সকাল সকাল ডেস্ক
তেহরান/ওয়াশিংটন। ইরান সোমবার আমেরিকাকে সতর্ক করে বলেছে, তারা যেন হরমুজ প্রণালী থেকে দূরে থাকে। ইরানের এই মন্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসেছে। ট্রাম্প বলেছিলেন, আমেরিকা সেই জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে সাহায্য করবে, যেগুলো আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে উপসাগরে আটকে পড়েছে। তিনি জানান, প্রায় দুই মাস ধরে এই জাহাজগুলো আটকে রয়েছে এবং ক্রুদের কাছে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাব দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প এই উদ্যোগের নাম দিয়েছেন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’।
রবিবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছিলেন, “আমরা এই দেশগুলোকে জানিয়েছি যে, আমরা তাদের জাহাজগুলোকে এই নিষিদ্ধ জলপথ থেকে নিরাপদে বের করে আনতে সাহায্য করব।” এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডের প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি মার্কিন সেনাকে সতর্ক করে বলেন, তারা যেন হরমুজ প্রণালী থেকে দূরে থাকে। যদি মার্কিন বাহিনী হরমুজের কাছে আসে বা প্রবেশ করে, তাহলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে। তিনি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোকেও নির্দেশ দেন, ইরানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনও ধরনের চলাচল না করতে। আবদুল্লাহি বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ইরানের হাতে এবং জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
আল জাজিরা, সিবিএস, সিএনএন এবং অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘোষণা করেছে যে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তারা ১৫,০০০ সেনা, ১০০-র বেশি স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং ড্রোন নিয়ে এই প্রচেষ্টায় সহায়তা করবে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, “এই প্রতিরক্ষামূলক মিশনে আমাদের সমর্থন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরা নৌ অবরোধও বজায় রাখছি।”
এদিকে ইরানের সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে, যা তেহরান পর্যালোচনা করছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “আমাদের সঙ্গে আমেরিকার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।” এর আগে ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর আওতায় মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে এসকর্ট করবে না, বরং আটকে পড়া জাহাজগুলোকে পথ দেখাবে। বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সম্ভাব্য হামলা রুখতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ আশেপাশে মোতায়েন থাকবে।
এদিকে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমেরিকা একটি ইরানি কন্টেনার জাহাজে থাকা ২২ জন ক্রু সদস্যকে পাকিস্তানে পাঠিয়েছে, যাদের ইরানি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপকে আস্থা-বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, প্রয়োজনীয় মেরামতির পর ইরানি জাহাজটিকেও পাকিস্তানের সামুদ্রিক সীমানায় ফিরিয়ে আনা হবে, যাতে সেটি তার প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা যায়। গত মাসে ওমান উপসাগরে এক হামলার সময় জাহাজটি আটক করা হয়েছিল, যাকে তেহরান আমেরিকার সামুদ্রিক দস্যুতা বলে অভিহিত করেছিল।
No Comment! Be the first one.