ইসরায়েলি সেনার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্ত শুরু অস্ট্রেলিয়ার

সকাল সকাল ডেস্ক

ক্যানবেরা। গাজামুখী ত্রাণবাহী নৌবহরের ওপর অভিযানের সময় আটক কর্মীদের সঙ্গে যৌন নিপীড়ন, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। অভিযোগের তির মূলত ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।

রুশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’-র সঙ্গে যুক্ত চারজন নারী কর্মী সোমবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং, বহুসাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী অ্যান আলি এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। ওই নারীরা মে মাসে আটক হওয়া ১১ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের মধ্যে ছিলেন। সে সময় গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া নৌবহরটিকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করেছিল।

অধিকারকর্মী জুলিয়েট ল্যামন্ট অভিযোগ করেন, আটক ব্যক্তিদের অপহরণ করা হয়, তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে যৌন নিপীড়নের ঘটনাও ঘটে। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

এক বিবৃতিতে এএফপি জানিয়েছে, অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ‘ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক ও ট্রমা-সচেতন’ পদ্ধতিতে তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের দাবি, অভিযোগগুলির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। দূতাবাসের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা পেশাদার উসকানিদাতা এবং তাঁদের তোলা অভিযোগ ইতিমধ্যেই ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।

এদিকে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও অভিযোগ দায়ের করেছে। সেখানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, নির্যাতন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ১৮ মে সাইপ্রাসের নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় গাজামুখী নৌবহরটিকে ইসরায়েলি বাহিনী আটকে দেয়। ওই সময় প্রায় ৪০টি দেশের ৪০০-রও বেশি কর্মীকে আটক করা হয়। গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ এবং নৌ অবরোধের প্রতিবাদে তুরস্ক থেকে এই অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ইতালি, ব্রিটেন, কানাডা, তুরস্ক, গ্রিস, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া, আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকরাও ছিলেন।

বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কিছু ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, আটক কর্মীরা হাত বাঁধা অবস্থায় মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, ওই ভিডিওতে মন্ত্রী তাঁদের উপহাস করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগ তুলেছেন।

বিভিন্ন দেশের একাধিক সাবেক বন্দি মারধর, যৌন নিপীড়ন, অপমানজনক আচরণ এবং আইনি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এর জেরে অস্ট্রেলিয়া ইতামার বেন-গভিরের আচরণের নিন্দা জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও ইতালিও অভিযোগের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কানাডা স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, এসব নৌ-অভিযানের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল এবং সেগুলির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে হামাসকে সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তাই অভিযোগগুলো তারা প্রত্যাখ্যান করছে।

তদন্ত শেষ হওয়ার পরই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Read More News

Read More