পেপার ব্যালটে নির্বাচন করানোই ভালো, মন্তব্য অখিলেশের
(সকাল সকাল ডেস্ক) লখনউ, ১৬ আগস্ট : সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব শনিবার বলেন, ভোট গণনার ক্ষেত্রে ইভিএমের বদলে পেপার ব্যালট ব্যবহার করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রায়শই প্রশ্ন উঠছে। সুপ্রিম কোর্টকেও বিরোধীদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে হয়েছে। অখিলেশ বলেন— “আমরা যখন কমিশনকে প্রশ্ন করেছিলাম, হলফনামাসহ বিস্তারিত জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমেরিকা, জাপান, জার্মানির মতো কাগজের ব্যালটে ভোট করালেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।”
সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ধরার অভিযানে স্থগিতাদেশে ‘না’ সুপ্রিম কোর্টের
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : বাংলাদেশি সন্দেহে দেশ জুড়ে বহু সন্দেহভাজনকে আটক করা হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অতিসক্রিয়তা’র অভিযোগ তুলে আটক করা বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার এই আবেদনের ভিত্তিতে কোনও অন্তবর্তিকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। কেউ কেউ অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছে, বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করছে পুলিশ। বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লিতে আটক করা হচ্ছে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের৷ এমনকি, তাঁদের পরিচয় পত্রও দেখা হচ্ছে বলে অভিযোগ৷ বিষয়টি নিয়ে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার৷ কলকাতা পুলিশের তরফেও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন৷ তবে আদালত এ দিন স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি এ ক্ষেত্রে কোনও অন্তবর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশ থেকে বৈধ নথি-সহ এ দেশে এসেছেন যাঁরা, তাঁদের সমস্যা হতে পারে। এই অভিযানের জেরে যাঁরা সত্যি সত্যি বেআইনি অনুপ্রবেশকারী, যাঁরা লুকিয়ে ভারতে ঢুকে সাধারণ ভারতীয়ের ভিড়ে মিশে যাচ্ছে, তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করা যাবে৷ তবে পাশাপাশি, সত্যিকারের ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিকদের চিহ্নিত করার উপর জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ অন্তবর্তী নির্দেশ না-দিলেও মামলার শুনানিতে কোনও আপত্তি জানায়নি সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলিকে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাহসিকতা ও সেবার জন্য পদক পাচ্ছেন বিভিন্ন সেবায় যুক্ত ১০৯০ জন
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি : ২০২৫-এর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাহসিকতা ও সেবার জন্য পদক পাচ্ছেন পুলিশ, হোমগার্ড, সিভিল ডিফেন্স এবং সংশোধনাগার পরিষেবার ১০৯০ জন কর্মী। এই বিষয়ে জানিয়েছে ভারত সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)। পিআইবি-র তরফে জানানো হয়েছে, “২৩৩ জন পাচ্ছেন মেডেল ফর গ্যালান্ট্রি, ৯৯ জন পাচ্ছেন প্রেসিডেন্টস মেডেল ফর ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস এবং ১৫৮ জন মেডেল ফর মেরিটোরিয়াস সার্ভিস। মেডেল ফর গ্যালান্ট্রি প্রাপ্ত ২৩৩ জনের মধ্যে ২২৬ জন পুলিশ কর্মী, ৬ জন দমকল কর্মী এবং একজন হোমগার্ড এবং সিভিল ডিফেন্সের। রাষ্ট্রপতি সেবা পদক প্রাপক ৯৯ জনের মধ্যে ৮৯ জন পুলিশ, ৫ জন দমকল কর্মী, ৩ জন সিভিল ডিফেন্স ও হোমগার্ড এবং ২ জন সংশোধনাগার পরিষেবা কর্মী। উল্লেখযোগ্য সেবা কাজের জন্য ৭৫৮ জন পদক প্রাপকদের মধ্যে ৬৩৫ জন পুলিশ, ৫১ জন দমকল, ৪১ জন সিভিল ডিফেন্স ও হোমগার্ড এবং ৩১ জন সংশোধনাগার পরিষেবা কর্মী।”
বীরভূমে অবৈধ বালি খাদানের বিরুদ্ধে অভিযান জেলাশাসকের
সকাল সকাল ডেস্ক। নানুর : মঙ্গলবার গভীর রাতে বীরভূমের নানুরের পালিতপুর প্রতাপপুর চক এলাকায় অবৈধ বালি খাদানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে জেলাশাসক বিধান রায়। অভিযোগ, অজয় সেতু (লোচনদাস সেতু) সংলগ্ন নতুনহাট এলাকায় অজয় নদীর বাঁধ কেটে সাকশন পাইপ ব্যবহার করে বালি উত্তোলন করা হচ্ছিল। অভিযানে ১৫টিরও বেশি ডাম্পার, চারটি মাইনিং মেশিন এবং নৌকায় লাগানো দুটি সাকশন মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অজয় নদীতে এই ধরণের অবৈধ বালি উত্তোলন সত্ত্বেও, নানুর থানা বা ব্লক প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এদিকে, মঙ্গলবার গভীর রাতে জেলাশাসক নিজেই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে অবহেলার জন্য বেশ কয়েকজন প্রশাসনিক আধিকারিককে তিরস্কার করেছেন জেলাশাসক।
পথকুকুর নিয়ে নির্দেশ খতিয়ে দেখব: বি আর গাভাই
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি : পথকুকুর নিয়ে শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশ তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানালেন দেশের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই। জাতীয় রাজধানী অঞ্চল থেকে কয়েক লক্ষ পথকুকুরকে অবিলম্বে সরানোর ওই নির্দেশটি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যেরা থেকে অনেক রাজনীতিক। বুধবার পথকুকুর সম্পর্কিত একটি মামলা জরুরি শুনানির তালিকায় সংযোজনের জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে তোলা হয়। সেখানে প্রধান বিচারপতি গাভাই প্রথমে বলেন, অন্য বেঞ্চ তো এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই নির্দেশ জারি করেছে। মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত না হলেও প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব। উল্লেখ্য, এর আগে এই নিয়ে বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, সমস্ত পথকুকুরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট আশ্রয় কেন্দ্রে রাখতে হবে। তাদের নিয়মিত নির্বীজকরণ করতে হবে ও তাদের প্রতিষেধক দিতে হবে। যা ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় দেশজুড়ে। এই আবহে এবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।
অন্যের জন্য বেঁচে থাকাই প্রকৃত জীবন : শিবরাজ চৌহান
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি অন্যের জন্য বেঁচে থাকায় প্রকৃত জীবন। এমনটাই অভিমত কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের। তাঁর কথায়, “সবাই নিজের জন্য বাঁচে, এমনকি পোকামাকড় এবং প্রাণীরাও। কিন্তু কেবল নিজের জন্য বাঁচতে হলে, এমন জীবনের অর্থ কী? প্রকৃত জীবন তখনই হয়, যখন আপনি অন্যদের জন্য, সমাজের জন্য, দেশের জন্য, বিশ্বের জন্য বাঁচেন। প্রয়াত ডঃ এম. এস. স্বামীনাথনের ব্যক্তিত্বও এমনই ছিল।” প্রধানমন্ত্রী মোদী বৃহস্পতিবার সকালে নতুন দিল্লিতে এম.এস. স্বামীনাথন শতবর্ষ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানও। অনুষ্ঠানে শিবরাজ বলেছেন, “১৯৪২-৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষের সময়, যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারের দ্বারপ্রান্তে ছিল, তখন তাঁর হৃদয় গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তখনই তিনি কৃষিকাজ, কৃষকদের সেবা এবং ক্ষুধা দূরীকরণের লক্ষ্যে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।” শিবরাজ সিং চৌহান আরও বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী আজ আমাদের মাঝে আছেন এবং তাঁর প্রতিটি কথা আমাদের কাছে মন্ত্রের মতো। তাঁর কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে, কেবল একটি নয়, বরং বেশ কিছু উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল কৃষি চৌপাল এবং বিকশিত কৃষি সংকল্প অভিযান। এর অংশ হিসেবে, বিজ্ঞানীদের ২,১৭০টি দল ৬৪,০০০-এরও বেশি গ্রামে পৌঁছেছেন এবং এক কোটিরও বেশি কৃষকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন।” শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়া হচ্ছে। আমরা সয়াবিন, চিনাবাদাম, তিল, সরিষা, ছানা, কালো মসুর ডাল, লাল মসুর ডাল, অড়হরের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা ন্যাশনাল মিশন অন ন্যাচারাল ফার্মিংয়ের জন্য দ্রুত কাজ করছি এবং আমরা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যাব, যাতে জমি আগামী প্রজন্মের জন্যও উর্বর থাকে।”
কৃষকদের শক্তিকে দেশের অগ্রগতির ভীত বিবেচনা করে আমাদের সরকার : প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি কৃষকদের শক্তিকে দেশের অগ্রগতির ভীত হিসেবে বিবেচনা করে আমাদের সরকার। জোর দিয়ে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “আমাদের কাছে, আমাদের কৃষকদের কল্যাণই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভারত কখনও কৃষক, পশুপালক ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থের সঙ্গে আপস করবে না।” প্রধানমন্ত্রী মোদী বৃহস্পতিবার সকালে নতুন দিল্লিতে এম.এস. স্বামীনাথন শতবর্ষ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানও। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, “কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন যাদের অবদান কোনও একটি নির্দিষ্ট সময়কাল অথবা কোনও একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। অধ্যাপক এম.এস. স্বামীনাথন ছিলেন এমনই একজন মহান বিজ্ঞানী, ভারতমাতার সন্তান। তিনি বিজ্ঞানকে জনসেবার মাধ্যম করে তুলেছিলেন। তিনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে নিজের জীবনের লক্ষ্য করে তুলেছিলেন। তিনি সেই চেতনা জাগ্রত করেছিলেন যা আগামী শতাব্দী ধরে ভারতের নীতি এবং অগ্রাধিকারগুলিকে পরিচালিত করবে।” প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, “এখন ভারত বিশ্বের এক নম্বর দুধ, ডাল এবং পাট উৎপাদনকারী দেশ। চাল, গম এবং তুলা উৎপাদনেও ভারত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাছ উৎপাদনকারী দেশ। গত বছর, ভারত সর্বোচ্চ খাদ্যশস্য উৎপাদন রেকর্ড করেছে।” প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “আমরা কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, কৃষিকাজে ব্যয় হ্রাস এবং আয়ের নতুন উৎস তৈরির লক্ষ্যে ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের সরকার কৃষকদের শক্তিকে দেশের অগ্রগতির ভীত হিসেবে বিবেচনা করেছে। সেই কারণেই বিগত বছরগুলিতে প্রণীত নীতিগুলি কেবল সাহায্যের জন্য ছিল না, বরং কৃষকদের আস্থা বৃদ্ধির প্রচেষ্টাও ছিল।”
প্রয়াত ‘দিশোম গুরু’ শিবু সোরেন, ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে পড়ল এক বিশাল শূন্যতা
সকাল সকাল ডেস্ক। রাঁচি/নয়াদিল্লি:প্রয়াত হলেন ঝাড়খণ্ড রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেন। সোমবার রাতে দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে এক আবেগঘন বার্তায় ছেলে ও ঝাড়খণ্ডের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ লেখেন, “সম্মানীয় দিশোম গুরু আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আজ আমি একেবারে শূন্য হয়ে গেলাম।” এই বার্তাই যেন প্রমাণ করে দেয়—শুধু রাজনৈতিক নেতা নয়, শিবু সোরেন ছিলেন এক পরিবারের স্তম্ভ, রাজ্যের এক প্রেরণা এবং আদিবাসী রাজনীতির এক অবিসংবাদী পথপ্রদর্শক। শেষ লড়াই: গত জুন মাসে কিডনির জটিলতা এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে ভর্তি করা হয় দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। মেডিক্যাল বোর্ডের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা চললেও শেষপর্যন্ত সোমবার রাতে থেমে যায় এই প্রবীণ রাজনীতিকের প্রাণপ্রবাহ। প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা: শিবু সোরেনের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, “শ্রী শিবু সোরেন জি ছিলেন এক প্রকৃত তৃণমূল নেতা। তিনি আজীবন দরিদ্র, নিপীড়িত এবং বিশেষ করে উপজাতি সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর পরিবার ও অনুগামীদের প্রতি রইল আমার সমবেদনা। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জি’র সঙ্গে কথা বলেছি এবং এই দুঃসময়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছি।” সংগ্রামের শিকড়ে জন্ম: ১৯৪৪ সালের ১১ জানুয়ারি বর্তমান ঝাড়খণ্ডের নেমরা গ্রামে এক সাঁওতাল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শিবু সোরেন। সেই সময় এটি বিহারের অন্তর্গত ছিল। শৈশবে জমিদারদের হাতে বাবাকে হারানোই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন গ্রামীণ আন্দোলনের মাধ্যমে। ভূমির অধিকারের দাবি, আদিবাসীদের সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়েই জন্ম নেয় ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। রাজনৈতিক পথচলা: ১৯৭২ সালে এ কে রায় এবং বিনোদ বিহারী মাহাতোর সঙ্গে মিলিত হয়ে শিবু সোরেন গড়ে তোলেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। সংগঠন থেকেই দ্রুত উঠে আসেন রাজ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী আদিবাসী নেতা হিসেবে। তিনবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পদ অলংকৃত করেছেন তিনি। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলেছেন। ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের অন্যতম কান্ডারি: ঝাড়খণ্ড রাজ্যের স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরেই লালন করেছিলেন শিবু সোরেন। সেই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেই ২০০০ সালে আলাদা রাজ্য গঠনের সময় মুখ্য ভূমিকা নেন তিনি। তাঁর এই অবদানের কারণে আদিবাসী সমাজ তাঁকে ‘দিশোম গুরু’ উপাধিতে সম্মানিত করে। শেষ যাত্রায় শোকস্তব্ধ রাজনীতি: শিবু সোরেনের প্রয়াণে শুধু ঝাড়খণ্ড নয়, গোটা দেশের রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী নেতারা এই বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেছেন। তাঁর সংগ্রামী জীবনের জন্য আজও তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন দেশের কোটি কোটি মানুষ, বিশেষ করে আদিবাসী সমাজ। ইতিহাসে অমর: জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে উত্তরণ—শিবু সোরেনের জীবন এক অবিরাম সংগ্রামের নাম। তিনি ছিলেন ভূমিপুত্রদের স্বপ্নের প্রতিনিধি, যিনি শুধু রাজ্য গঠনেই থেমে থাকেননি, বরং আদিবাসীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ও জমির অধিকারকে রাষ্ট্রের মূলস্রোতে আনতে আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে শেষ হল এক যুগের। তবে ‘দিশোম গুরু’-র আদর্শ ও আদিবাসী অধিকার রক্ষার সংগ্রাম চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ঝাড়খণ্ডের মাটি তাঁকে আজও ধন্যবাদ জানায়—নিজেকে নিঃশেষ করে যে নেতাটি তাঁর জাতিকে দিয়েছেন আত্মপরিচয়ের সম্মান।
জম্মু ও কাশ্মীরে স্করপিওতে পড়ল বোল্ডার, এসডিএম-সহ মৃত ২
জম্মু: জম্মু ও কাশ্মীরে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। জম্মুর রিয়াসি জেলায় শুক্রবার সন্ধেয় পাহাড় থেকে বিশাল আকারের বোল্ডার ধসে পড়ে স্করপিও গাড়ির উপরে। গাড়িতে ছিলেন উধমপুর জেলার রামনগরের এসডিএম ও তাঁর পরিবারের লোকজন। ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছেন এসডিএম রাজেন্দ্র সিং এবং তাঁর ৬ বছরের ছেলে। গুরুতর জখম হয়েছেন রাজেন্দ্রর স্ত্রী ও তাঁর আত্মীয়রা। আহত চালকও। তাঁদের রিয়াসি জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিহারে সরকারি চাকরিতে ৩৫ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণের ঘোষণা নীতীশের
সকাল সকাল ডেস্ক। পটনা, ৮ জুলাই : রাজ্য সরকারের সমস্ত চাকরি ও পদে মহিলাদের জন্য ৩৫ শতাংশ সংরক্ষণ ঘোষণা করল বিহারের নীতীশ কুমার সরকার। বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে নীতীশের এই ঘোষণা স্পষ্টতই মহিলা ভোটব্যাঙ্কের দিকে তাকিয়ে। তবে সরকারি পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পাবেন শুধুমাত্র বিহারের ভূমিকন্যারা। বিহারে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি এখনও। তার আগেই আটঘাট বেঁধে ময়দানে নেমে পড়লেন নীতীশ কুমার। এছাড়া বিহারের যুব সম্প্রদায়কে আরও বেশি সুযোগ দিতে ও তাঁদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিহার যুব কমিশন গঠনে সম্মতি দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। বেসরকারি ক্ষেত্রে চাকরিতে রাজ্যের যুব সম্প্রদায় যাতে অগ্রাধিকার পান তাতে নজরদারির পাশাপাশি রাজ্যের বাইরে পড়তে বা চাকরি করতে যাওয়া তরুণদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখবে এই কমিশন।