সকাল সকাল ডেস্ক
Real Trinamool-কে ঘিরে নতুন বিতর্ক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বাদ দেওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব কুণাল ঘোষ; জেলা কমিটি ঘোষণার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে Real Trinamool বিতর্ক আরও তীব্র আকার নিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এর জেলা কমিটি ঘোষণার পর এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও নাম ব্যবহার না করে নতুন সংগঠন পরিচালনার চেষ্টা নিয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক কড়া মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, Real Trinamool-কে ঘিরে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জেলা কমিটি ঘোষণার পর শুরু নতুন বিতর্ক
শুক্রবার তপসিয়ার একটি বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির তাদের নতুন রাজ্য কমিটির পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করে। রাজ্য সভাপতি হিসেবে বিপ্লব মিত্র এবং কার্যকরী সভাপতি হিসেবে জাভেদ খানের নাম সামনে আসে।
এর ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা স্তরের সংগঠন এবং একাধিক মুখপাত্রের নামও প্রকাশ করা হয়। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নতুন আলোচনা। Real Trinamool শিবিরের এই সাংগঠনিক বিস্তারকে কেন্দ্র করেই কুণাল ঘোষের তীব্র প্রতিক্রিয়া সামনে আসে।

কুণাল ঘোষের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কড়া আক্রমণ
ফেসবুক পোস্টে কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ছবি বাদ দিয়ে কেউ যদি ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করেন, তবে তাঁরা আলাদা দল গড়ে জনগণের ভোটে জিতে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করছেন না কেন।
তিনি আরও লেখেন, ফেসবুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছাড়া স্টিকার এবং নতুন পদাধিকারীদের তালিকা দেখে তাঁর প্রশ্ন, “বিবেক, লজ্জা বলে কিছু নেই?” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে কটাক্ষ
কুণাল ঘোষ তাঁর পোস্টে নতুন কমিটির কয়েকজন নেতার ভূমিকাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরাই এখন দলনেত্রীর ছবি বাদ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রকাশ্য প্রতিফলন।
অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে নতুন জল্পনা
নতুন সাংগঠনিক তালিকায় সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছে বীরভূম। জানা গিয়েছে, বীরভূমের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুব্রত মণ্ডলকে। এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্মল ঘোষ, রঞ্জন সরকার, নারায়ণ গোস্বামী, কোহিনুর মজুমদার, আব্দুল খালেক মোল্লা, জোৎস্না মান্ডি, শান্তনু সেন, বিধান উপাধ্যায় এবং ওয়াসিমুল হক-সহ একাধিক নেতা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, জেলার স্তরে সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
- গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের ‘কালীঘাট’ শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। প্রথমে নতুন রাজ্য কমিটি এবং পরে জেলা কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে এই সংঘাত আরও স্পষ্ট হয়েছে।
Real Trinamool-কে ঘিরে এই রাজনৈতিক সংঘাত তৃণমূলের সাংগঠনিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জেলা স্তরে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার ফলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।
কুণাল ঘোষ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও নাম বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তোলার নৈতিকতা নিয়ে। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত বদলাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং প্রশাসনিক তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি সম্পর্কে মত গঠন করার পরামর্শ দিচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত অসমর্থিত তথ্য যাচাই করে দেখারও আবেদন জানানো হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.