খেলা হবে দিবস উদযাপিত, মুখ্যমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা
(সকাল সকাল ডেস্ক) কলকাতা, ১৬ আগস্ট : রাজ্যজুড়ে শনিবার পালিত হল ‘খেলা হবে দিবস’। এই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা দিয়ে সমস্ত ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়াপ্রেমী এবং মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান স্পোর্টিং সহ শহর-গ্রামের সব ক্রীড়া ক্লাবকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১১ সালের পর থেকে বাংলায় ক্রীড়াক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। ফুটবল, জিমন্যাস্টিক্স, যোগব্যায়াম, আর্চারি, টেবিল টেনিস সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় স্তরে সাফল্য এসেছে। যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের বাজেটও ১২৬ কোটি থেকে বেড়ে ৮৪০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমান সরকারের সময়ে ৫৮টি স্টেডিয়াম, ৪২টি যুব হোস্টেল, ৭৯৫টি মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, ৪ হাজারের বেশি মাল্টি-জিম, ৬টি সুইমিং পুল ও ৪২৩টি খেলার মাঠ তৈরি হয়েছে। ফুটবল, মহিলা ফুটবল, তীরন্দাজি, লন টেনিস, টেবিল টেনিস, সাঁতার, রাইফেল শ্যুটিং ও ব্যাডমিন্টনের জন্য ৮টি স্পোর্টস অ্যাকাডেমি চালু হয়েছে। ‘খেলাশ্রী’ প্রকল্পে ৩৪ হাজারেরও বেশি ক্লাবকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১,৩৫২টি কোচিং ক্যাম্প, ৩৪টি ক্রীড়া সংস্থা ও বিশিষ্ট খেলোয়াড়দের আর্থিক সহায়তাও করা হচ্ছে। সন্তোষ ট্রফি জয়ী দলের ২১ জন খেলোয়াড়কে রাজ্য পুলিশ বিভাগে চাকরি দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবন কাপ, জঙ্গলমহল কাপ, হিমাল-তরাই-ডুয়ার্স কাপ ও রাঙামাটি কাপের মতো টুর্নামেন্টও আয়োজন করা হয়েছে। বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের ‘খেল সম্মান’, ‘বাংলার গৌরব’, ‘ক্রীড়াগুরু’, ‘জীবনকৃতি’ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া এভারেস্ট জয়ীদের জন্য ‘রাধানাথ শিকদার-তেনজিং নোরগে অ্যাডভেঞ্চার অ্যাওয়ার্ড’ ও তরুণী পর্বতারোহী ছন্দা গায়েনের স্মরণে ‘সাহসিকতা পুরস্কার’ চালু হয়েছে।
সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ধরার অভিযানে স্থগিতাদেশে ‘না’ সুপ্রিম কোর্টের
সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : বাংলাদেশি সন্দেহে দেশ জুড়ে বহু সন্দেহভাজনকে আটক করা হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অতিসক্রিয়তা’র অভিযোগ তুলে আটক করা বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার এই আবেদনের ভিত্তিতে কোনও অন্তবর্তিকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। কেউ কেউ অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছে, বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করছে পুলিশ। বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লিতে আটক করা হচ্ছে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের৷ এমনকি, তাঁদের পরিচয় পত্রও দেখা হচ্ছে বলে অভিযোগ৷ বিষয়টি নিয়ে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার৷ কলকাতা পুলিশের তরফেও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন৷ তবে আদালত এ দিন স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি এ ক্ষেত্রে কোনও অন্তবর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশ থেকে বৈধ নথি-সহ এ দেশে এসেছেন যাঁরা, তাঁদের সমস্যা হতে পারে। এই অভিযানের জেরে যাঁরা সত্যি সত্যি বেআইনি অনুপ্রবেশকারী, যাঁরা লুকিয়ে ভারতে ঢুকে সাধারণ ভারতীয়ের ভিড়ে মিশে যাচ্ছে, তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করা যাবে৷ তবে পাশাপাশি, সত্যিকারের ভারতীয় পরিযায়ী শ্রমিকদের চিহ্নিত করার উপর জোর দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ অন্তবর্তী নির্দেশ না-দিলেও মামলার শুনানিতে কোনও আপত্তি জানায়নি সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলিকে নিজেদের বক্তব্য জানাতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাহসিকতা ও সেবার জন্য পদক পাচ্ছেন বিভিন্ন সেবায় যুক্ত ১০৯০ জন
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি : ২০২৫-এর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাহসিকতা ও সেবার জন্য পদক পাচ্ছেন পুলিশ, হোমগার্ড, সিভিল ডিফেন্স এবং সংশোধনাগার পরিষেবার ১০৯০ জন কর্মী। এই বিষয়ে জানিয়েছে ভারত সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)। পিআইবি-র তরফে জানানো হয়েছে, “২৩৩ জন পাচ্ছেন মেডেল ফর গ্যালান্ট্রি, ৯৯ জন পাচ্ছেন প্রেসিডেন্টস মেডেল ফর ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস এবং ১৫৮ জন মেডেল ফর মেরিটোরিয়াস সার্ভিস। মেডেল ফর গ্যালান্ট্রি প্রাপ্ত ২৩৩ জনের মধ্যে ২২৬ জন পুলিশ কর্মী, ৬ জন দমকল কর্মী এবং একজন হোমগার্ড এবং সিভিল ডিফেন্সের। রাষ্ট্রপতি সেবা পদক প্রাপক ৯৯ জনের মধ্যে ৮৯ জন পুলিশ, ৫ জন দমকল কর্মী, ৩ জন সিভিল ডিফেন্স ও হোমগার্ড এবং ২ জন সংশোধনাগার পরিষেবা কর্মী। উল্লেখযোগ্য সেবা কাজের জন্য ৭৫৮ জন পদক প্রাপকদের মধ্যে ৬৩৫ জন পুলিশ, ৫১ জন দমকল, ৪১ জন সিভিল ডিফেন্স ও হোমগার্ড এবং ৩১ জন সংশোধনাগার পরিষেবা কর্মী।”
ঝাড়খণ্ডে রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস, হলুদ সতর্কতা জারি বৃহস্পতিবার
সকাল সকাল ডেস্ক। রাঁচি : ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলায় আগামী রবিবার (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই রাজ্যের আবহাওয়া দফতরের সূত্রে জানা গেছে, ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়াও বইতে পারে। বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ড রাজ্যে হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। বিগত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে গড়ওয়া জেলার বিষ্ণপুরে। সেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫৮.৩ মিমি। ভাণ্ডারিয়ায় ৪৩ মিমি, বড়গড়ে ৪২ মিমি, মনোহরপুরে ৩৪ মিমি, গুমলা জেলার চেনপুরে ৩৩ মিমি এবং মৈথন ডিভিসিতে ২৬ মিমি বৃষ্টি হয়েছে।
বীরভূমে অবৈধ বালি খাদানের বিরুদ্ধে অভিযান জেলাশাসকের
সকাল সকাল ডেস্ক। নানুর : মঙ্গলবার গভীর রাতে বীরভূমের নানুরের পালিতপুর প্রতাপপুর চক এলাকায় অবৈধ বালি খাদানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে জেলাশাসক বিধান রায়। অভিযোগ, অজয় সেতু (লোচনদাস সেতু) সংলগ্ন নতুনহাট এলাকায় অজয় নদীর বাঁধ কেটে সাকশন পাইপ ব্যবহার করে বালি উত্তোলন করা হচ্ছিল। অভিযানে ১৫টিরও বেশি ডাম্পার, চারটি মাইনিং মেশিন এবং নৌকায় লাগানো দুটি সাকশন মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অজয় নদীতে এই ধরণের অবৈধ বালি উত্তোলন সত্ত্বেও, নানুর থানা বা ব্লক প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এদিকে, মঙ্গলবার গভীর রাতে জেলাশাসক নিজেই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে অবহেলার জন্য বেশ কয়েকজন প্রশাসনিক আধিকারিককে তিরস্কার করেছেন জেলাশাসক।
পথকুকুর নিয়ে নির্দেশ খতিয়ে দেখব: বি আর গাভাই
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি : পথকুকুর নিয়ে শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশ তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানালেন দেশের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই। জাতীয় রাজধানী অঞ্চল থেকে কয়েক লক্ষ পথকুকুরকে অবিলম্বে সরানোর ওই নির্দেশটি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন পশুপ্রেমী সংগঠনের সদস্যেরা থেকে অনেক রাজনীতিক। বুধবার পথকুকুর সম্পর্কিত একটি মামলা জরুরি শুনানির তালিকায় সংযোজনের জন্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে তোলা হয়। সেখানে প্রধান বিচারপতি গাভাই প্রথমে বলেন, অন্য বেঞ্চ তো এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই নির্দেশ জারি করেছে। মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত না হলেও প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব। উল্লেখ্য, এর আগে এই নিয়ে বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, সমস্ত পথকুকুরকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট আশ্রয় কেন্দ্রে রাখতে হবে। তাদের নিয়মিত নির্বীজকরণ করতে হবে ও তাদের প্রতিষেধক দিতে হবে। যা ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় দেশজুড়ে। এই আবহে এবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলো।
ওবিসি কাঁটা, জয়েন্টের ফলপ্রকাশ করতে পারবে না রাজ্য, জানাল হাই কোর্ট
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা জয়েন্টের ফলপ্রকাশ করতে পারবে না রাজ্য, নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের। লিখিত পরীক্ষার ফলপ্রকাশে আপত্তি জানিয়েছে আদালত। ওবিসি এ ও বি অনুযায়ী মেধাতালিকা তৈরি করেছে রাজ্য, যা প্রকাশ করা যাবে না বলেই জানান বিচারপতি কৌশিক চন্দ। গত ২২ মে ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী ওবিসি তালিকা (৬৬ শতাংশ সংরক্ষণ) মেনে মেধাতালিকা তৈরি করে প্রকাশের নির্দেশ বিচারপতি কৌশিক চন্দের। বিচারপতি বৃহস্পতিবার প্রশ্ন করেন, “শীর্ষ আদালত একটি নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানতে চায় রাজ্য কী করছে? শীর্ষ আদালতের রায়ের প্রভাব কী পড়বে?” রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা আজই জয়েন্টের ফলপ্রকাশ করব। ২০২৫-এর ভর্তি পরে হোক অসুবিধা নেই। শীর্ষ আদালতের সে নির্দেশ আছে এক্ষেত্রে।” বিচারপতির প্রশ্ন, “সেক্ষেত্রে ওবিসি এ ও বি কী যুক্ত হবে?” উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী জানান, “হ্যাঁ, হবে। যাদের সার্টিফিকেট বাতিল হয়েছিল তারা পোর্টালে আবেদন করবেন ফিনান্সিয়াল স্ট্যাটাস জমা দিতে হবে।” বিচারপতি বলেন, “পেন্ডিং অ্যাডমিশনে কীভাবে এই নোটিফিকেশন কাজে লাগাতে পারেন? দুই ক্যটেগরি যুক্ত করলে ফলপ্রকাশ করতে দেব না। কারণ, শীর্ষ আদালত হাই কোর্টের রায় খারিজ করে দেননি। পুরনো ভর্তির ক্ষেত্রে ৭% সংরক্ষণ মানতে হবে। আমার নির্দেশ শীর্ষ আদালতে খারিজ হয়নি সেটা রাজ্য পালন করেনি। সচিবরা তা শুনতে অভ্যস্ত। আদালতের কথা শোনে না।” রাজ্যের উদ্দেশে বিচারপতি আরও বলেন, “আপনারা ১ হাজার ১৫১টি সার্টিফিকেট ইস্যু হয়েছে। ১ আগস্ট থেকে এখনও পর্যন্ত ৯৯৯ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। সব হয়ে গেল? খতিয়ে দেখলেন একজন আবেদন করল আর সাত দিনেই হাতে দিয়ে দিলেন? খুব অ্যাকটিভ তো?” সওয়াল জবাব শোনার পর জয়েন্টের ফলপ্রকাশ করা যাবে না বলেই জানান বিচারপতি।
প্রয়াত ‘দিশোম গুরু’ শিবু সোরেন, ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে পড়ল এক বিশাল শূন্যতা
সকাল সকাল ডেস্ক। রাঁচি/নয়াদিল্লি:প্রয়াত হলেন ঝাড়খণ্ড রাজনীতির জীবন্ত কিংবদন্তি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেন। সোমবার রাতে দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদ জানিয়ে এক আবেগঘন বার্তায় ছেলে ও ঝাড়খণ্ডের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ লেখেন, “সম্মানীয় দিশোম গুরু আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আজ আমি একেবারে শূন্য হয়ে গেলাম।” এই বার্তাই যেন প্রমাণ করে দেয়—শুধু রাজনৈতিক নেতা নয়, শিবু সোরেন ছিলেন এক পরিবারের স্তম্ভ, রাজ্যের এক প্রেরণা এবং আদিবাসী রাজনীতির এক অবিসংবাদী পথপ্রদর্শক। শেষ লড়াই: গত জুন মাসে কিডনির জটিলতা এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে ভর্তি করা হয় দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। মেডিক্যাল বোর্ডের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা চললেও শেষপর্যন্ত সোমবার রাতে থেমে যায় এই প্রবীণ রাজনীতিকের প্রাণপ্রবাহ। প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা: শিবু সোরেনের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, “শ্রী শিবু সোরেন জি ছিলেন এক প্রকৃত তৃণমূল নেতা। তিনি আজীবন দরিদ্র, নিপীড়িত এবং বিশেষ করে উপজাতি সম্প্রদায়ের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর পরিবার ও অনুগামীদের প্রতি রইল আমার সমবেদনা। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জি’র সঙ্গে কথা বলেছি এবং এই দুঃসময়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছি।” সংগ্রামের শিকড়ে জন্ম: ১৯৪৪ সালের ১১ জানুয়ারি বর্তমান ঝাড়খণ্ডের নেমরা গ্রামে এক সাঁওতাল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শিবু সোরেন। সেই সময় এটি বিহারের অন্তর্গত ছিল। শৈশবে জমিদারদের হাতে বাবাকে হারানোই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন গ্রামীণ আন্দোলনের মাধ্যমে। ভূমির অধিকারের দাবি, আদিবাসীদের সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়েই জন্ম নেয় ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। রাজনৈতিক পথচলা: ১৯৭২ সালে এ কে রায় এবং বিনোদ বিহারী মাহাতোর সঙ্গে মিলিত হয়ে শিবু সোরেন গড়ে তোলেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। সংগঠন থেকেই দ্রুত উঠে আসেন রাজ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী আদিবাসী নেতা হিসেবে। তিনবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পদ অলংকৃত করেছেন তিনি। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলেছেন। ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের অন্যতম কান্ডারি: ঝাড়খণ্ড রাজ্যের স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরেই লালন করেছিলেন শিবু সোরেন। সেই আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেই ২০০০ সালে আলাদা রাজ্য গঠনের সময় মুখ্য ভূমিকা নেন তিনি। তাঁর এই অবদানের কারণে আদিবাসী সমাজ তাঁকে ‘দিশোম গুরু’ উপাধিতে সম্মানিত করে। শেষ যাত্রায় শোকস্তব্ধ রাজনীতি: শিবু সোরেনের প্রয়াণে শুধু ঝাড়খণ্ড নয়, গোটা দেশের রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী নেতারা এই বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করেছেন। তাঁর সংগ্রামী জীবনের জন্য আজও তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন দেশের কোটি কোটি মানুষ, বিশেষ করে আদিবাসী সমাজ। ইতিহাসে অমর: জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে উত্তরণ—শিবু সোরেনের জীবন এক অবিরাম সংগ্রামের নাম। তিনি ছিলেন ভূমিপুত্রদের স্বপ্নের প্রতিনিধি, যিনি শুধু রাজ্য গঠনেই থেমে থাকেননি, বরং আদিবাসীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ও জমির অধিকারকে রাষ্ট্রের মূলস্রোতে আনতে আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর প্রয়াণে শেষ হল এক যুগের। তবে ‘দিশোম গুরু’-র আদর্শ ও আদিবাসী অধিকার রক্ষার সংগ্রাম চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ঝাড়খণ্ডের মাটি তাঁকে আজও ধন্যবাদ জানায়—নিজেকে নিঃশেষ করে যে নেতাটি তাঁর জাতিকে দিয়েছেন আত্মপরিচয়ের সম্মান।
রাষ্ট্রপতির ঝাড়খণ্ড সফর নিয়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে, মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে পর্যালোচনা বৈঠক
রাঁচি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ৩১ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত দুইদিনের ঝাড়খণ্ড সফরে দেবঘর, রাঁচি এবং ধানবাদে পৌঁছাবেন। এই সময় তিনি দেবঘর AIIMS-এর প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এবং ধানবাদে IIT (ISM)-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার মুখ্যসচিব আলকা তিওয়ারির সভাপতিত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মুখ্যসচিব সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন যে, সফরের প্রতিটি দিকের প্রস্তুতি সময়মতো এবং নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
অসমে অসমিয়াকে রাজ্যভাষা চেয়েছিলেন শ্যামাপ্ৰসাদ মুখোপাধ্যায়, বরপেটা রোডে পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচন করে বলেন মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব
অসমে অসমিয়া ভাষাকে রাজ্যভাষার স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে মনে করেছিলেন ড. শ্যামাপ্ৰসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ বরপেটা রোডে জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা, এক বিধান এক নিশান এক প্রধান-এর প্রবর্তক, নবভারতের স্বপ্নদ্রষ্টা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পূর্ণাবয়ব মূর্তির আবরণ উন্মোচন করে প্রদত্ত বক্তব্যে বলেছেন মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।