এআই নিয়ে আতঙ্ক ‘ভাঁওতা’, এনভিডিয়ার মঞ্চে ফোনে বার্তা ট্রাম্পের

সকাল সকাল ডেস্ক

লস অ্যাঞ্জেলেস: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিকাশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন সেই আশঙ্কাকে কার্যত ‘ভাঁওতা’ বলে উড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘অল-ইন সামিট’-এর একটি প্যানেল আলোচনার মাঝেই এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংয়ের ফোনে সরাসরি কল করেন ট্রাম্প। মঞ্চেই সেই ফোনালাপে এআই-এর অগ্রগতি, নিরাপত্তা এবং আমেরিকার প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, এআই-এর উন্নয়নের গতি কমানোর যে দাবি উঠছে, তার পিছনে রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত চিনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সুবিধা পেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতায় আমেরিকার অগ্রগতি থামানোর চেষ্টা করলে তার সুবিধা পাবে তারাই, যারা এআই ক্ষেত্রে আমেরিকাকে এগিয়ে যেতে দিতে চায় না।

ট্রাম্পের বক্তব্যকে সমর্থন করেন জেনসেন হুয়াংও। তাঁর মতে, এআই-এর দ্রুত উন্নয়ন এবং নিরাপত্তাকে পরস্পরের বিপরীত হিসেবে দেখা ঠিক নয়। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বজায় রেখেও ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা করা সম্ভব।

তবে এআই নিয়ে সতর্ক করা গবেষকদের বক্তব্য পুরোপুরি খারিজ করেননি এনভিডিয়ার প্রধান। অ্যানথ্রপিকের প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সনের প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানানোর সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন তিনি। হুয়াংয়ের বক্তব্য, কোনও প্রতিষ্ঠানের ভিতর থেকে কেউ গুরুতর ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করলে তাঁর বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত।

সম্প্রতি এআই-এর সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে প্রযুক্তি মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগের পর কক্সন দাবি করেন, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই-সহ বড় এআই সংস্থাগুলি এমন শক্তিশালী প্রযুক্তি তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যার ঝুঁকি ভবিষ্যতে মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে সংস্থাগুলি।

এই বিতর্কের মধ্যেই অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোডেই একটি দীর্ঘ প্রবন্ধে এআই-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। এআই নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রযুক্তি শিল্পের একাংশেও উদ্বেগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

এর প্রভাব শেয়ার বাজারেও পড়েছে। এআই ক্ষেত্রে বিনিয়োগের গতি কমতে পারে—এই আশঙ্কায় সোমবার একাধিক মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার শেয়ারে চাপ দেখা যায়। এনভিডিয়ার শেয়ারও ৩.৪ শতাংশ কমেছে। এআই মডেল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত চিপের অন্যতম প্রধান নির্মাতা হিসেবে গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে এআই পরিকাঠামো নির্মাণের জোয়ারে সবচেয়ে বেশি লাভবান সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে এনভিডিয়া।

অন্যদিকে, ট্রাম্প বরাবরই আমেরিকায় এআই-ভিত্তিক ডেটা সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণের পক্ষে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে বাধা দেওয়ার সমালোচনাও করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ধরনের পরিকাঠামো তৈরি হলে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি রাজ্যগুলিও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

এআই-কে আগামী দিনের বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবেও তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরে অর্থনীতির ক্ষেত্রে এআই ‘তেলের’ মতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এমনকি এআই-এর সম্ভাবনা ইন্টারনেটের থেকেও বড় বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ফলে এআই-এর ভবিষ্যৎ ঘিরে প্রযুক্তি দুনিয়ায় মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হচ্ছে। একদিকে একাংশের গবেষক ও প্রযুক্তিবিদ শক্তিশালী এআই তৈরির ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি তুলছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প ও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য, অতিরিক্ত আশঙ্কা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। দ্রুত উদ্ভাবন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা হবে, সেটাই এখন এআই দুনিয়ার অন্যতম বড় প্রশ্ন।

Read More News

ভারত এখন আত্মবিশ্বাসী ও সক্ষম রাষ্ট্র, বিশ্বমঞ্চে নিয়ম নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে: রাজনাথ সিং

সকাল সকাল ডেস্ক লখনউ : ভারত আজ শুধু বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি নয়, বরং নিজস্ব সভ্যতা,...

Read More