সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতা, ১২ আগস্ট : কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার লক্ষ্যে আনা ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাস হয়েছে। নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিলটি পেশ করেন। আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে তা অনুমোদিত হয়। সংশোধনীর মাধ্যমে ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইন, ১৯৮০’-র ৫ নম্বর ধারায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বিল নিয়ে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আপাতত শুধুমাত্র ওয়ার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ওয়ার্ডগুলির সীমানা এবং ভোটার সংখ্যার বিন্যাস পরবর্তী পর্যায়ে চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে শীঘ্রই দু’টি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকবে। রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনার পর পরিসীমন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করা হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও যুক্তিতে বলা হয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বসতির পরিবর্তিত ধরন, ভৌগোলিক অবস্থান এবং কলকাতা পুরসভা সংলগ্ন এলাকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী কার্যকর হওয়ার দিন গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে রাজ্য সরকার। আলোচনায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, জাভেদ আহমেদ খান, ফিরহাদ হাকিম, রীতেশ তিওয়ারি, শঙ্কর সিকদার, সর্বরী মুখোপাধ্যায় ও সজল ঘোষ-সহ একাধিক সদস্য অংশ নেন।
এ দিন বিধানসভায় অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বন্যায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অসমে বহু বাংলা ভাষাভাষী মানুষ বসবাস করেন। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়।
একই সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে তাঁরা মাসে ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। তা বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার কথা জানান তিনি। প্রবীণ প্রাক্তন বিধায়কদের আর্থিক সুরক্ষা ও সম্মানের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বর্তমান বিধায়কদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’ চালু করার কথা বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেবাকেন্দ্রে নেতাজির ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত ছবি রাখতে হবে। এই দুই শর্ত মেনে কেন্দ্র চালু করলে সংশ্লিষ্ট বিধায়ককে তা পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই শাসকদলের শতাধিক বিধায়ক এই ধরনের সেবাকেন্দ্র চালু করেছেন বলেও জানানো হয়েছে।
No Comment! Be the first one.