সকাল সকাল ডেস্ক
ইজরায়েল-লেবানন সংঘাতের মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি ঐতিহাসিক দুর্গকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন। আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আশা বৈরুতের।
ইজরায়েল-লেবানন সংঘাতের আবহে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের আবেদন জানিয়েছে লেবানন। UNESCO World Heritage তালিকায় দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচটি প্রাচীন দুর্গ ও ঐতিহাসিক স্থাপনাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো)-র কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে বৈরুত। লেবাননের দাবি, চলমান সংঘাতে বহু মূল্যবান প্রত্নস্থল ও ঐতিহাসিক নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত আন্তর্জাতিক সুরক্ষা না মিললে শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
UNESCO World Heritage তালিকাভুক্তির আবেদন কেন?
লেবাননের সংস্কৃতিমন্ত্রী ঘাসান সালামে জানিয়েছেন, আগামী ১৭ জুলাই দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির বৈঠকে দক্ষিণ লেবাননের ‘জাবাল আমেল’ অঞ্চলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ ও ঐতিহাসিক স্থাপনাকে UNESCO World Heritage তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের আশা, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলির সুরক্ষা আরও জোরদার হবে এবং সংঘাতের সময় এগুলিকে রক্ষায় আন্তর্জাতিক চাপও বাড়বে।
সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক নিদর্শন
লেবাননের দাবি অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শামা সমাধিক্ষেত্র। চারটি গম্বুজের মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই ধসে পড়েছে এবং অবশিষ্ট গম্বুজটিও ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এছাড়া মধ্যযুগীয় বিউফোর্ট দুর্গ নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। ইজরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, দুর্গটির নিচে সামরিক সুড়ঙ্গ রয়েছে। তবে লেবানন সরকার সেই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সুড়ঙ্গ দুর্গ থেকে প্রায় ৭০০ মিটার দূরে অবস্থিত। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচারও চালানো হয়েছে।

টাইর ও নাবাতিয়াহর ঐতিহ্যও ক্ষতির মুখে
লেবাননের সংস্কৃতিমন্ত্রীর দাবি, ইউনেস্কো স্বীকৃত প্রাচীন টাইর শহরের ঐতিহাসিক রোমান স্তম্ভের উপরের অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
এছাড়া নাবাতিয়াহ শহরের মামলুক যুগের ঐতিহাসিক বাজারও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমান্তবর্তী বহু শতাব্দীপ্রাচীন গ্রাম, ঐতিহ্যবাহী বসতি এবং ধর্মীয় স্থাপনাও সংঘাতে ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে সরকার।
ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনও সম্ভব নয়
সংস্কৃতিমন্ত্রী ঘাসান সালামে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় এখনও ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে।
ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশ করে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বহু ঐতিহাসিক গ্রাম, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং বিউফোর্ট দুর্গের প্রকৃত অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়।
‘সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধু ধ্বংসাবশেষ নয়’
ঘাসান সালামের বক্তব্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কেবল রোমান বা ফিনিশীয় সভ্যতার নিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
এর অন্তর্ভুক্ত—
- ঐতিহাসিক ভবন
- প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
- ঐতিহ্যবাহী বাজার
- ধর্মীয় স্থাপনা
- সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক এলাকা
তাঁর মতে, এই স্থাপনাগুলি ধ্বংস হলে তা শুধু লেবাননের নয়, সমগ্র বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
ইজরায়েলের পাল্টা অবস্থান
লেবাননের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী।
তাদের দাবি, বেসামরিক অবকাঠামো বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। শুধুমাত্র সামরিক প্রয়োজনে অভিযান চালানো হয় এবং সংবেদনশীল ঐতিহাসিক স্থানের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
ইউনেস্কোর আগের উদ্বেগ
এর আগেও ইউনেস্কো দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক স্থাপনা, বিশেষ করে টাইর শহরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
সংস্থার মতে, যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের সময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির পরিপন্থী। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, UNESCO World Heritage তালিকায় এই পাঁচটি দুর্গ অন্তর্ভুক্ত হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেগুলির সুরক্ষায় নতুন কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগের পথ খুলে যেতে পারে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
Background
ইজরায়েল-লেবানন সংঘাতের সময় দক্ষিণ লেবাননের বহু ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটেই আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় পাঁচটি দুর্গ অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছে লেবানন।
Impact
- পাঁচটি ঐতিহাসিক দুর্গ আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেতে পারে
- সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়বে
- যুদ্ধক্ষেত্রে ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি
- ইউনেস্কোর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে
- বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা জোরদার
Official Statement
লেবাননের সংস্কৃতিমন্ত্রী ঘাসান সালামে জানিয়েছেন, ‘জাবাল আমেল’ অঞ্চলের পাঁচটি দুর্গকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও সাংস্কৃতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান চালায় না।
Public Information
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধু একটি দেশের সম্পদ নয়, এটি বিশ্ব মানবসভ্যতার ঐতিহ্য। তাই সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Featured Snippet
প্রশ্ন: লেবানন কেন ইউনেস্কোর কাছে পাঁচটি প্রাচীন দুর্গকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেছে?
উত্তর: ইজরায়েল-লেবানন সংঘাতের জেরে দক্ষিণ লেবাননের বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যৎ ক্ষতি রোধের লক্ষ্যে লেবানন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় পাঁচটি প্রাচীন দুর্গ অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেছে।
No Comment! Be the first one.