সকাল সকাল ডেস্ক
কাবুল : চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে আফগানিস্তানে তালিবান বাহিনী ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩৭২ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার প্রকাশিত আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এর মানবাধিকার বিভাগের এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে।
আফগানিস্তানের ইংরেজি সংবাদপত্র কাবুল নাউ ইউএনএএমএ-র উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের ‘অপারেশন গজব লিল হক’ শুরু হওয়ার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। মোট নিহত ও আহতের অর্ধেকেরও বেশি ঘটনা ১৬ মার্চ পাকিস্তানের বিমান হামলার সঙ্গে যুক্ত।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই হামলায় কাবুলের ‘উমিদ’ নেশামুক্তি হাসপাতালকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। ইউএনএএমএ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেছে যে, হাসপাতালের উপর হামলায় অন্তত ২৬৯ জন নিহত এবং ১২২ জন আহত হয়েছেন। তবে সংস্থার দাবি, সমস্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব সংগ্রহে অসুবিধা থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
জানা গিয়েছে, হাসপাতাল চত্বরে তিন দফায় বিমান হামলা চালানো হয়। প্রথম হামলায় মসজিদ ও শয়নকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বিতীয় হামলায় কন্টেনার-নির্মিত খাদ্য সংরক্ষণাগার এবং ছাত্রাবাসের একটি অংশ ধ্বংস হয়। তৃতীয় হামলায় কাঠের তৈরি কারিগরি প্রশিক্ষণ ভবনে আগুন ধরে যায়।
তালিবান সূত্র ইউএনএএমএ-কে জানিয়েছে, হামলায় ৪১১ জনের বেশি নিহত এবং ২৬১ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। যদিও কাবুলে পাকিস্তান দূতাবাস লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ১৬ মার্চ রাতে চালানো অভিযান ছিল সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসবাদী ও সামরিক পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে। দূতাবাস দাবি করেছে, হামলাগুলি ছিল অত্যন্ত নির্ভুল ও পেশাদার এবং কোনও হাসপাতাল বা অসামরিক স্থাপনাকে নিশানা করা হয়নি।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই সংঘর্ষের জেরে ১ এপ্রিল পর্যন্ত আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে প্রায় ৯৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের বাড়িঘর, অবকাঠামো এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইউএনএএমএ উভয় পক্ষের কাছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলা, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ ওঠা লঙ্ঘনের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান নিরাপত্তা বাহিনী ও তালিবান যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ প্রথম শুরু হয় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে, যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
No Comment! Be the first one.