সকাল সকাল ডেস্ক
তেহরান–আম্মান: হরমুজ প্রণালীর কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর ফের উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। ওই হামলার জবাবে জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। নতুন করে এই সামরিক সংঘাত ঘিরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রবিবার লারাক দ্বীপে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালীর দিকে রকেট ছোড়ার জন্য প্রস্তুত কয়েকটি লঞ্চারকে লক্ষ্য করেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। অন্যদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, মার্কিন হামলায় তাদের একাধিক সেনা হতাহত হয়েছেন। এরপরই পালটা সামরিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে তেহরান।
আইআরজিসি জানিয়েছে, জর্ডনের কিং হুসেন এবং আল-আজরাক এলাকায় থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়। তাদের দাবি, হামলায় মার্কিন বাহিনীর প্রযুক্তিগত ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত পরিকাঠামোর পাশাপাশি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের কয়েকটি স্থানও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ইরান ও অন্য পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
ইরানের হামলার পর জর্ডনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আইআরজিসি এই হামলাকে লারাক দ্বীপে মার্কিন অভিযানের জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও সামরিক পদক্ষেপ করা হলে তার পালটা জবাব দেওয়া হবে। ফলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ হওয়া বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইতিমধ্যেই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের বাজারে। লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার খবর সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০.৫৭ ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন ক্রুডের দামও ২.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৫.৬৪ ডলার হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাজার বিশেষজ্ঞদের।
এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক সামুদ্রিক যাতায়াত ফের চালু করার লক্ষ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। কাতার-সহ কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তিও কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন করছে। কিন্তু লারাক দ্বীপে মার্কিন অভিযান এবং তার পালটা হিসেবে জর্ডনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
২৯ জুলাইয়ের পর ইরানের ভূখণ্ডে এটিই প্রথম বড় মার্কিন সামরিক হামলা বলে জানা গিয়েছে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পালটা আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি মার্কিন-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এখন ওয়াশিংটন পরবর্তী কী পদক্ষেপ করে এবং তেহরান কীভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানায়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
No Comment! Be the first one.