রঙিন মাছ চাষ ও মুক্তা উৎপাদন হয়ে উঠছে কর্মসংস্থানের শক্তিশালী মাধ্যম : অমরেন্দ্র কুমার

সকাল সকাল ডেস্ক

রাঁচি : ঝাড়খণ্ডে রঙিন মাছ চাষ এবং মুক্তা উৎপাদন বর্তমানে কর্মসংস্থানের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও মজবুত হচ্ছে। একই সঙ্গে মাছ উৎপাদনে ঝাড়খণ্ড আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মৎস্যচাষের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন ঝাড়খণ্ড সরকারের মৎস্য দফতরের পরিচালক অমরেন্দ্র কুমার।

তিনি জানান, গত অর্থবর্ষের তুলনায় মাছ উৎপাদনে প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৪ লক্ষ ১০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩ লক্ষ ৮১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডে প্রথমবারের মতো রঙিন মাছ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় মহিলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গঠন করে মহিলাদের রঙিন মাছ চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। রঙিন মাছ চাষ মহিলাদের কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে।

বর্তমানে রাজ্যে মাছের চাহিদা মেটানোর মতো উৎপাদন হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ঝাড়খণ্ড এখন প্রতিবেশী রাজ্য বিহার, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে মাছ রফতানিও করছে।

মৎস্য দফতরের পরিচালক বলেন, নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মৎস্যচাষিরা প্রায় ৪ লক্ষ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। চলতি বছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৪ লক্ষ ২৩ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে এবং মৎস্যচাষিদের নানা সরকারি সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদা যোজনার আওতায় এখনও পর্যন্ত হওয়া কাজ সন্তোষজনক। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষকদেরও সক্রিয় সহযোগিতা মিলেছে। এর অধীনে ৪ হাজার ৫০০টি খাঁচা মৎস্যচাষিদের দেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে মোট ১৫ হাজার খাঁচা বিতরণ করা হয়েছে।

ধরতি আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান

পরিচালক জানান, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদা যোজনার অধীনে ‘ধরতি আবা জনজাতীয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান’ শুরু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্র সরকার ঝাড়খণ্ডের ২২৩টি প্রখণ্ডের অন্তর্গত ৬ হাজার ৮২২টি গ্রামের তফসিলি জনজাতিভুক্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যাঁরা মৎস্যচাষকে জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে চান, তাঁদের জন্য ২০২৪-২৫ থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্প চালু থাকবে।

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল জনজাতি অধ্যুষিত গ্রাম ও উন্নয়ন-প্রত্যাশী প্রখণ্ডগুলিতে বসবাসকারী জনজাতি সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি জলচাষের মাধ্যমে তফসিলি জনজাতিভুক্ত মৎস্যজীবী ও সমষ্টিগত মৎস্যচাষি গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী করে তোলা।

এছাড়াও মাছ উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতার গুণগত বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা, আধুনিকীকরণ এবং বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

মুক্তা চাষও বাড়াচ্ছে মৎস্যচাষিদের আয়

মৎস্য দফতরের পরিচালক জানান, ঝাড়খণ্ডের মৎস্যচাষিদের মুক্তা চাষেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাঁরা মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি মুক্তা উৎপাদনের কৌশলও শিখছেন। এতে তাঁদের আয় ও আর্থিক সমৃদ্ধি বাড়ছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলাকে মুক্তা চাষের জন্য গুচ্ছ কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, যা রাজ্যের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

গাভাইয়ের উত্তরসূরি সূর্য কান্ত, শপথ নিলেন সুপ্রিম কোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি

নয়াদিল্লি : সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে শপথ নিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিদায়ী প্রধান...

November 24, 2025

Read More News

টাটা–বক্সার–টাটা হোলি স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল কর্তৃপক্ষ, যাত্রীদের মিলবে অতিরিক্ত স্বস্তি

সকাল সকাল ডেস্ক পূর্ব সিংভূম : হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে ঝাড়খণ্ডের...

Read More