লেকটাউন ছাত্রমৃত্যু মামলায় ৭ বড় দাবি! ‘দেখব, ভাবব না, কাজ করব’- জনতার দরবারে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

সকাল সকাল ডেস্ক

লেকটাউনের ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের অভিযোগের পর জনতার দরবারে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তদন্ত, বিচার এবং দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেন তিনি।

কলকাতা: লেকটাউনের বহুল আলোচিত ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র রহস্যমৃত্যুর ঘটনা ফের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার বিজেপির জনতার দরবারে হাজির হন তাঁর বাবা যদু দে। অভিযোগ শোনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি শুধু আশ্বাসে নয়, কাজে বিশ্বাসী। তাঁর কথায়, “দেখব, ভাবব না, কাজ করব।”

২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল লেকটাউনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সৃঞ্জয় দে-র নিথর দেহ। ময়নাতদন্তের পর পুলিশ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও সেই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।

সৃঞ্জয়ের বাবার বিস্ফোরক অভিযোগ

জনতার দরবারে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন সৃঞ্জয়ের বাবা যদু দে। তাঁর দাবি, ছেলে বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে বক্তব্য রাখত। সেই কারণেই রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে তাকে। তিনি তৎকালীন মন্ত্রী সুজিত বসুর দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

যদু দে-র অভিযোগ, প্রথম থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রমাণ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। তাই তিনি নতুন করে তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

‘দেখব, ভাবব না, কাজ করব’—মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

লেকটাউন ছাত্রমৃত্যুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জনতার দরবার শুধুমাত্র অভিযোগ শোনার কর্মসূচি নয়। এখানে আসা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তিনি বলেন, “আমি যা বলি, তা কাজে পরিণত হয়। মানুষ এখানে বুকভরা আশা নিয়ে আসেন। আমরা শুধু দেখব বা ভাবব বলি না, আমরা কাজ করি।”

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত পাঁচ থেকে ছয়টি জনতার দরবারে জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন দলীয় নেতৃত্বের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

আশি শতাংশ সমস্যার সমাধানের দাবি

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, জনতার দরবারে আসা প্রায় আশি শতাংশ সমস্যার কার্যকর সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। তিনি নিজে প্রতিটি অভিযোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান।

তাঁর মতে, মানুষের আস্থা অর্জনের একমাত্র পথ হল দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনাতেও আশ্বাস

বুধবারের জনতার দরবারে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত একটি পরিবারও উপস্থিত ছিল। তারা জানায়, অতীতেও বিজেপির পক্ষ থেকে সহায়তা পেয়েছে।

এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্তদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই স্থানীয় পুলিশ তড়িঘড়ি চার্জশিট জমা দিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল।

তিনি আরও জানান, সুবিচারের স্বার্থে নতুন আবেদন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

ব্যাকগ্রাউন্ড

২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে লেকটাউনের একটি আবাসন থেকে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র সৃঞ্জয় দে-র মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ আত্মহত্যার তত্ত্ব সামনে আনলেও পরিবারের দাবি ছিল, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে পরিবার।

অন্যদিকে, বিজেপির জনতার দরবার কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ নানা অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে দল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করছে।

প্রভাব

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লেকটাউন ছাত্রমৃত্যু মামলাটি আবারও আলোচনায় উঠে আসায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেতে পারে। পরিবারের অভিযোগ এবং মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমরা শুধু দেখব বা ভাবব—এই নীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা কাজ করি। জনতার দরবারে আসা অধিকাংশ অভিযোগের সমাধান হয়েছে এবং প্রতিটি বিষয় আমি নিজে পর্যবেক্ষণ করছি।”

পাবলিক ইনফরমেশন

জনতার দরবারে জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে অভিযোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনে অভিযোগকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও জানানো হয়।

Read More News

Read More