আরিয়ান খানের ‘দ্য ব্যান্ডস অফ বলিউড’: ববি দেওলের প্রশংসা-অভিযোগ
সকাল সকাল ডেস্ক। মুম্বাই শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের পরিচালনায় দ্য ব্যান্ডস অফ বলিউড সিরিজে ববি দেওল অভিনয় করেছেন। ট্রেলার লঞ্চে ববি বলেন, আরিয়ান অনেক চাপ দিয়েছেন, একাধিক টেক নিতে বাধ্য করেছেন। সিরিজটি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে নেটফ্লিক্সে স্ট্রিম হবে। কাস্ট: ববি দেওল, সাহার, লক্ষ্য, মনোজ পাহওয়া, মোনা সিং, মনীশ চৌধুরী, রঘব জুয়াল, অন্যা সিং, বিজয়ন্ত কোহলি, রজত বেদী, গৌতমী কাপুর।
ষষ্ঠ দিনে বক্স অফিসে কুলি বনাম ওয়ার ২: কে এগিয়ে?
সকাল সকাল ডেস্ক। মুম্বাই বর্তমানে দেশের সিনেমা হলে প্রতিযোগিতায় আছে রজনীকান্তের কুলি এবং হৃতিক-জুনিয়র এনটিআরের ওয়ার ২। কুলির কালেকশন: ৬ষ্ঠ দিনে প্রায় ৯.৫০ কোটি টাকা, মোট ২১৬ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাপী আয় ইতিমধ্যেই ৪০০ কোটি টাকার বেশি। ওয়ার ২-এর কালেকশন: ষষ্ঠ দিনে প্রায় ৮.২৫ কোটি টাকা, মোট ভারতের আয় ১৯২.৭৫ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাপী মোট আয় ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সংক্ষেপে: কুলি দেশীয় বাজারে সামান্য এগিয়ে।
নাগপুরে সংঘের বিজয়াদশমী উৎসবের প্রধান অতিথি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ
সকাল সকাল ডেস্ক। নাগপুর : রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বার্ষিক বিজয়াদশমী উৎসবের জন্য এ বছরও একজন বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এবার ২ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের নাগপুরের রেশিমবাগ ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য সংঘের বিজয়াদশমী উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। শুক্রবার সংঘের প্রচার বিভাগ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সংঘের প্রচার বিভাগ জানিয়েছে যে, সত্যের জয় এবং শক্তির উপাসনার প্রতীক হিসেবে বিজয়াদশমী (দশেরা) উৎসব আরএসএসের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। শুধু তাই নয়, ১৯২৫ সালে এই শুভ তিথি উপলক্ষে ডঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই দিনটি কেবল সংঘের জন্য একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এর প্রতিষ্ঠা দিবসও, যা প্রতি বছর অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে উদযাপন করা হয়। প্রচার বিভাগ জানিয়েছে যে এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে আরএসএস-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত দেশ ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত সমসাময়িক বিষয়গুলিতে তাঁর বক্তব্য রাখবেন। সঙ্ঘের এই উৎসব অনুষ্ঠানে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার স্বয়ংসেবক ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সংঘের শাখা পদ্ধতি প্রদর্শন করবেন। এর পাশাপাশি, সঙ্ঘের বিচারাধারার অনুসারী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপস্থাপন করা হবে। এই প্রসঙ্গে সঙ্ঘের প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির মতো একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা বিশ্বাস করি যে এই অনুষ্ঠান জাতীয় চেতনাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিগত কয়েক বছরে রামনাথ কোবিন্দ হবেন দ্বিতীয় প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি যিনি সঙ্ঘের মঞ্চে উপস্থিত হবেন। এর আগে, ২০১৮ সালে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিও সঙ্ঘের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় ৪২৯৬.৬২ কোটি টাকার অনুপূরক বাজেট পেশ
রাঁচি। ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা মনসুন অধিবেশনের প্রথম দিনে শুক্রবার অর্থমন্ত্রী রাধা কৃষ্ণ কিশোর চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬-এর জন্য ৪২৯৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রথম অনুপূরক বাজেট সভায় পেশ করেছেন। এই বাজেট রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা, প্রকল্প এবং অগ্রাধিকার অনুসারে তৈরি করা হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারায় ভূমিকম্প, কম্পাঙ্ক ৩.৫
২১ আগস্ট (sokal sokal desk) শ্রীনগর, : জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলা বৃহস্পতিবার হালকা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল। দুপুর ১.৪১ মিনিটে ৩.৫ মাত্রার এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, এটি কার্গিল থেকে ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিম ও কাশ্মীরের কাটরা থেকে ১৯৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ছিল। তীব্রতা কম হওয়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
শিবু সোরেনের অস্থি রাজারাপ্পার দামোদর নদীতে বিসর্জিত
সকাল সকাল ডেস্ক। রাঁচি, ১৭ আগস্ট:রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও দিশোম গুরু শিবু সোরেনের অস্থি আজ রাজারাপ্পা দামোদর নদীর ঘাটে বিসর্জন দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন নিজ হাতে পূর্ণ ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান মেনে বাবার অস্থি নদীতে বিসর্জন করেন। পৈতৃক গ্রাম নেমরা থেকে অস্থি-কলস নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজারাপ্পায় পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই বিধায়ক বসন্ত সোরেন, পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং নেমরা গ্রামের বাসিন্দারা। স্থানীয় পুরোহিত সমস্ত ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করান। অস্থি বিসর্জনের সময় বাবাকে হারানোর বেদনা মুখ্যমন্ত্রীর চোখে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
কর্তব্য ভবনঃ সংকল্প থেকে সিদ্ধির পথে
সকাল সকাল ডেস্ক। – শ্যাম জাজু ভারতের জনমানসে “কর্তব্য”র ধারণা প্রাচীনকাল থেকেই কর্তব্যের আদর্শে গভীরভাবে নিহিত। ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের রাষ্ট্রের প্রতি নিষ্ঠা, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কূটনৈতিক প্রজ্ঞা, আচার্য চাণক্যের অনন্য রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা, সম্রাট অশোকের ধর্মপ্রচার, গুপ্ত বংশের জ্ঞান ও ঐশ্বর্যের স্বর্ণযুগ, চোল সাম্রাজ্যের সামুদ্রিক শক্তির কাহিনি এবং ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের লোকহিতকর শাসন—এসবই ভারতীয় পরম্পরার অমর মহিমা। আজ সেই মূল্যবোধ আধুনিক রূপে প্রতিফলিত হচ্ছে ‘‘কর্তব্য ভবন’’ নামের মাধ্যমে। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দিল্লিতে ভাড়া করা বিভিন্ন ভবনে চলছিল, যা কেবল এক অস্থায়ী ব্যবস্থা ছিল। কত বছর আর আমরা ভাড়াবাড়ি চালাব? একদিন আমরা স্থির করি—“আমাদের নিজের বাড়ি চাই।” কেন্দ্র সরকারের ক্ষেত্রে সেই পদক্ষেপই হলো ‘‘কর্তব্য ভবন’’। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, সরকার প্রতিবছর লুটিয়েন্স জোন ও দিল্লির আশপাশের এলাকায় ভাড়ার ভবনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে। কেবল ভাড়াতেই ১১০০ থেকে ১৫০০ কোটি টাকা, তার সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে আরও ৪০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট হাজার হাজার কোটি টাকা শুধু ভবন ব্যবহারের পেছনেই খরচ হতো। এখন সব অফিস ‘‘কর্তব্য ভবন’’-এ স্থানান্তরিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ০৬ আগস্ট ‘‘কর্তব্য ভবন’’-এর উদ্বোধন করেছেন। এর আগে রাজপথকে ঔপনিবেশিক দাসত্বের প্রতীক মনে করে তার নাম পরিবর্তন করে ‘‘কর্তব্য পথ’’ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, তিনিই এই ‘‘কর্তব্য ভবন’’-এর ভাবনা দিয়েছিলেন এবং তা বাস্তবায়নও করেছেন। ‘‘কর্তব্য ভবন’’র ধারণা শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নির্মাণের প্রকল্প নয়, বরং এটি ভারতের আত্মসম্মান ও আত্মনির্ভরতার প্রতীক। যেমন প্রতিটি পরিবার নিজের বাড়িকে স্বপ্ন ও নিরাপত্তার প্রতীক মনে করে, তেমনই রাষ্ট্রেরও নিজস্ব গৃহ থাকা প্রয়োজন। এটাই হবে সেই গৃহ, যেখানে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত শুধু কাগজে নয়, জনগণের বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে গড়ে উঠবে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও পদক্ষেপটি সুদূরদর্শী, কারণ অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই এর খরচ উঠে আসবে। তবে এর আসল মূল্য সেই মানসিক শক্তিতে, যা এটি আগামী প্রজন্মকে দেবে। এই ভবন আমাদের গণতন্ত্রের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব রূপ হবে, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দ্রুত, স্বচ্ছ ও দৃঢ়ভাবে। বাস্তবিক অর্থে এটি শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং প্রতিটি ভারতীয়র আত্মমর্যাদা ও সংকল্পের গৃহ হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত, শক্তিশালী যোগাযোগ ও কার্যকর কর্মপদ্ধতি‘‘কর্তব্য ভবন’’ হবে সেই স্থান, যেখানে প্রশাসন একত্রে বসবে, চিন্তা করবে ও কাজ করবে—ফলে যোগাযোগ সহজ হবে এবং দায়বদ্ধতা স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এখন পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দপ্তর দিল্লির নানান প্রান্তে ছড়িয়ে ছিল—নর্থ ব্লক, সাউথ ব্লক, শাস্ত্রী ভবন, নির্মাণ ভবন, শিল্প ভবন, কৃষি ভবন, রেল ভবন ইত্যাদি। এগুলো শুধু আলাদা ঠিকানাই ছিল না, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণও ছিল। এক মন্ত্রণালয় অন্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ছাড়া নীতি প্রণয়ন করতে পারে না। নীতি-প্রক্রিয়ায় সমন্বয় ও চিন্তার আদান-প্রদান অপরিহার্য। এখন সব একত্রিত হওয়ার ফলে এটি কয়েক মিনিটেই সম্ভব হবে। মিটিংয়ের জন্য আসা-যাওয়ার সময় বাঁচবে। শুধু সময়ই নয়, শক্তি, অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদও সাশ্রয় হবে। যেখানে মন্ত্রণালয়গুলি পাশাপাশি অবস্থান করে, সেখানে ‘সমস্যা’র চেয়ে ‘সমাধান’ দ্রুত পাওয়া যায়। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এটি হবে এক ডিজিটাল–ফার্স্ট অবকাঠামো। সব মন্ত্রণালয়ের নেটওয়ার্কিং, ক্লাউড-ভিত্তিক ফাইল, সুরক্ষিত যোগাযোগ মাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অ্যানালিটিক্স নীতি-প্রণয়নকে দ্রুত করবে। ‘‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’’-র স্লোগান বাস্তবায়িত হবে। নাগরিকরাও এর সুফল পাবেন। যখন সব এক স্থানে হবে, প্রশাসনিক কাঠামো আরও কার্যকরভাবে চলবে। এর প্রত্যক্ষ উপকার হলো—এক আধুনিক সরকারি ভবন, পরিবেশ-সচেতনতা ও ভারতীয় বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়া। ভবন, পার্কিং, আধুনিকতা ও পরিবেশবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি‘‘কর্তব্য ভবন’’ শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি ২১শ শতাব্দীতে ভারতের কর্মসংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। নতুন এই কমপ্লেক্সে প্রায় ১৫০০ চারচাকা ও হাজারো দুইচাকার জন্য বহুস্তরবিশিষ্ট বিশাল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ‘‘কর্তব্য ভবন’’ হবে আধুনিকতার এক আদর্শ। এই ভবন গ্রীন বিল্ডিং মান অনুসারে তৈরি। এখানে সৌরশক্তি ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার, জ্বালানি-সাশ্রয়ী যন্ত্র, জল সংরক্ষণের জন্য বৃষ্টির জল সংগ্রহ ও গ্রে ওয়াটার পুনঃচক্রায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে বিদ্যুতের খরচে বিপুল সাশ্রয় হবে। অনুমান অনুযায়ী, ‘‘কর্তব্য ভবন’’ পুরোপুরি চালু হলে প্রতিবছর প্রায় ২৫–৩০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। কর্তব্য ভবনের উপযোগিতাএলাকাটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, সংসদ ভবন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় দপ্তরের একেবারে কাছাকাছি। এর ফলে প্রশাসনিক কাজের গতি বহুগুণ বেড়ে যাবে। মনে রাখতে হবে, এতদিন মন্ত্রণালয়গুলি দিল্লির নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিল। এর কারণে সিদ্ধান্তে দেরি হতো, ফাইল চলাচলে সময় নষ্ট হতো এবং সমন্বয়ের সমস্যা দেখা দিত। ‘‘কর্তব্য ভবন’’ এই সমস্যার সমাধান করবে। কারণ এই কমপ্লেক্স হবে এক প্রশাসনিক মেরুদণ্ড। এখানে ৩০টিরও বেশি মন্ত্রণালয় ও তাদের ৫২টি শাখা একসঙ্গে কাজ করবে। এতে প্রশাসনে এক নতুন শক্তি প্রবাহিত হবে। নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত সমন্বয় প্রয়োজন। এখন গুরুত্বপূর্ণ কোনও প্রস্তাব আলোচন, পরামর্শ ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় দেরি না হয়ে দ্রুত সম্পন্ন হবে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থানও এক বড় সুবিধা হবে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারবেন, নিয়মিত বৈঠক করবেন এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ সম্ভব হবে। মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সংসদ ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বারবার যাতায়াত করতে হতো, এখন আর তা লাগবে না। সংসদ ভবনের নিকটে অবস্থিত ‘‘কর্তব্য ভবন’’ প্রশাসন ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সমন্বয় আরও সহজ করবে। সবকিছু এক জায়গায় হওয়া শুধু সুবিধা নয়, বরং এক সুদূরদর্শী ও কৌশলগত প্রয়োজন। ‘‘কর্তব্য ভবন’’ হয়ে উঠছে ভারতের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার কেন্দ্র। ভবিষ্যতের ভারতঃ যুব প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা ভারতআজকের ভারত মহাকাশে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করছে, ডিজিটাল বিপ্লবে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং উদ্যোগের পথ প্রসারিত করছে। এমন ভারতের রাজধানীতে দাঁড়িয়ে থাকা ‘‘কর্তব্য ভবন’’ হবে সেই নতুন ভারতের দৃশ্যমান প্রতীক, যে ভারতের স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেখিয়েছেন। এই ভবনের ভিত্তি টিকে আছে সুদূরদর্শিতা, সুচিন্তিত পরিকল্পনা ও নৈতিকতার উপর। এ–ই সেই আদর্শ, যা আচার্য চাণক্য ‘‘অর্থশাস্ত্র’’-এ ‘‘সপ্তাঙ্গ রাষ্ট্র’’ তত্ত্বের মাধ্যমে প্রতিপাদন করেছিলেন। সাত অঙ্গ—রাজা, মন্ত্রী, জনপদ, দুর্গ, কোষ, শিক্ষা ও মিত্র—যে কোনও রাষ্ট্রের স্থিতি ও শক্তির ভিত্তি হিসাবে গণ্য হয়েছে। ‘‘কর্তব্য ভবন’’ এই সব উপাদানের আধুনিক, সমন্বিত ও শক্তিশালী রূপ। মোদিজির এই স্বপ্ন হলো, শাসন যেন কেবল দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার এক জীবন্ত সংস্কৃতি তৈরি করে। ‘‘কর্তব্য ভবন’’ সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
মজবুত ভারত, বুলন্দ ইরাদে
সকাল সকাল ডেস্ক। -ঋতুপর্ণ দেবে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে টানা ১২তম বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বাধীনতা দিবসের এবারের ভাষণ কিছুটা আলাদা এবং নানা ইঙ্গিতপূর্ণ ছিল। তাঁর ১০৩ মিনিটের বক্তব্য কেবলমাত্র এতদিনের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘই নয়, বরং কঠিন ও স্পষ্ট সংকল্প প্রদর্শনকারীও বটে। এটি কূটনীতির দিক থেকেও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। যেখানে শুরুতেই অনুচ্ছেদ ৩৭০ অপসারণ করে এক দেশ, এক সংবিধানের কথা বলেন। সেখানে অপারেশন সিন্দূরের প্রসঙ্গ তুলে সেনাকে উন্মুক্ত অনুমতি দেওয়ার সত্যও সামনে রাখেন। আসলে, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বহু দিক থেকেই ভিন্ন, কঠিন এবং বিশ্বের জন্য কূটনৈতিক বার্তার মতো ছিল। পাশাপাশি দেশের ভেতরেও ঘটতে থাকা অগ্রহণযোগ্য ঘটনাগুলির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তাও ছিল। এর বাইরে দেশের অগ্রগতি, যুবকদের প্রেরণা, সাফল্য এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ মিশনে ভারতের অবদানকেও কেন্দ্র করে ছিল। প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত এমন কোনও বিষয়ই বাদ রাখেননি, যা জরুরি ছিল না। ইশারায় যেখানে আমেরিকা ও চীনকে তার আসল অবস্থান মনে করিয়ে দেন, সেখানেই পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে তীব্র আক্রমণ করেন। প্রথমে জানা যাক তিনি কী কী বলেছেন। পাহালগাঁও হামলার প্রসঙ্গে পাকিস্তানকে একহাতে নিয়ে তাঁদের সন্ত্রাসী হেডকোয়ার্টার ধ্বংস করার কথা বলে পাকিস্তানের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলেন। দীর্ঘদিনের পারমাণবিক ব্ল্যাকমেলের সামনে নতি স্বীকার করবেন না এবং সেনার শর্তে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার কথাও বলেন। পুরনো সিন্ধু জল চুক্তিকে অন্যায্য বলে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, ভারতের নদী কি শত্রুর খেত সিঞ্চন করবে আর দেশের কৃষকের জমি তৃষ্ণার্ত থাকবে? সিন্ধু চুক্তির ওই রূপ আর মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানান। ২১শ শতক প্রযুক্তিনির্ভর শতক। ৫০–৬০ বছর আগে সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে চিন্তা হলেও ফাইল সেখানেই আটকে যায়। সেমিকন্ডাক্টরের চিন্তার ভ্রূণহত্যা হয়ে গিয়েছিল। পরে অনেক দেশ সেমিকন্ডাক্টরে দক্ষতা অর্জন করে বিশ্বকে তাদের শক্তি দেখিয়েছে। মিশন মোডে এ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও ৬টি ভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার মধ্যে চারটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান। চলতি বছরের শেষে মেড ইন ইন্ডিয়া অর্থাৎ ভারতেই তৈরি চিপ বাজারে আসা এক বিশাল সাফল্য হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও অনেক পরিকল্পনা ও সাফল্যের কথাও তোলেন। ১১ বছরে সোলার এনার্জির ব্যবহার ৩০ গুণ বৃদ্ধি, নতুন নতুন ড্যাম তৈরি করে জল শক্তির প্রসার ঘটানো, ক্লিন এনার্জির দিকে অগ্রসর হওয়া, ১০টি নতুন নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর দ্রুত কাজ করছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গঠনের লক্ষ্য যাতে স্বাধীনতার ১০০ বছরে ভারতের পারমাণবিক শক্তি ক্ষমতা ১০ গুণেরও বেশি হয়। তিনি বলেন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং মোকাবিলায় নির্ধারিত সময় ২০৩০–এর আগে ৫ বছরেই ৫০ শতাংশ ক্লিন এনার্জির লক্ষ্য অর্জন করা আমাদের প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশীলতার প্রমাণ। ন্যাশনাল ক্রিটিক্যাল মিশন চালু করে ১২০০–রও বেশি স্থানে অনুসন্ধান অভিযানের মাধ্যমে আমরা ক্রিটিক্যাল মিনারেলেও আত্মনির্ভরতার দিকে এগোচ্ছি, যা বিরাট অর্জন। যুব সমাজকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের নিজস্ব মেড ইন ইন্ডিয়া ফাইটার জেটের জন্য জেট ইঞ্জিনও কি আমাদের হওয়া উচিত নয়? আমরা ‘ফার্মা অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’। এখন সময় এসেছে গবেষণা ও উন্নয়নে আরও শক্তি লাগানোর। আমাদের নিজস্ব পেটেন্ট হওয়া উচিত। মানবকল্যাণে সস্তা, সবচেয়ে কার্যকর ও নতুন ওষুধে গবেষণা হওয়া চাই। সঙ্কটকালে যাতে কোনও সাইড ইফেক্ট ছাড়াই জনকল্যাণে কাজে লাগে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আহ্বান করেন যে এটি আইটির যুগ, ডেটাই শক্তি। সময়ের দাবি নয় কি যে অপারেটিং সিস্টেম থেকে শুরু করে সাইবার নিরাপত্তা, ডিপ টেক থেকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পর্যন্ত সবকিছু আমাদের নিজস্ব হোক? নিজেদের সামর্থ্য ও শক্তিকে বিশ্বের সামনে পরিচিত করিয়ে বলেন, আমাদের ইউপিআই বিশ্বকে বিস্মিত করছে। রিয়েল টাইম ট্রানজ্যাকশনের ৫০ শতাংশ একা ভারতই ইউপিআইয়ের মাধ্যমে করছে। ক্রিয়েটিভ ওয়ার্ল্ড, সোশ্যাল মিডিয়া—এতসব প্ল্যাটফর্ম কেন আমাদের নিজস্ব হবে না? কেন ভারতের অর্থ বাইরে যাবে? আমি যুবকদের সামর্থ্যের উপর আস্থা রাখি। প্রধানমন্ত্রী ইভি ব্যাটারি, সোলার প্যানেল, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী, মানসম্মত পণ্যের পরিচিতির পাশাপাশি নেক্সট জেনারেশন রিফর্মসের জন্য টাস্ক ফোর্স গঠন ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করার কথা বলেন, যাতে বর্তমান আইন, নীতি, প্রথা ২১শ শতক ও বৈশ্বিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায় এবং ২০৪৭ সালে ভারতকে উন্নত দেশ করে তুলতে পারে। নেক্সট জেনারেশন জিএসটি সংস্কারকে দীপাবলির উপহার বলে উল্লেখ করে জানান, মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসে আরোপিত ভারী কর অনেকটা কমে যাবে, এমএসএমই, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা লাভবান হবে এবং দৈনন্দিন পণ্য সস্তা হয়ে অর্থনীতিকে নতুন বল দেবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, ভেবেচিন্তে সাজানো চক্রান্তের মাধ্যমে দেশের ডেমোগ্রাফি বদলকে নতুন সঙ্কট বলে উল্লেখ করেন। অনুপ্রবেশকারীরা দেশের যুবকদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, বোন–বেটিদের টার্গেট করছে। এটা সহ্য করা হবে না। আমাদের পূর্বপুরুষরা ত্যাগ ও আত্মবলিদানের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। একটি হাই পাওয়ার ডেমোগ্রাফি মিশন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা এমন ভয়ঙ্কর সঙ্কট মোকাবিলায় নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করবে। আমরা সে পথে এগোচ্ছি। এবারের ভাষণ থেকে এতটুকু স্পষ্ট হয়ে গেল যে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলার সংকল্প দেশবাসীর সামনে রেখেছেন। ব্ল্যাকমেল সহ্য নয়, অপারেশন সিন্দূরের উল্লেখ, স্বদেশীকে ‘মজবুরি নয়, মজবুতি’ হিসেবে তুলে ধরা—এর সঙ্গে পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে এবং আমেরিকাকে ইশারায় সতর্কও করেছেন। প্রথমবার লালকেল্লা থেকে জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ১০০ বছরের জাতিসেবা উল্লেখ করা এবং মা ভারতীর কল্যাণের লক্ষ্যে সেবা, সমর্পণ, সংগঠন ও অতুলনীয় শৃঙ্খলার প্রসঙ্গ তুলে আরএসএসকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এনজিও বলে আখ্যা দেওয়া এবং জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ আনার রাজনৈতিক তাৎপর্যও বেরোবে। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদী ১২তম বার সবচেয়ে দীর্ঘ, ১০৩ মিনিট বক্তব্য রেখে বিশ্বকে নিজের সংকল্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এখন সময় পক্ষ–বিপক্ষের, যারা তাঁর ভাষণের নিজ নিজ মতানুযায়ী নানা ব্যাখ্যা ও অর্থ বার করবে।
মেসির গোল, জয়ে ফিরল ইন্টার মায়ামি
সকাল সকাল ডেস্ক। আঘাত সারিয়ে ফের মাঠে নামলেন লিওনেল মেসি, আর তাতেই ফিরল ইন্টার মায়ামির জয়। রবিবার লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সির বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জিতল মায়ামি। প্রথমার্ধে জর্দি আলবার গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে লস অ্যাঞ্জেলস সমতা ফেরালেও শেষ মুহূর্তে মেসির জাদুতে ম্যাচ ঘুরে যায়। ৮৪ মিনিটে দুর্দান্ত বাঁ-পায়ের শটে গোল করেন তিনি। ৮৯ মিনিটে ব্যাকহিলে সুয়ারেজকে পাস দিয়ে অ্যাসিস্টও করেন মেসি। এই জয়ে ২৪ ম্যাচ শেষে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এল মায়ামি। মেসির অনুপস্থিতিতে আগের ম্যাচে ওরল্যান্ডো সিটির কাছে হেরেছিল দল।
বর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা: নিহত ১১ জন তীর্থযাত্রীর মরদেহ ফিরল বিহারে
সকাল সকাল ডেস্ক। পূর্ব বর্ধমানের নালা ফেরিঘাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলার ১১ জন তীর্থযাত্রীর মরদেহ শনিবার গভীর রাতে নিজ গ্রামে পৌঁছল। একে একে সাতটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার ও গ্রামবাসী। তীর্থযাত্রীরা দেবঘর ও বাসুকিনাথ দর্শন সেরে গঙ্গাসাগর থেকে ফিরছিলেন। ফেরার পথে এনএইচ-১৯-এ দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তাঁদের বাস উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ১১ জনের, আহত হন অন্তত ৩৫ জন। আহতদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা চলছে। মৃতদের মরদেহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহায়তায় মোতিহারিতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। রবিবার সরকারি সহায়তায় সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।