সকাল সকাল ডেস্ক
Baruipur Case-এ তদন্তে গতি আনতে বদল তদন্তকারী অফিসার, নাবালিকা ও ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের জন্য সমান ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরির সিদ্ধান্ত
বারুইপুরের সূর্যপুরে ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত Baruipur Case-এ তদন্তের স্বার্থে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নাবালিকা ধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্তে গতি আনতে পরিবর্তন করা হয়েছে তদন্তকারী অফিসারকে। এখন থেকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পালন করবেন বারুইপুর পুলিশ জেলার ডিএসপি শান্তনু মুখোপাধ্যায়। প্রশাসনের আশা, নতুন নেতৃত্বে Baruipur Case-এর তদন্ত আরও দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে এগোবে।
তদন্তে নতুন দায়িত্বে ডিএসপি শান্তনু মুখোপাধ্যায়
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বতন তদন্তকারী অফিসারের পরিবর্তে ডিএসপি শান্তনু মুখোপাধ্যায়কে মামলার সম্পূর্ণ তদন্ত ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শুরু করেছেন এবং তদন্তের বিভিন্ন দিক নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের মতে, Baruipur Case-এর প্রতিটি প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং ফরেনসিক রিপোর্ট নতুন করে বিশ্লেষণ করা হবে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী চার্জশিট আদালতে পেশ করাই এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য।
নাবালিকার পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ও সরকারি চাকরি
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের শিকার পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি নাবালিকার বাবাকে রাজ্যের কারা দফতরে সরকারি চাকরিও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, এই আর্থিক সহায়তা কোনওভাবেই পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতির বিকল্প নয়। তবে কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনলেও পরিবারের সম্মতি নিয়ে ক্ষতিপূরণ ও চাকরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারও পেল সমান সহায়তা
শনিবার বারুইপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সূর্যপুরে গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। পাশাপাশি পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরির আশ্বাসও দেন।
সরকারি সূত্রের দাবি, নাবালিকার পরিবার এবং ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের যন্ত্রণা সমান গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করেছে সরকার। তাই উভয় পরিবারকেই একই পরিমাণ আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
গণপিটুনি মামলায় আরও এক গ্রেপ্তার
Baruipur Case-এর সঙ্গে যুক্ত গণপিটুনির ঘটনায় তদন্তও সমান তৎপরতার সঙ্গে এগোচ্ছে। পুলিশ শামিম আলি খান নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রক্তাক্ত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন শামিম। তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। আরও কয়েকজনের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
Background

বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে গুজব ও ক্ষোভের জেরে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর পুলিশ গাড়ি ভাঙচুর, রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টার-সহ একাধিক ঘটনা সামনে আসে। এই সমস্ত ঘটনার তদন্ত বর্তমানে পৃথকভাবে চলছে।
Impact
এই ঘটনার পর নারী নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা এবং গুজবের জেরে গণপিটুনির মতো অপরাধ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তকারী অফিসার বদলের ফলে মামলার তদন্ত আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে বলে আশা করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা ও সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের মানবিক অবস্থানকেও তুলে ধরেছে।
Official Statement
প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করতেই নতুন তদন্তকারী অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। নাবালিকার পরিবারের ক্ষতিপূরণ ও চাকরির বিষয়টি সরকারি নীতির আওতায় সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি গণপিটুনি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মামলার তদন্তও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
Public Information
পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেছে, Baruipur Case নিয়ে কোনও গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়াবেন না। তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মামলার অগ্রগতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো প্রশাসনের পক্ষ থেকেই জানানো হবে।
No Comment! Be the first one.