সকাল সকাল ডেস্ক
এভিয়ান (ফ্রান্স)। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এসব বৈঠকের তথ্য ভাগ করে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকে দুই নেতা গত এক বছরে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বৈঠকে উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্রীড়া এবং বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে দুই নেতা বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি আমিরশাহিতে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সেখানকার সরকারের সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়ে দুই দেশের বহুমুখী সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে ওঠে। দুই নেতা অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারত ও মিশরের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া কেনিয়ার রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম রুটোর সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক দক্ষিণের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা এবং উন্নয়নসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত ও কেনিয়ার অংশীদারিত্ব পারস্পরিক আস্থা ও উন্নয়ন সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং দুই দেশই নাগরিকদের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকগুলিকে ভারতের সক্রিয় বৈশ্বিক কূটনীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মতো ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা ক্রমশ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
No Comment! Be the first one.