রাজ্যপাল

প্রযুক্তি শিক্ষার লক্ষ্য শুধু চাকরি নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি— রাজ্যপাল

বিআইটি মেসরাকে গবেষণা, উদ্ভাবন, স্টার্ট-আপ ও সমাজমুখী প্রযুক্তির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ারের।

সকাল সকাল ডেস্ক।

বিআইটি মেসরা, রাঁচির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার বলেন, কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা দিবস শুধু প্রতিষ্ঠার স্মরণ নয়, বরং তার গৌরবময় যাত্রা, সাফল্য এবং ভবিষ্যতের অঙ্গীকার উদযাপনেরও উপলক্ষ। তিনি বলেন, বিআইটি মেসরা দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি মানসম্পন্ন শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এখানকার প্রাক্তনীরা দেশ-বিদেশের নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্পসংস্থা, গবেষণা কেন্দ্র এবং প্রযুক্তি সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে ভারতের সুনাম বিশ্বমঞ্চে বাড়িয়ে তুলছেন।

রাজ্যপাল বলেন, বর্তমানে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, সেমিকন্ডাক্টর, সাইবার নিরাপত্তা, সবুজ শক্তি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা শুধু জ্ঞানদানেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এগুলিকে উদ্ভাবন, গবেষণা, স্টার্ট-আপ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০২০ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও বহুমুখী, উদ্ভাবননির্ভর এবং দক্ষতাভিত্তিক করার দিশা দেখিয়েছে। বিআইটি মেসরা এই নীতির আলোকে গবেষণা, শিল্প-শিক্ষা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু চাকরি পাওয়া নয়, বরং যুবসমাজকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলাও।

রাজ্যপাল আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘বিকশিত ভারত-২০৪৭’, ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘স্টার্ট-আপ ইন্ডিয়া’, ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’-এর মতো উদ্যোগ দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে। ভারতের যুবসমাজকে শুধু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, বরং তার স্রষ্টা ও বিশ্বনেতা হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিআইটি মেসরার মতো প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন।

ঝাড়খণ্ডের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যপাল বলেন, খনন, ইস্পাত, শক্তি, কৃষি, বন, পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বিআইটি মেসরা যেন তাদের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে রাজ্যের স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সমাধান তৈরি করে এবং সমাজের বাস্তব সমস্যার সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা নেয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –

পড়ুয়াদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, সংবেদনশীলতা, নেতৃত্বের গুণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন প্রকৃত প্রকৌশলী তিনিই, যিনি তাঁর প্রযুক্তিগত জ্ঞান মানবকল্যাণ ও দেশগঠনের কাজে ব্যবহার করেন।

শেষে রাজ্যপাল আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনেও বিআইটি মেসরা জ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উৎকর্ষের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে আত্মনির্ভর ও উন্নত ভারত গড়ে তুলতে সকলকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

Read More News

Read More