দ্বারকার মান্নাম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে মূর্তি উন্মোচন ও স্মৃতি মণ্ডপম উদ্বোধনে সমাজ সংস্কার, শিক্ষা ও সমতার বার্তা দিলেন উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন।
সকাল সকাল ডেস্ক
Mannathu Padmanabhan Statue Unveiled অনুষ্ঠানে সমাজ সংস্কারকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিককে তাঁদের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন। রবিবার নয়াদিল্লির দ্বারকার মান্নাম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তিনি সমাজ সংস্কারক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী মান্নাতু পদ্মনাভনের মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন এবং ‘মান্নাম স্মৃতি মণ্ডপম’-এর উদ্বোধন করেন। Mannathu Padmanabhan Statue Unveiled অনুষ্ঠানটি সমাজে সমতা, শিক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বার্তা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সমাজ সংস্কারকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নাগরিকের দায়িত্ব
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি বলেন, একটি শক্তিশালী ও উন্নত ভারত গড়ে তুলতে সমাজ সংস্কারকদের অবদানকে কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তাঁদের আদর্শ ও মূল্যবোধকে সম্মান জানানো এবং আগামী প্রজন্মের কাছে সেই উত্তরাধিকার পৌঁছে দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, মান্নাতু পদ্মনাভনের জীবন কেবল একজন সমাজ সংস্কারকের জীবন নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল ইতিহাস। শিক্ষা, সমতা, আত্মনির্ভরতা এবং সমাজসেবার প্রতি তাঁর অটল নিষ্ঠা আজও দেশের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে। Mannathu Padmanabhan Statue Unveiled অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্য আরও একবার জাতীয় পর্যায়ে স্মরণ করা হল।
Background: কে ছিলেন মান্নাতু পদ্মনাভন?
মান্নাতু পদ্মনাভন আধুনিক ভারতের অন্যতম বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে পরিচিত। এমন এক সময়ে তিনি সমাজ সংস্কারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যখন দেশের বহু মানুষ সামাজিক বৈষম্য, বঞ্চনা এবং অসাম্যের শিকার ছিলেন।
তিনি শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক ঐক্য, আত্মনির্ভরতা এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বহু সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা হয়, যা আজও বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হয়।
উপরাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, সমাজকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক করে তুলতে মান্নাতু পদ্মনাভনের আদর্শ বর্তমান সময়েও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাধীনতা আন্দোলন ও ভাইকম সত্যাগ্রহে অবদান
বক্তব্যে উপরাষ্ট্রপতি সি. পি. রাধাকৃষ্ণন বলেন, মান্নাতু পদ্মনাভনের দেশপ্রেম তাঁর স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি শুধু সমাজ সংস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং দেশের স্বাধীনতার লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
বিশেষ করে ঐতিহাসিক ভাইকম সত্যাগ্রহে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ভারতের সমাজ সংস্কার আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা আজও ইতিহাসে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। Mannathu Padmanabhan Statue Unveiled অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক অবদানের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

কী বললেন উপরাষ্ট্রপতি?
উপরাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজ সংস্কারকদের জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেই নতুন ভারত গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি জানান, সামাজিক ন্যায়বিচার, শিক্ষা, সমতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মান্নাতু পদ্মনাভনের জীবন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তিনি আরও বলেন, মহাত্মা গান্ধীর মতোই মান্নাতু পদ্মনাভনও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজে সম্প্রীতি ও ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Mannathu Padmanabhan Statue Unveiled অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি স্মারক উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের সমাজ সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
এই ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা জোগায়। পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক সমতা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারি অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি, সমাজকর্মী এবং অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। মান্নাম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে নির্মিত মান্নাতু পদ্মনাভনের মূর্তি এবং ‘মান্নাম স্মৃতি মণ্ডপম’ সাধারণ মানুষের জন্য তাঁর জীবন, কর্ম এবং সমাজ সংস্কারের ইতিহাস জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, সমাজ সংস্কারকদের অবদান শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Mannathu Padmanabhan Statue Unveiled দেশের মানুষের কাছে সেই বার্তাই আরও শক্তিশালীভাবে পৌঁছে দিল।
No Comment! Be the first one.