সকাল সকাল ডেস্ক
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের বালোচিস্তানে সমন্বিত হামলা চালিয়ে পাকিস্তানি সেনার সাতজন ‘মুখবির’-কে হত্যা করার দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সংগঠনের দাবি, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন সেনার হয়ে কাজ করা কুখ্যাত ‘হত্যাকারী’ও ছিল, যাদের পুরো প্রদেশে ‘মৃত্যুদল’ নামে চিহ্নিত করা হয়।
বিএলএ মুখপাত্র জিয়ান্দ বালোচ ১৩ জুন এক বিবৃতিতে এই দাবি করেন। তিনি জানান, খারান, কালাত, নুশকি, কোয়েটা এবং শারাঘ এলাকায় একাধিক সমন্বিত অভিযানে পাকিস্তানি সেনার ছয়জন মুখবির এবং ‘মৃত্যুদল’-এর এক সশস্ত্র সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, খারানের বারশুংকি এলাকায় ‘মৃত্যুদল’-এর সদস্য হাফিজ মুমতাজের গোপন আস্তানায় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, খারানের বাসিন্দা সামির আউলাদ রফিককে আটক করেছে বিএলএ যোদ্ধারা। তাঁর বিরুদ্ধে সেনার হয়ে তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি ডাকাতির অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে বিএলএ-র এক প্রাক্তন যোদ্ধা আলি জান ওরফে সুদিস-এর হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি ভূমিকা ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিএলএ মুখপাত্রের দাবি, কালাতের ইসকালকো এলাকা থেকে ছদ্মবেশে ঘুরতে থাকা পাকিস্তানি সেনার মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সের সদস্য তাহির-উল-চৌধুরী মুবারককে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সেনার অফিসার হিসেবে নিজের পরিচয় স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, নুশকি এলাকায় বিএলএ কমান্ডাররা পাকিস্তানি সেনার এক সদস্য শোয়েব মেঙ্গালকে গুলি করে হত্যা করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএলএ-র হেফাজতে ছিলেন এবং পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে দাবি সংগঠনের।
বিএলএ জানিয়েছে, গত মাসে শারাঘ এলাকার তাজ মোহাম্মদের পুত্র সুলতান মোহাম্মদ সামলানিকে আটক করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে সেনা ক্যাম্পে নিয়মিত যোগাযোগ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছিল। পরে তাঁকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’-এর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সেটি কার্যকর করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
বিএলএ মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যে কেউ পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে যোগ দিয়ে আন্দোলনের বিরুদ্ধে কাজ করবে, তার পরিণতি তাজ মোহাম্মদের মতোই হবে।”
No Comment! Be the first one.