রাজস্থান বিধানসভার পঁচাত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনমুখী শাসনব্যবস্থার ওপর জোর লোকসভার অধ্যক্ষের।
সকাল সকাল ডেস্ক
জয়পুরে রাজস্থান বিধানসভার পঁচাত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিধায়ী গৌরব যাত্রা-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধায়ী গৌরব যাত্রা-র মঞ্চ থেকে তিনি জানান, সময়ের সঙ্গে নাগরিকদের প্রত্যাশা বদলেছে। মানুষ এখন শুধু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিই নয়, বরং সংবেদনশীল, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রত্যাশা করেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে আইনসভাগুলিকে জনগণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
আইনসভাই গণতন্ত্রের শক্তিশালী ভিত্তি
ওম বিড়লা বলেন, বিধানসভা এমন একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যেখানে সাধারণ মানুষের সমস্যা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, উন্নয়নের প্রয়োজন এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয় সরকারের সামনে তুলে ধরা হয়। এই আলোচনা ও মতবিনিময় প্রশাসনকে আরও কার্যকর, দায়িত্বশীল এবং জনমুখী করে তুলতে সহায়তা করে।
তিনি জানান, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনসভা শুধু আইন প্রণয়নের স্থান নয়, বরং জনগণের মতামত প্রতিফলিত করার অন্যতম প্রধান মঞ্চ। বিধায়ী গৌরব যাত্রা সেই গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও দায়িত্বের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব
লোকসভার অধ্যক্ষের মতে, বর্তমান সময়ে সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে আইনসভাগুলিকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত, আলোচনা এবং কার্যকলাপ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছানো উচিত। এতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হবে এবং প্রশাসনের কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে।
গণতন্ত্রের শিক্ষাঙ্গন হিসেবে বিধানসভা
ওম বিড়লা বিধানসভাকে গণতন্ত্রের প্রকৃত শিক্ষাঙ্গন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখান থেকেই দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে।
তিনি জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর মতে, কার্যকর আলোচনা, গঠনমূলক বিতর্ক এবং যুক্তিনির্ভর মতবিনিময়ের মাধ্যমেই উন্নত নীতি ও আইন প্রণয়ন সম্ভব।

রাজস্থান বিধানসভার পঁচাত্তরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বিধায়ী গৌরব যাত্রা-র সূচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজন গণতন্ত্রের ঐতিহ্য এবং আইনসভাগুলির ভূমিকা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ওম বিড়লা বলেন, সংসদ এবং রাজ্য বিধানসভায় অনুষ্ঠিত আলোচনা, বিতর্ক ও বিচার-বিবেচনা শুধু তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, ভবিষ্যতের জন্যও তা গণতান্ত্রিক ইতিহাসের মূল্যবান দলিল হয়ে থাকে। তিনি বলেন, এই আলোচনাগুলি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে।
সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী আইনসভা মানেই আরও কার্যকর শাসনব্যবস্থা। জনগণের সমস্যা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা, স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নও দ্রুত হয়।
ওম বিড়লার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু সরকার নয়, আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিধায়ী গৌরব যাত্রা সেই দায়িত্ববোধ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনকল্যাণমূলক শাসনব্যবস্থার গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরেছে।
No Comment! Be the first one.