সকাল সকাল ডেস্ক
সিওল : দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং বলেছেন, জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ইস্যুর সমাধান অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকটের মতো করে করা সম্ভব নয়। ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ শহরে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতার বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপ সফর শেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে লি জানান, ট্রাম্প আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার আগেই সমস্যাটির সমাধান করা সম্ভব হয়নি। এর জবাবে লি বলেন, কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের মতো অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এর জন্য বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন।
লি ট্রাম্পের সামনে ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধানের একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, প্রথমে উত্তর কোরিয়ায় পরমাণু উপাদান উৎপাদন বন্ধ করতে হবে, এরপর বিদ্যমান পরমাণু উপাদান দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হওয়া উচিত সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ, তবে তার আগে বাস্তবসম্মত ও স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
প্রেসিডেন্টের দাবি, ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে সম্ভাব্য একটি বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। লি আরও জানান, উত্তর কোরিয়া ইস্যুর স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট উদ্বিগ্ন বলেই তাঁর কাছে মনে হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তাঁর সরকার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সংলাপ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে, যদিও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন উত্তেজনা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া নিজের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। তাই সিওল, ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সফরকালে লি ভ্যাটিকানে ১৪তম পোপ লিওর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তিনি আগামী বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইউথ ডে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য পোপকে আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) পরিদর্শনের অনুরোধও করেন।
লি জানান, পোপ এই প্রস্তাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের মতে, কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রতি পোপের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
এছাড়া আলোচনার সময় পোপ রসিকতার সুরে জানান যে তিনি স্যামসাংয়ের ঘড়ি ও মোবাইল ফোন এবং হুন্ডাইয়ের গাড়ি ব্যবহার করেন।
No Comment! Be the first one.