সকাল সকাল ডেস্ক
তেল আবিব। ইসরায়েল সোমালিল্যান্ড প্রজাতন্ত্রকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসরায়েলই প্রথম জাতিসংঘ (ইউএন)-এর সদস্য রাষ্ট্র, যারা সোমালিল্যান্ডকে সার্বভৌম দেশের মর্যাদা দিল। শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, সোমালিল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি আব্দিরহমান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহির সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে একটি যৌথ ঘোষণায় তিনি স্বাক্ষর করেছেন। ইসরায়েলের এই স্বীকৃতির ফলে তুরস্ক ও সোমালিয়ার জন্য বড়সড় কূটনৈতিক ধাক্কা লেগেছে।
১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই সোমালিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তবে এতদিন পর্যন্ত তেমন সাফল্য মেলেনি। শুক্রবার ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে পূর্ণ স্বীকৃতি দিলেও, ব্রিটেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (ইউএই), ডেনমার্ক, কেনিয়া ও তাইওয়ানের সঙ্গে তাদের অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ইসরায়েলই প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ড প্রজাতন্ত্রকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল। সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার তিন দশকেরও বেশি সময় পরে এই স্বীকৃতি মিলল। ইসরায়েলের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও বিদেশমন্ত্রী গিদেওন সাআর ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন, আর সোমালিল্যান্ডের পক্ষে রাষ্ট্রপতি আব্দিরহমান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহি তাতে স্বাক্ষর করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই স্বীকৃতির কথা জানিয়ে বলেন, “আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চল, কৃষি এবং সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করি।”
সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই ঘোষণায় সোমালিয়া ও তুরস্ক অস্বস্তিতে পড়েছে। সোমালিয়ার বিদেশ মন্ত্রক ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে তাদের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, তুরস্ক একে নেতানিয়াহু সরকারের বেআইনি কর্মকাণ্ডের আরও একটি উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
সোমালিল্যান্ড আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা। সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করলেও, এতদিন পর্যন্ত কোনও দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।
তবে স্বাধীন সোমালিল্যান্ডের পটভূমি নতুন নয়। ১৯৬০ সালে অল্প সময়ের জন্য এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল এবং ইসরায়েলসহ একাধিক দেশ তখন তাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। পরে এটি সোমালিয়ার সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া গৃহযুদ্ধের কবলে পড়লে, সোমালিল্যান্ড আবার নিজেকে স্বাধীন দেশ হিসেবে ঘোষণা করে।
No Comment! Be the first one.