যোগাভ্যাস অত্যন্ত উপকারী। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক মানসিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
No Comment! Be the first one.