সকাল সকাল ডেস্ক
নিউপোর্ট: টেনিস কেরিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড ও সম্মানের পর এবার আরও এক বিশেষ স্বীকৃতি রজার ফেডেরারের মুকুটে। রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইন্টারন্যাশনাল টেনিস হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত হলেন ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক সুইস কিংবদন্তি। একই সঙ্গে এই সম্মান পেয়েছেন প্রাক্তন খেলোয়াড় ও প্রখ্যাত ক্রীড়া সম্প্রচারক মেরি কারিলো।
প্রথা মেনে শুক্রবার রাতের নৈশভোজে ফেডেরার ও কারিলোর গায়ে তুলে দেওয়া হয় ইন্টারন্যাশনাল টেনিস হল অফ ফেমের লোগো বসানো বিশেষ নীল ব্লেজার। শনিবার ঐতিহাসিক হর্সশু কোর্টে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জন ম্যাকেনরো, স্ট্যান স্মিথ, লিন্ডসে ভন-সহ ক্রীড়াজগতের বহু পরিচিত মুখ।
অনুষ্ঠানের আগেও ফেডেরারের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতার ঝলক দেখা যায়। এক অনুরাগী তাঁর চার বছরের মেয়ের টেনিস কেরিয়ার নিয়ে প্রশ্ন করলে ফেডেরার মজা করে জানান, চার বছর বয়সে শুরু করা একটু দেরি হয়ে গেল, কারণ তিনি নিজে তিন বছর বয়সেই টেনিস শুরু করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রথমে সম্মানিত করা হয় মেরি কারিলোকে। কিংবদন্তি বিলি জিন কিং তাঁর হাতে সম্মান তুলে দেন। ১৯৭৭ সালে ফরাসি ওপেনে জন ম্যাকেনরোর সঙ্গে মিক্সড ডাবলস খেতাব জিতেছিলেন কারিলো। পরে হাঁটুর চোটের কারণে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে ক্রীড়া সম্প্রচারের জগতে প্রবেশ করেন তিনি।
এরপর ফেডেরারের কেরিয়ারের বিভিন্ন অজানা মুহূর্ত তুলে ধরেন তাঁর স্ত্রী মিরকা। একসময় নিজেও পেশাদার টেনিস খেলতেন মিরকা। তিনি জানান, তাঁদের পরিচয়ের সময় ফেডেরারের ঝুলিতে কোনও বড় ট্রফি ছিল না। ম্যাচের আগে অনেক সময় তিনিই ফেডেরারকে কোর্টে ওয়ার্ম-আপ করাতেন। অ্যান্ডি রডিকের বিরুদ্ধে ফেডেরারের একটি জয়ের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
স্ত্রীর মুখে পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ শুনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ফেডেরার। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একাধিকবার চোখের জল মুছতে দেখা যায় তাঁকে। ফেডেরার জানান, খ্যাতি অর্জন কখনও তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল না। নিজের পছন্দের কাজটি প্রিয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে করে যাওয়াই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাসেলে বল-বয় হিসেবে টেনিসের সঙ্গে নিজের যাত্রা শুরুর কথাও স্মরণ করেন ফেডেরার। ছেলেবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে চক দিয়ে কোর্ট এঁকে গভীর রাত পর্যন্ত খেলার স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, নিজেকে কখনও আলাদা করে পেশাদার অ্যাথলিট হিসেবে দেখেননি, বরং সবসময় একজন টেনিস খেলোয়াড় হিসেবেই ভাবতে পছন্দ করেছেন।
মিরকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়েও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সুইস কিংবদন্তি। দীর্ঘ কেরিয়ারে পরিবার তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বলে জানান তিনি।
টেনিসকে ‘জটিল অথচ সুন্দর খেলা’ হিসেবেও বর্ণনা করেন ফেডেরার। কোর্টের জ্যামিতি থেকে বলের গতি, ম্যাচের চাপ—সবকিছুই তাঁর কাছে বিশেষ আকর্ষণের ছিল। খেলোয়াড় হিসেবে কেরিয়ারের সমাপ্তি ঘটলেও টেনিসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনও শেষ হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ফেডেরারের কথায়, খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অধ্যায় শেষ হয়েছে, কিন্তু টেনিস চিরকাল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কাছের জায়গাগুলির একটি হয়ে থাকবে। দীর্ঘ যাত্রায় পাশে থাকা পরিবার, বন্ধু, সতীর্থ এবং সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানান সর্বকালের অন্যতম সেরা এই টেনিস তারকা।
No Comment! Be the first one.