সকাল সকাল ডেস্ক
৭ ও ৮ জুলাই ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস। রাঁচি-সহ একাধিক জেলায় জলজমায় দুর্ভোগ, প্রশাসনের সতর্কবার্তা।
Heavy Rain in Jharkhand: রাঁচি-সহ একাধিক জেলায় বৃষ্টির দাপটে বিপর্যস্ত জনজীবন
টানা দু’দিনের ভারী বর্ষণে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঝাড়খণ্ডের স্বাভাবিক জনজীবন। Jharkhand Rain Alert-এর মধ্যে রাজধানী রাঁচি-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। শহর ও গ্রামীণ এলাকার বহু নিচু অংশে জল জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতের আবহাওয়া দফতর ৭ ও ৮ জুলাই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করেছে।
সোমবার ভোর থেকেই রাঁচিতে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। দুপুরের পর কিছুটা রোদ উঠলেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল নামতে দীর্ঘ সময় লাগে। নিকাশি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
রাঁচির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলজমা, বাড়ল ভোগান্তি
Jharkhand Rain Alert-এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে রাজধানী রাঁচিতে। আপার বাজারের সেবা সদন রোড, গাড়িখানা, হারমু রোড, আর্গোড়া, পান্ডরা রোড-সহ একাধিক এলাকায় জল জমে যান চলাচল কার্যত ধীর হয়ে যায়। রাঁচির আপার বাজার এলাকার সেবা সদন রোড, গাড়িখানা, হারমু রোড, আর্গোড়া, পান্ডরা রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জলজমার ছবি দেখা গেছে। অনেক জায়গায় নর্দমার জল রাস্তায় উঠে আসায় যানবাহনের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। মোটরগাড়ি চালকদের পাশাপাশি পথচারীরাও চরম সমস্যার মুখে পড়েন। বিভিন্ন ব্যস্ত সড়কে দীর্ঘক্ষণ যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অনেক জায়গায় নর্দমার জল রাস্তায় উঠে আসায় মোটরগাড়ি চালক ও পথচারীদের ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়। অফিস টাইমে বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং নিত্যদিনের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

কোথায় কত বৃষ্টি হয়েছে?
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রাঁচিতে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে—
- নিমডিহ (সরাইকেলা-খরসাওয়ান) – ৭৯.৮ মিমি
- রানিয়া – ৬৮.৬ মিমি
- মাঝগাঁও – ৬৭.৬ মিমি
- মনোহরপুর – ৫৯.৪ মিমি
- আড়কি – ৫১ মিমি
- গোয়েলখেড়া – ৫০.৪ মিমি
- চাইবাসা – ৪৮.৭ মিমি
- চন্দনকিয়ারি – ৪২ মিমি
- চক্রধরপুর – ৩৯.৬ মিমি
- খালারি – ৩৭.৪ মিমি
- পূর্ব টুন্ডি – ৩৬.২ মিমি
- নামকুম – ৩৬ মিমি
- কোটকে – ৩৫.৪ মিমি
- ডুমরি – ৩৪.৪ মিমি
৭ ও ৮ জুলাই ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সতর্কতা
আবহাওয়া বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭ ও ৮ জুলাই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, বড় গাছ কিংবা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছাকাছি না যাওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

তাপমাত্রা কমলেও বাড়ছে জলাবদ্ধতার সমস্যা
টানা বৃষ্টির কারণে রাজ্যের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সোমবার বিভিন্ন শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল—
- রাঁচি – ২৮°C / ২৩.১°C
- জামশেদপুর – ৩০.২°C / ২৬.৪°C
- ডালটনগঞ্জ – ৩৫.৪°C / ২৫.৬°C
- বোকারো – ৩১.৫°C / ২৪.২°C
- চাইবাসা – ২৮.৪°C / ২৪.৬°C
তাপমাত্রা কমলেও লাগাতার বর্ষণের ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।
আগামী কয়েক দিনও সক্রিয় থাকবে মৌসুমি বায়ু
আবহাওয়া দফতরের মতে, ঝাড়খণ্ডের ওপর মৌসুমি বায়ু এখনও সক্রিয় রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা, বজ্রপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি পরিষেবাগুলিকে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Background
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় গত কয়েক দিন ধরে ঝাড়খণ্ডের অধিকাংশ জেলায় ধারাবাহিক বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে নদী-নালা ও ড্রেনের জলস্তর বেড়েছে এবং শহরাঞ্চলে জলনিকাশি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
Impact
- রাঁচি-সহ একাধিক শহরে জলাবদ্ধতা।
- যান চলাচল ব্যাহত ও দীর্ঘ যানজট।
- নিচু এলাকায় জল ঢুকে জনজীবন বিপর্যস্ত।
- বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি।
- আগামী কয়েক দিনও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
Official Statement
আবহাওয়া বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ৭ ও ৮ জুলাই ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সব দফতরকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সরকারি আবহাওয়া সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
Public Information
জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলুন।
অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ির বাইরে বের হবেন না।
বজ্রপাতের সময় নিরাপদ পাকা ভবনে আশ্রয় নিন।
জলমগ্ন রাস্তা পার হওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।
আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করুন।
No Comment! Be the first one.