আহমেদাবাদে ‘Mission Five Million Trees’ কর্মসূচির উদ্বোধন, ১.২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য; ‘এক পেড় মা কে নাম’ উদ্যোগের বার্তা তুলে ধরলেন অমিত শাহ।
সকাল সকাল ডেস্ক
Mission Five Million Trees কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার গুজরাটের আহমেদাবাদের সায়েন্স সিটি এলাকায় আয়োজিত এই বিশেষ বৃক্ষরোপণ অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ, নগর সবুজায়ন এবং জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। Mission Five Million Trees-এর উদ্বোধনের পাশাপাশি তিনি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পেরও সূচনা করেন। প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগ আগামী দিনে গুজরাটে পরিবেশ রক্ষার অন্যতম বৃহৎ গণআন্দোলনে পরিণত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, Mission Five Million Trees শুধুমাত্র একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি এখন মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি বৃহৎ সামাজিক আন্দোলন। পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ভারত গড়ে তুলতে প্রত্যেক নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Mission Five Million Trees-এর লক্ষ্য
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং নগরাঞ্চলে সবুজের পরিমাণ বৃদ্ধি করা। জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ এবং ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় Mission Five Million Trees-কে একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অমিত শাহ জানান, রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রী, আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এএমসি) এবং ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই কর্মসূচি সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ১ কোটি ২৫ লক্ষ গাছ লাগানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই অভিযান মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পরিবেশ রক্ষায় গুজরাটের বৃহৎ উদ্যোগ
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে গুজরাট সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নগর সবুজায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই Mission Five Million Trees কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন পার্ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি জমি, আবাসন এলাকা এবং জনবহুল স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু গাছ লাগানো নয়, বরং সেগুলির দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যাও নিশ্চিত করা।
কী বললেন অমিত শাহ?
অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বলেন, “এই কর্মসূচি আর শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি একটি প্রকৃত গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আজ প্রায় ১ লক্ষ ৬৭ হাজার নাগরিক তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় গাছ লাগাতে চলেছেন। এটি মানুষের উৎসাহ এবং পরিবেশ রক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয়।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘এক পেড় মা কে নাম’ উদ্যোগ দেশের কোটি কোটি মানুষকে একটি করে গাছ লাগানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে। মায়ের নামে একটি গাছ লাগানোর এই আহ্বান পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধকেও আরও শক্তিশালী করছে।
পরিবেশ ও নাগরিক জীবনে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, Mission Five Million Trees সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আহমেদাবাদে সবুজের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বায়ুদূষণ কমানো, শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের মান উন্নত করতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এছাড়া এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। নাগরিকদের গাছ লাগানো এবং তার পরিচর্যার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, Mission Five Million Trees কর্মসূচির আওতায় শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ করা হবে। নাগরিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এই অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, আগামী দিনে এই কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করে গুজরাটের অন্যান্য শহর ও জেলাতেও একই ধরনের বৃক্ষরোপণ অভিযান চালানো। পরিবেশ সংরক্ষণকে জনআন্দোলনে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সব মিলিয়ে, Mission Five Million Trees শুধু একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়; এটি পরিবেশ রক্ষা, জনঅংশগ্রহণ এবং টেকসই উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
No Comment! Be the first one.