সকাল সকাল ডেস্ক:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়ার আশায় শুক্রবার দেশের শেয়ার বাজারে জোরালো উত্থান দেখা গেল। বিশ্বের অন্যান্য বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতীয় বাজারও শক্তিশালী অবস্থানে লেনদেন শেষ করেছে। দিনের শেষে সেনসেক্স ২.৩০ শতাংশ এবং নিফটি ১.৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে বন্ধ হয়েছে।
সকালে বাজার ইতিবাচক সূচকে শুরু হলেও প্রথমার্ধে মুনাফা তোলার প্রবণতায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যাপক কেনাকাটার জেরে বাজারে দ্রুত গতি ফিরে আসে। এর ফলে দিনের শেষভাগে দুই প্রধান সূচকই উল্লেখযোগ্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
আইটি খাত ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই শেয়ার কেনার প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যাঙ্কিং, রিয়েল এস্টেট এবং অটোমোবাইল খাতের শেয়ারগুলিতে জোরদার কেনাবেচা হয়েছে। এছাড়া মূলধনী পণ্য, ভোগ্যপণ্য, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ধাতু, তেল ও গ্যাস এবং সরকারি সংস্থার শেয়ারগুলিও লাভের মুখ দেখেছে। অন্যদিকে আইটি সূচক সামান্য ০.০৯ শতাংশ নিচে নেমে বন্ধ হয়েছে।
বৃহত্তর বাজারেও ছিল উত্থানের ছবি। নিফটির মধ্যম মূলধনী সংস্থার সূচক ২.৪৩ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র মূলধনী সংস্থার সূচক ২.৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারে এই উত্থানের ফলে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ একদিনেই প্রায় ১০.১৭ লক্ষ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬২ লক্ষ কোটি টাকা। আগের দিন যা ছিল ৪৫১.৮৩ লক্ষ কোটি টাকা।
দিনভর লেনদেনে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জে ৪,৪২২টি শেয়ারে কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ৩,২২২টি শেয়ার লাভের মুখে বন্ধ হয়েছে এবং ১,০৪৬টি শেয়ারের দাম কমেছে। জাতীয় শেয়ার বাজারে ২,৯৯৯টি শেয়ারের লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ২,৫১৮টি শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
দিনের শেষে সেনসেক্স ১,৬৯৫.৪০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৫,৫২৭.৯৫ পয়েন্টে বন্ধ হয়। অন্যদিকে নিফটি ৪৬১.৩০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২৩,৬২২.৯০ পয়েন্টে পৌঁছায়।
দিনের সেরা লাভবান শেয়ারগুলির মধ্যে ছিল শ্রীরাম ফাইন্যান্স, বাজাজ ফাইন্যান্স, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো, ইন্টারগ্লোব এভিয়েশন এবং টাইটান। অন্যদিকে নেসলে, ওএনজিসি, টেক মহীন্দ্রা, এসবিআই লাইফ ইনশিওরেন্স এবং টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস দিনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারগুলির তালিকায় জায়গা করে নেয়।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। তারই প্রতিফলন দেখা গেল শুক্রবারের শেয়ার বাজারে।
No Comment! Be the first one.