US Iran Conflict-এর জেরে ইরানে বিমান হামলা, পাল্টা হামলার দাবি তেহরানের; হরমুজ প্রণালী ঘিরে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ।
সকাল সকাল ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র আকার নিয়েছে US Iran Conflict। বুধবার শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযান বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকায় ইরানের পাঁচটি প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বুশেহর, চাবাহার, বন্দর আব্বাস এবং সিরিক-সহ হরমুজ প্রণালীর সংলগ্ন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক মহলে US Iran Conflict-এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাঁচ প্রদেশে মার্কিন হামলা
ইরানের বিভিন্ন শহরে টানা দ্বিতীয় রাতেও বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় বহু বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইরানের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর জানান, আহত ৭৮ জনের মধ্যে ৪৭ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। US Iran Conflict-এর কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি পরিষেবা ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে।
পাল্টা হামলার দাবি ইরানের
ইরানের দাবি, মার্কিন হামলার জবাবে বাহরিন, কুয়েত এবং কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বাহরিন জানিয়েছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ট্রাম্পের বক্তব্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের কথিত হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের অভ্যন্তরে প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় সেতু, রেললাইন, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে। US Iran Conflict-এর এই পর্যায়ে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জাসিম আল থানি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
তিনি হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার নিন্দা জানান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক আলোচনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্ত কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
রেল যোগাযোগে প্রভাব
মার্কিন হামলায় তেহরান-মাশহাদ রেলপথের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান রেলওয়ে জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল দল ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সড়কপথে মাশহাদে পৌঁছে দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থাও করা হয়েছে। US Iran Conflict-এর প্রভাবে দেশের পরিবহন ব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হওয়ায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৬ জুন স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ওয়াশিংটন এবং তেহরান একে অপরকে দায়ী করছে। একই সঙ্গে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের মন্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও এই সংঘাতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য
বিশ্লেষকদের মতে, US Iran Conflict আরও দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর বড় প্রভাব পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিক, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন সংস্থাগুলিও পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুত আলোচনার পথেই সমাধান খোঁজা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
No Comment! Be the first one.