বৃহস্পতিবারও দেশীয় বাজারে বাড়লো সোনার দর, অপরিবর্তিত রুপোর দাম
দেশীয় বাজারে বৃহস্পতিবার সোনার দাম বাড়লেও , রুপোর দামে কোনও বদল দেখা গেলো না। এদিন দিল্লিতে কেজি প্রতি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ১,২০,০০০ লক্ষ টাকা।
আর জি কর মামলা থেকে সরলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ২৮ আগস্ট: আর জি কর মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। বিচারপতি ঘোষ সরে দাঁড়ানোয় মামলা ফিরে গেল প্রধান বিচারপতির কাছে। অভয়া কাণ্ড নিয়ে একাধিক মামলা চলছে কলকাতা হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার মূলত নির্যাতিতার পরিবারের তরফে নতুন করে তদন্তের আর্জি সংক্রান্ত মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি জানান, এই সংক্রান্ত মামলা বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে। তাই এই মামলার শুনানিও ডিভিশন বেঞ্চে হওয়া উচিত বলেই মনে করছেন বিচারপতি ঘোষ। এই যুক্তিতেই তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন।
পাকিস্তানে বন্যায় হাহাকার, জলের নিচে তলিয়ে কর্তারপুর সাহিব
টানা অতিভারী বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ অবস্থা পাকিস্তানের। পঞ্জাব প্রদেশ জুড়ে ভয়াবহ বন্যা।
ছাত্রদের জীবনে অন্ধকার নামিয়ে আনার চেষ্টা সুপ্রিম কোর্টে আটকেছেন, দাবি অভিষেকের
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ২৮ আগস্ট : “হাই কোর্টের একাংশ বাংলার ছাত্রদের জীবনে অন্ধকার নামিয়ে আনতে চেয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টে আটকেছি।” দলের ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বৃহস্পতিবার রেড রোডের সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে এই মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। “আগে মানুষ সরকার বেছে নিত। কিন্তু এখন কেন্দ্রীয় সরকার ভোটার বাছছে”! বিজেপিকে এই ভাষাতেই এসআইআর প্রসঙ্গে নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বাংলা ভাষার অপমান প্রসঙ্গও। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করেন। এসআইআর-এর নাম করে দেশের ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর সাফ কথা, এর বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।
কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মীর খুনের মামলায় ধৃত অবসরপ্রাপ্ত এসি-র জামিন
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ২৮ আগস্ট : চার বছর আগে কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে খুনের মামলায় ধৃত কলকাতা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এসি (তৎকালীন ওসি, নারকেলডাঙা থানা) শুভজিৎ সেনকে জামিন দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জেল হেফাজতে থাকা ওই ওসির জামিনের আর্জি মঞ্জুর করেছেন। প্রায় সাড়ে চার বছরের পুরনো এই মামলায় নাম জড়িয়েছে একাধিক পুলিশকর্মী ও আধিকারিকের। গত ১৮ জুলাই বিশেষ সিবিআই আদালত কলকাতা পুলিশের তৎকালীন এসআই রত্না সরকার এবং হোমগার্ড দীপঙ্কর দেবনাথকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, শুভজিৎ এবং ‘খুনে সাহায্যকারী’ সুজাতা দে-র জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। তবে চলতি মাসের শুরুতে রত্না এবং দীপঙ্কর জামিন পেয়ে যান। সিবিআই হাই কোর্টে তাঁদের জামিনের বিরোধিতা করলেও বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত শেষমেশ দুই পুলিশকর্মীর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। এ বার মামলায় আর এক অভিযুক্ত শুভজিৎও জামিন পেলেন।
মানকুমার বসু ঠাকুরকে বিনম্র শ্রদ্ধা সুকান্ত মজুমদারের
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ২৮ আগস্ট: “স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম মহান ব্যক্তিত্ব ও ভারতীয় নৌবিদ্রোহের অমর শহীদ মানকুমার বসু ঠাকুরের জন্মদিবসে জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।” বৃহস্পতিবার এক্সবার্তায় এ কথা লিখলেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার। তিনি লিখেছেন, আজাদ হিন্দ বাহিনীর গোপন বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি দেশীয় সিপাহীদের অন্তরে জাগিয়ে তুলেছিলেন স্বাধীনতার দীপ্ত চেতনা। তাঁর নেতৃত্বেই গোলন্দাজ বাহিনীর জওয়ানরা গোপনে সঞ্চিত গোলাবারুদ সমুদ্রে নিক্ষেপ করে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ঔপনিবেশিক বৈষম্য ও অরাজকতার বিরুদ্ধে যখন অসন্তোষ ধ্বনিত হচ্ছিল, তখন ‘বিদ্রোহের বীজ’ রোপণের অভিযোগে ১৮ এপ্রিল ১৯৪৩-এ মানকুমারসহ বারোজন বিপ্লবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবশেষে ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৩, দেশমাতৃকার মুক্তির শপথ বুকে নিয়ে, ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতে মানকুমার ও তাঁর সহযোদ্ধারা মাদ্রাজ দুর্গে ফাঁসির মঞ্চে আরোহণ করেন। তাঁদের আত্মত্যাগ, পরাক্রম এবং দেশভক্তি ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
আজ জাপান যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী মোদী
সকাল সকাল ডেস্ক। নয়াদিল্লি, ২৮ আগস্ট : আজ সন্ধ্যায় জাপান রওনা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টোকিয়োতে ২৯ ও ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ১৫তম ভারত–জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে মোদী প্রথমবার বৈঠক করবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক–আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে হবে আলোচনা। জাপান সফর শেষে ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনের তিয়ানজিনে শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন মোদী। সেখানে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিয়ে অষ্টমবার জাপান যাচ্ছেন মোদী। তবে প্রায় সাত বছর পরে ফের তাঁর এই সফর। সর্বশেষ তিনি ২০১৮ সালে টোকিয়ো গিয়েছিলেন।
অসম সরকারর ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ এবং হিন্দু উৎসবের নিরাপত্তা
সকাল সকাল ডেস্ক। রাঁচি “ভয় বিনু হৈ ন প্রীতি।” গোস্বামী তূলসীদাসের এই চৌপাই শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক বার্তা নয়, বরং শাসন এবং শৃঙ্খলার জন্যও গভীর শিক্ষা বহন করে। ঠিক এই কারণেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দুর্গাপূজার ঠিক আগে ধুবড়ি জেলায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ জারি করে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, এখন থেকে উৎসবের আড়ালে সাম্প্রদায়িক হিংসার কোনও সুযোগ থাকবে না। এই নির্দেশ দেশের সর্বত্র সাড়া ফেলে, কারণ এটি হয়তো প্রথমবার যখন কোনো হিন্দু উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন অসম সরকারকে এত বড় এবং অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিতে হলো? এই নির্দেশ কি কেবল প্রশাসনিক প্রয়োজন ছিল, নাকি এর পেছনে সামাজিক ও রাজনৈতিক গভীর বার্তাও লুকিয়ে আছে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই পদক্ষেপ কি সেখানে সংখ্যালঘু হয়ে পড়া হিন্দুদের জন্য নিরাপত্তার ঢাল? ধুবড়ি জেলার বাস্তবতা এই নির্দেশের পটভূমি বোঝাতে সাহায্য করে। ১৯৫১ সালে এখানে হিন্দু জনসংখ্যা ৪৩.৫ শতাংশ ছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা কমে ২০১১ সালের জনগণনায় মাত্র ১৯.৯২ শতাংশে নামিয়ে আসে। একই সময়ে মুসলিম জনসংখ্যা ৭৯.৬৭ শতাংশে পৌঁছে। অর্থাৎ, যে এলাকা এক সময় হিন্দুদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন সেখানে তারা সংখ্যালঘু। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিবর্তন কেবল উচ্চ জন্মহার নয়, বরং বাংলাদেশ থেকে অব্যাহত অনুপ্রবেশের প্রভাবও রয়েছে। এ কারণেই ধুবড়ি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তাছাড়া, ২০২৫ সালের জুনে ধুবড়ির এক হনুমান মন্দিরে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা পশুর মাংসের টুকরো ফেলে দেয়। ঘটনার পর বাজার বন্ধ হয়ে যায়, পথরুদ্ধ হয় এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সরকারি দল যখন দখলদারদের উচ্ছেদ করতে যায়, তখন জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে বহু পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। এই ঘটনাগুলো স্পষ্টভাবে দেখায় যে, জেলা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত শর্মা ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ জারি করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই নির্দেশ পুরো অসমে প্রযোজ্য নয়, কেবল ধুবড়ির জন্য। তবে বার্তা পুরো রাজ্য এবং দেশজুড়ে পৌঁছে যায় যে, উৎসবের শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কেউ ক্ষমা পাবেন না। এই পদক্ষেপটি সেই বিস্তৃত প্যাটার্নের অংশ, যা গত কয়েক বছরে দেশজুড়ে লক্ষ্য করা গেছে। হিন্দু উৎসবের সময় হিংসার ঘটনা ক্রমাগত ঘটে চলেছে। ২০২২ সালে হনুমান জয়ন্তী এবং রামনবমী শোভাযাত্রার সময় দাঙ্গা হয়। ২০২৩ সালেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৪ সালে সরস্বতী পূজা বিসর্জনের সময় সবচেয়ে বেশি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। রাম মন্দির প্রাণ প্রতিষ্ঠার পরেও চারটি বড় হিংসাত্মক ঘটনার খবর আসে। গণেশ উৎসবের সময়ও চারবার উত্তেজনার খবর এসেছে। রামনবমীতে তিনবার দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। সেন্টার ফর স্টাডি অফ সোসাইটি অ্যান্ড সেক্যুলারিজমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মোট ৫৯টি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২৬টি সরাসরি উৎসবের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এই প্যাটার্নকে আরও দৃঢ় করে। গুজরাতের বাদোদরায় গণেশ উৎসবের শোভাযাত্রায় ডিম ছোঁড়া হয়েছে। উত্তর প্রদেশের বেহরাইচে গণপতি শোভাযাত্রায় পটকা ফেলা হয়েছে। এই দুটি ঘটনা ভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করে। যখন উৎসবের সময় বারবার এমন কর্মকাণ্ড ঘটে, তখন এটিকে পরিকল্পিত হামলা বলা যায়। একাডেমিক গবেষণাও এই প্যাটার্ন ব্যাখ্যা করতে চায়। আশুতোষ বার্ষ্ণেয় এবং স্টিভেন উইলকিনসনের গবেষণা অনুযায়ী, যেসব জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা ২০ শতাংশের বেশি, সেখানে দাঙ্গার সম্ভাবনা তিনগুণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, যখন হিন্দু ও মুসলিম উৎসব একই দিনে হয়, তখন হিংসার আশঙ্কা আরও বাড়ে। ভারতের ১১০টি জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা ২০ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ, এই এলাকাগুলি স্বাভাবিকভাবেই সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ধুবড়ি এই সংজ্ঞায় আরও গভীরভাবে ফিট করে, যেখানে হিন্দুদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে এবং তারা নিজেদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে অনিরাপদ বোধ করছে। প্রকৃতপক্ষে এই পটভূমি বোঝায় যে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত শর্মার সিদ্ধান্ত কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা নয়, বরং ধুবড়ির হিন্দুদের মানসিক নিশ্চয়তা প্রদানও বটে। এই নির্দেশ সংখ্যালঘু হিন্দুদের জানায় যে, রাজ্য সরকার তাদের উৎসব এবং বিশ্বাস রক্ষার জন্য সকল পদক্ষেপ নেবে, যত কঠোরই হোক। বিপক্ষ এই নির্দেশকে সাম্প্রদায়িক ধ্রুবীকরণের প্রচেষ্টা বলে দেখাচ্ছে। কিছু মুসলিম সংগঠন এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলে উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তবে এটি সত্য যে, ধুবড়ির মতো জেলায় যদি হিন্দু উৎসবে বারবার হিংসা ঘটে এবং সরকার শুধু আবেদন করতে থাকে, তবে হিন্দুদের মধ্যে গভীর হতাশা এবং ভয় জন্মাবে। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর পদক্ষেপই বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করতে পারে। প্রশ্ন রয়ে যায়, এখন কি হিন্দুদের প্রতিটি উৎসব নিরাপত্তার ছায়ায় উদযাপন করতে হবে? কি দুর্গাপূজা, রামনবমী এবং গণেশ উৎসব শুধুমাত্র পুলিশ ব্যারিকেড এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতেই নিরাপদ থাকবে? এই পরিস্থিতি কেবল উৎসবের আনন্দকে কমায় না, বরং সামাজিক সুতোও ক্ষয়প্রাপ্ত করে। ফলে, সিদ্ধান্তের সমালোচনা হোক বা সমর্থন, এক সত্য অস্বীকার করা যায় না—অসমের এই নির্দেশ ধুবড়ির মতো সংবেদনশীল জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের জন্য নিরাপত্তার ঢাল। এটি কেবল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা নয়, বরং বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের বার্তা যে রাজ্য সরকার তাদের পাশে আছে। যদি সমাজে দাঙ্গার ভাইরাস ছড়ায়, তা রোধ করতে কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর। সত্যি বলতে গেলে, বাস্তবতায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত শর্মার এই সিদ্ধান্ত হিন্দুদের নিরাপত্তা এবং আস্থাকে রক্ষা করে। এটি অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত, তবে ধুবড়ির পরিস্থিতিও অভূতপূর্ব। তাই এই নির্দেশ কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং ধুবড়ির সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারগুলোর জন্য বিশ্বাসের গ্যারান্টি। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বার্তা দিতে চান যে, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার সঙ্গে খেলা কোনওভাবেই সহ্য করা হবে না। কার্যত এর সবচেয়ে বড় সুবিধা ধুবড়ির হিন্দু পরিবারগুলিই পাবে। আশা করা যায়, তারা এখন ভয় ছাড়াই নিজেদের উৎসব উদযাপন করতে পারবে, এবং সেটিই এই নির্দেশের প্রকৃত সাফল্য।
জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক সংঘের ১০০ বছর: অর্জন এবং নতুন দিগন্ত
সকাল সকাল ডেস্ক। রাঁচি জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক সংঘের ১০০ বছর শুধুমাত্র ইতিহাসের অর্জন নয়, বরং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশের প্রতিশ্রুতিও বটে। সংঘের লক্ষ্য হলো পরিবারকে সুদৃঢ় করা, পরিবেশ সংরক্ষণ করা, সমাজে সমরসতা স্থাপন করা, স্বদেশী এবং আত্মনির্ভরতা গ্রহণ করা, এবং নাগরিক কর্তব্য পালন নিশ্চিত করা। এই পাঁচটি প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে ভারতের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল ও আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে। সংঘ বিশ্বাস করে যে “বসুধৈব কুটুম্বকম্”–এর আদর্শ অনুসরণ করে ভারত শুধু নিজের সমাজকেই শক্তিশালী করবে না, বরং সমগ্র পৃথিবীকে শান্তি, সদ্ভাব এবং সহযোগিতার বার্তা প্রদান করে বিশ্বগুরু হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক সংঘের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি তিনদিনের শতবর্ষ উৎসবও পরিকল্পিত হয়েছে, যেখানে সংঘের শতবর্ষী যাত্রা, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর আলোকপাত করা হবে। জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক সংঘের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২৫ সালে বিজয়াদশমীর দিনে নাগপুরে ডা. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের দ্বারা। তখন এটি কল্পনাও করা কঠিন ছিল যে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে শুরু হওয়া এই প্রচেষ্টা আগামী একশ বছর পরে ভারতীয় সমাজ জীবনের সবচেয়ে বড় এবং বিস্তৃত সংগঠন হয়ে উঠবে। একশ বছর কোনো সংস্থার জীবনে কেবল সময়ের হিসাব নয়, বরং এটি সংস্থার প্রাসঙ্গিকতা, জীবন্ততা এবং সমাজের উপর প্রভাবের প্রমাণ। সংঘের শতবর্ষী যাত্রা সংগ্রাম, সেবা, সংগঠন এবং সংস্কার দিয়ে পূর্ণ। সংঘের শুরু হয়েছিল শাখা হিসেবে। সাধারণভাবে প্রদর্শিত খেলাধুলা, ব্যায়াম, গান এবং শৃঙ্খলা কেবল শারীরিক সক্ষমতাই তৈরি করেনি, বরং এমন একটি প্রজন্ম তৈরী করেছে যা সমাজের প্রতি আত্মসমর্পণ এবং জাতির প্রতি দায়িত্বকে জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে। বহুবার এই সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে, কঠিন পরিস্থিতি এসেছে, বিরোধিতা হয়েছে, তবে সংঘ প্রতিবার আরও শক্তিশালী হয়ে উত্থিত হয়েছে। ১৯৪৭-এর পর রাজনৈতিক পরিবর্তন, জরুরি অবস্থা এবং বিভিন্ন সমালোচনার পরও সংঘের কার্যক্রমের গতি ধীর হয়নি। আজ সংঘের পরিচয় সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। যখনই দেশে কোনো বিপর্যয় আসে, স্বেচ্ছাসেবকরা প্রথমে সাহায্যের জন্য পৌঁছান। বন্যা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, মহামারি—প্রত্যেক জায়গায় সংঘের কর্মীরা নিঃস্বার্থভাবে সেবা প্রদান করে। শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যা ভারতীর হাজার হাজার বিদ্যালয় শিশুদের কেবল আধুনিক শিক্ষা দেয় না, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি এবং জীবনমূল্যের সঙ্গে যুক্ত করে। গ্রাম উন্নয়ন, বনবাসী সেবা, স্বদেশী পণ্যের প্রচার এবং সামাজিক সমরসতা সংঘের পরিচিতি হয়ে উঠেছে। শতবর্ষী যাত্রার সবচেয়ে বড় অবদান হলো সংঘ ভারতীয় সমাজকে আত্মমর্যাদার অনুভূতি প্রদান করেছে। শতাব্দীব্যাপী শাসন ও উপনিবেশিক অবস্থার ফলে সমাজে হীনতা এবং আত্মসংকোচ জন্মেছিল। সংঘ দেখিয়েছে যে ভারত শুধুমাত্র একটি দেশ নয়, বরং এমন এক সভ্যতা যা বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে। শাখায় গাওয়া গান কেবল সুর নয়, বরং আত্মমর্যাদা এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। এ কারণে সংঘের প্রভাব আজ রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী ভারতীয় সমাজ পর্যন্ত বিস্তৃত। শতবর্ষের এই মুহূর্ত শুধুমাত্র অতীতের স্মৃতির উৎসব নয়, বরং ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণের সুযোগ। পাঁচজন্য-এ প্রকাশিত লেখায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যবস্থাকে নষ্ট করতে পঞ্চাশ বছর লাগে, তবে তা ঠিক করতে একশ বছর লাগে। সংঘ বিশ্বাস করে, এটি কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এই আত্মবিশ্বাস আগামী সময়ের জন্য নতুন শক্তির উৎস। সংঘ আগামী সময়ের জন্য পাঁচটি প্রধান লক্ষ্য গ্রহণ করেছে। এদের মধ্যে পরিবার সচেতনতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক সমরসতা, স্বদেশী ও আত্মনির্ভরতা, এবং নাগরিক কর্তব্য পালন অন্যতম। পরিবার ভারতীয় সংস্কৃতির কেন্দ্র। প্রকৃতির সংরক্ষণ জীবনের ভিত্তি। জাতি-ভেদ উপেক্ষা করে সমাজকে একত্রিত করা সময়ের দাবি। স্বদেশী ও আত্মনির্ভরতা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার পথ। নাগরিক কর্তব্য পালনের মাধ্যমে জাতি শক্তিশালী হবে। এগুলি কেবল স্লোগান নয়, বরং গভীর সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি। সংঘ এখন শুধু জাতীয় নয়, বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেও কাজ করছে। “বসুধৈব কুটুম্বকম্”–এর বার্তা আজ পৃথিবীর জন্য পথপ্রদর্শক। যোগ, আয়ুর্বেদ এবং ভারতীয় সংস্কৃতি বিশ্বে সম্মান পাচ্ছে। সংঘের স্বপ্ন হলো ভারত শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক শক্তির ভিত্তিতে নয়, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিশ্বগুরু হয়ে উঠুক। চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রযুক্তির যুগে মূল্যবোধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠেছে। মোবাইল এবং ইন্টারনেট সুবিধা দিয়েছে, তবে পরিবার এবং সমাজের বন্ধন দুর্বল হয়েছে। ভোক্তাবাদ জীবনকে প্রতিযোগিতা এবং দেখানোর খেলায় পরিণত করেছে। বৈশ্বিকীকরণ সুযোগ দিয়েছে, তবে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জন্যও বিপদ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। সংঘের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিশীল। প্রতিটি গ্রাম ও শহরে সেবা ও শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা, যুবকদের ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত করা, নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গবেষণা বৃদ্ধি করা এগুলিই এর প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষা কেবল চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং জাতি নির্মাণের ভিত্তি—এটি সংঘের দৃষ্টিভঙ্গি। সংঘের শতবর্ষী যাত্রা প্রমাণ করে যে আত্মসমর্পণ ও সংগঠনের মাধ্যমে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। এই যাত্রা আগামী একশ বছরের ভিত্তি। নতুন দিগন্ত অপেক্ষা করছে—সমরস সমাজ গঠন, আত্মনির্ভর ভারত, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বিশ্বে শান্তির বার্তা প্রদান। সংঘের স্বপ্ন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার নয়, সমাজের সার্বিক উন্নয়নের। শাখায় দাঁড়ানো প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবক নিজেকে জাতির সেবক মনে করে। এই অনুভূতিই ভারতকে বিশ্বগুরু করে তোলার পথপ্রদর্শক। জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক সংঘের একশ বছর শুধুমাত্র ইতিহাসের অধ্যায় নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রস্তাবনা। যদি সমাজ সংগঠিত হয় এবং সেবা ও সংস্কার জীবনের ভিত্তি হয়, তবে কোনো শক্তি ভারতকে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় সংস্কৃতি হতে আটকাতে পারবে না। শতবর্ষের এই প্রতিজ্ঞা হলো, নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে এমন একটি ভারত গড়া, যেখানে প্রতিটি নাগরিক দায়িত্বনিষ্ঠ ও সংস্কারশীল, সমাজ সমরস ও আত্মনির্ভর, এবং যেখানে বিশ্বে শান্তি ও সদ্ভাবের বার্তা যায়। এটাই সংঘের সবচেয়ে বড় অর্জন এবং আগামীর লক্ষ্য।
ফের অনুভূত গুমোট গরম, নিম্নচাপের প্রভাব নেই দক্ষিণবঙ্গে
সকাল সকাল ডেস্ক। কলকাতা, ২৭ আগস্ট : বৃষ্টি থামতেই ফের অনুভূত গুমোট গরম, রোদের তেজও বেশ অনুভূত হচ্ছে। ফলে সামান্য অস্বস্তিও বাড়ছে। নিম্নচাপ অঞ্চলের প্রত্যক্ষ প্রভাবও নেই দক্ষিণবঙ্গে। তবে, বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার ওপর বিশেষ প্রভাব পড়বে না। তবুও, আগামী সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে সামান্য বেশি। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং নদিয়ায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, নদিয়ায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী দুই দিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।