সকাল সকাল ডেস্ক
লেবার পার্টির ৪০৩ এমপির মধ্যে ৩২২ জনের সমর্থন নিশ্চিত; আর একজনের সমর্থন পেলেই কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতৃত্বের পথে বার্নহ্যাম।
UK PM Race 2026-এ বড় মোড়। যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের দৌড়ে কার্যত একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলটির ৪০৩ জন এমপির মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩২২ জন তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে আর মাত্র একজন এমপির সমর্থন পেলেই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার গাণিতিক সুবিধা অর্জন করবেন। লেবার পার্টি বর্তমানে হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় দলীয় নেতৃত্ব হাতে এলেই তাঁর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন পেতে হয়। বর্তমানে বার্নহ্যামের পাশে রয়েছেন ৩২২ জন এমপি। তিনি যদি আরও একজনের সমর্থন পান, তাহলে তাঁর সমর্থনের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩২৩-এ। সে ক্ষেত্রে বাকি ৮০ জন এমপিকে নিয়ে অন্য কোনও সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে ন্যূনতম ৮১ জনের সমর্থন সংগ্রহ করা গাণিতিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে UK PM Race 2026-এ বার্নহ্যামের নেতৃত্ব কার্যত নিশ্চিত হয়ে যাবে।

দলীয় সূত্রের খবর, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কোনও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সামনে না এলে আগামী সপ্তাহেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নতুন নেতা ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর আগামী ২০ জুলাই তিনি যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন বলেও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
“কাউন্ট বিনফেইস, এখন আপনিই জাতির আশা। আমাদের হতাশ করবেন না।”
তাঁর এই মন্তব্য উপস্থিতদের মধ্যে হাসির রোল ফেলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
স্টারমারের পদত্যাগের পর নতুন অধ্যায়
সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রত্যাশিত ফল না আসায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর দলীয় চাপ বাড়তে থাকে।
শেষ পর্যন্ত গত ২২ জুন তিনি প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ান। একই দিন এমপি হিসেবে শপথ নেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এরপর থেকেই তাঁকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ লেবার এমপির সমর্থন পাওয়ায় এখন তাঁর নেতৃত্ব গ্রহণ কার্যত সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের এই দ্রুত উত্থান ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই তিনি মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই দলের অধিকাংশ এমপির আস্থা অর্জন করে দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দায়িত্বের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়াকে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান এবং দলের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে সুসম্পর্কই বার্নহ্যামের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।
বিপুল সমর্থন পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে লেবার এমপিদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, দলের বিভিন্ন স্তরের এই সমর্থন প্রমাণ করে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গির চাহিদা তৈরি হয়েছে। তাঁর লক্ষ্য এমন একটি সরকার গঠন করা, যেখানে শুধু লন্ডন বা ওয়েস্টমিনস্টার নয়, দেশের প্রতিটি অঞ্চল সমান গুরুত্ব পাবে।
নিজের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে বার্নহ্যাম বলেন, ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ কমিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে আরও বেশি দায়িত্ব তুলে দিতে হবে। তাঁর কথায়, “আমি এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামো গড়তে চাই, যেখানে ওয়েস্টমিনস্টার থেকে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হবে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা হবে এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তর ইংল্যান্ডের উন্নয়ন, আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী করা এবং সরকারি পরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণ তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি।

এদিকে রিফর্ম ইউকে-র নেতা নাইজেল ফারাজ ক্ল্যাকটন আসনে উপনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। যদিও ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ওই আসনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে কৌতুকাভিনেতা কাউন্ট বিনফেইস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লন্ডনের এক অনুষ্ঠানে বার্নহ্যাম রসিকতার সুরে বলেন, “কাউন্ট বিনফেইস, এখন আপনিই জাতির আশা। আমাদের হতাশ করবেন না।” তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
UK PM Race 2026-এর বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর। স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রত্যাশিত ফল না আসায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর দলীয় চাপ বাড়ে। শেষ পর্যন্ত তিনি ২২ জুন দলীয় নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন। একই দিনে এমপি হিসেবে শপথ নেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এরপর থেকেই তাঁকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলের অধিকাংশ এমপির সমর্থন অর্জন করেন।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী অন্য যে কোনও প্রার্থীকে আগামী বুধবারের মধ্যে অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থনের পাশাপাশি তিনটি ট্রেড ইউনিয়ন বা স্বীকৃত সামাজিক সংগঠনের সমর্থনও সংগ্রহ করতে হবে। তবে এখনও পর্যন্ত বার্নহ্যামের বিরুদ্ধে কোনও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী সামনে আসেননি। ফলে শেষ মুহূর্তে বড় কোনও রাজনৈতিক পরিবর্তন না ঘটলে খুব শিগগিরই যুক্তরাজ্য নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে পেতে চলেছে।
No Comment! Be the first one.