মিড-ডে মিলে ডিম বাদ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ ও ISKCON-কে দায়িত্ব দেওয়ার বিতর্কে রাজ্যের কাছে জবাব চাইল আদালত
সরকারি স্কুলের Mid-Day Meal ISKCON Case ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মিড-ডে মিলের রান্নার দায়িত্ব ইসকন (ISKCON)-এর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে এবং খাবারের তালিকা থেকে ডিম বা মাছ বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় বুধবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামা চেয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে। Mid-Day Meal ISKCON Case এখন রাজ্যের শিক্ষা, পুষ্টি এবং কর্মসংস্থান—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
আদালতে কী ঘটল?
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে বুধবার এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে মামলাকারী ও রাজ্য সরকারের আইনজীবীদের মধ্যে তুমুল বিতর্ক দেখা যায়।
মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, রাজ্যের প্রায় ১,৮০০টি সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বহু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) মহিলা কর্মসংস্থান হারাতে পারেন।
অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে জানান, এখনও এ বিষয়ে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। তাঁর দাবি, পুরো বিষয়টি অনুমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় মামলাটি ‘প্রিম্যাচিওর’ বা সময়ের আগেই করা হয়েছে।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেয়। চার সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
কেন তৈরি হয়েছে বিতর্ক?
Mid-Day Meal ISKCON Case-এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্রথমত, সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিলের রান্নার দায়িত্ব কি স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর পরিবর্তে কোনও ধর্মীয় সংস্থাকে দেওয়া হবে? দ্বিতীয়ত, ডিম ও মাছের মতো প্রাণিজ প্রোটিনের পরিবর্তে নিরামিষ খাদ্যতালিকা চালু করা হবে কি না।
মামলাকারীদের দাবি, বর্তমানে মিড-ডে মিল প্রকল্পের সঙ্গে প্রায় আড়াই লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা যুক্ত রয়েছেন। নতুন ব্যবস্থায় তাঁদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
Background: পিএম পোষণ প্রকল্প ও কেন্দ্রীয় রান্নাঘরের পরিকল্পনা
রাজ্যের বাজেট এবং কেন্দ্রীয় PM Poshan প্রকল্পের আওতায় কিছু এলাকায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে সেন্ট্রালাইজড কিচেন তৈরির পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। তবে সরকার এখনও এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত নোটিফিকেশন প্রকাশ করেনি।
রাজ্যের বক্তব্য অনুযায়ী, নীতিটি এখনও কার্যকর হয়নি। ফলে কীভাবে রান্না হবে, কারা দায়িত্ব পাবে বা বর্তমান ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

গুজরাত মডেল নিয়ে আশঙ্কা
এই মামলায় অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে তথাকথিত ‘গুজরাত মডেল’। গুজরাতের বিভিন্ন এলাকায় ইসকন পরিচালিত কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে স্কুলে নিরামিষ খাবার সরবরাহ করা হয়। সেখানে সাধারণত ডিম, মাছ, মাংস, এমনকি পেঁয়াজ-রসুনও ব্যবহার করা হয় না।
এই প্রেক্ষাপটে মামলাকারীদের আশঙ্কা, পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের খাদ্যতালিকা চালু করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বাংলার বহু দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য মিড-ডে মিলে ডিম গুরুত্বপূর্ণ প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস। খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন হলে পুষ্টির উপর তার প্রভাব পড়তে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
Official Statement: রাজ্যের অবস্থান
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনও কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। ফলে বর্তমানে মিড-ডে মিল ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকার হলফনামার মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে। সেই হলফনামার ভিত্তিতেই পরবর্তী শুনানিতে আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবে।
Public Information: অভিভাবক ও স্কুলগুলির জন্য কী জানা জরুরি?
বর্তমানে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল প্রকল্প আগের নিয়মেই চলছে। আদালত এখনও কোনও নীতিগত পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়নি এবং ডিম বা অন্যান্য খাদ্য উপাদান সম্পর্কেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তাই অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আগামী চার সপ্তাহ পরে রাজ্য সরকারের হলফনামা এবং আদালতের পরবর্তী শুনানির পর বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
Mid-Day Meal ISKCON Case-এর পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর শিক্ষা মহল, স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং অভিভাবকদের। আদালতে রাজ্যের ব্যাখ্যার পরই স্পষ্ট হবে ভবিষ্যতে মিড-ডে মিল প্রকল্পে কোনও বড় পরিবর্তন আসছে কি না।
No Comment! Be the first one.