রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মতে, গবেষণা, নথিভুক্তিকরণ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আয়ুর্বেদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।
সকাল সকাল ডেস্ক
সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে সৌশ্রুতম ২০২৬-এর মঞ্চ থেকে আয়ুর্বেদের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। নয়াদিল্লিতে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী সৌশ্রুতম ২০২৬-এর উদ্বোধন করে তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে আয়ুর্বেদের সংযোগ ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। তাঁর বক্তব্যে প্রাচীন চিকিৎসা জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সমন্বয়ের গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।
আয়ুর্বেদের বিকাশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রাচীন চিকিৎসা ঐতিহ্যকে বর্তমান সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে হবে। আয়ুর্বেদ কেবল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, বরং সুস্থ জীবনযাপনের একটি সামগ্রিক দর্শন। আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্যভিত্তিক গবেষণা এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার সহায়তায় এই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

তাঁর মতে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন এবং আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার আয়ুর্বেদের কার্যকারিতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বেশি আস্থা তৈরি করবে। সৌশ্রুতম ২০২৬ এই লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর জোর
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আয়ুর্বেদের বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি ও শল্যচিকিৎসা সম্পর্কে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। মানসম্মত নথিভুক্তিকরণ, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষণ এবং আধুনিক গবেষণা পদ্ধতির মাধ্যমে এই চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তিনি মনে করেন, গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী উপস্থাপন করা গেলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক ও গবেষকদের কাছে আয়ুর্বেদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব
রাষ্ট্রপতি জানান, আয়ুর্বেদের বৈশ্বিক প্রসারে কেন্দ্রীয় সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এই লক্ষ্য পূরণে আয়ুষ মন্ত্রক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়লে জ্ঞান বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির বিকাশ আরও সহজ হবে। সৌশ্রুতম ২০২৬-এর মতো আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করে নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করছে।
ভারতীয় চিকিৎসা ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ আয়ুর্বেদ। হাজার বছরের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই চিকিৎসা পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গবেষণা, প্রযুক্তি এবং তথ্যভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারের ফলে আয়ুর্বেদের আধুনিকীকরণে নতুন গতি এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সৌশ্রুতম ২০২৬ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং চিকিৎসকদের মধ্যে মতবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার নতুন উদ্যমে আয়ুর্বেদ ও যোগচর্চার আন্তর্জাতিক প্রসারে কাজ করছে। প্রাচীন শল্যচিকিৎসা পদ্ধতিকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নত নথিভুক্তিকরণ, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা আরও নির্ভুল, নিরাপদ এবং সহজলভ্য হতে পারে। উন্নত গবেষণা ও মানসম্মত পরিষেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আরও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণের ফলে দেশের স্বাস্থ্যখাতও আরও শক্তিশালী হবে।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সৌশ্রুতম ২০২৬-এর আলোচনা থেকে নতুন গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর মাধ্যমে আয়ুর্বেদিক শল্যচিকিৎসা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও সমৃদ্ধ হবে এবং সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
No Comment! Be the first one.