সকাল সকাল ডেস্ক
মোহামেদ সালাহর নেতৃত্বে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ নকআউট জয়ের স্বাদ পেল মিশর।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইতিহাস লিখল আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মিশর। টেক্সাসে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস Egypt vs Australia ম্যাচে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকলেও টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নকআউটে জয়ের স্বাদ পেল ফারাওদের দেশ। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের ফলে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনার মুখোমুখি হবে মোহামেদ সালাহর দল।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ নকআউটে প্রথম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। ২০০৬ ও ২০২২ সালের মতো এবারও শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হলো সকারুসদের।
Egypt vs Australia: শুরুতেই এগিয়ে যায় মিশর

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও সতর্ক ছিল রক্ষণভাগ। Egypt vs Australia ম্যাচের ১৩ মিনিটে করিম হাফিজের দারুণ ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে গোল করে মিশরকে এগিয়ে দেন ইমাম আশৌর।
গোল পাওয়ার পর মিশর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে এবং সংগঠিত রক্ষণ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণ বারবার প্রতিহত করতে থাকে। প্রথমার্ধে বলের দখলেও এগিয়ে ছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে ফেরে অস্ট্রেলিয়া
দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় অস্ট্রেলিয়া। তবে তাদের গোল আসে মিশরের ভুলে। ডিফেন্ডার মহম্মদ হ্যানি ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন।
এই আত্মঘাতী গোলেই Egypt vs Australia ম্যাচ ১-১ সমতায় ফিরে আসে। একই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩-তে, যা এক আসরে সর্বোচ্চ হিসেবে নতুন নজির গড়ে।
অতিরিক্ত সময়েও মিলল না জয়ের গোল

সমতা ফেরার পর দুই দলই কিছুটা সতর্ক হয়ে পড়ে। কেউই অযথা ঝুঁকি নিতে চায়নি। ফলে ম্যাচের গতি কিছুটা ধীর হয়ে যায়।
অতিরিক্ত সময়ে উভয় দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও কোনও দলই জয়ের গোল খুঁজে পায়নি। শেষ পর্যন্ত Egypt vs Australia ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য আশ্রয় নিতে হয় টাইব্রেকারের।
টাইব্রেকারে সালাহদের অসাধারণ স্নায়ুর লড়াই

বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার টাইব্রেকারে মুখোমুখি হয় মিশর ও অস্ট্রেলিয়া। চাপের মুহূর্তে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস দেখায় মিশরের ফুটবলাররা।
মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, মোহামেদ সালাহ এবং হোসাম আবদেলমাগুইদ চারজনই নিখুঁতভাবে পেনাল্টি থেকে গোল করেন। বিশেষ করে সালাহর ঠান্ডা মাথার পানেনকা শট দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং দলের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম দুটি শট সফল হলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হ্যারি সাউটার এবং লুকাস হেরিংটন পেনাল্টি মিস করেন। ফলে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মিশর।
ম্যাচের প্রভাব

এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল মিশর। বিশ্ব ফুটবলে আফ্রিকান দলগুলির সাফল্যের তালিকায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি আরও একটি হতাশার অধ্যায়। দীর্ঘ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে বিদায় নিতে হলো সকারুসদের।
অফিসিয়াল বিবৃতি
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মোহামেদ সালাহ বলেন, “আমরা ইতিহাস তৈরি করেছি। এটা আমাদের জন্য অসাধারণ অনুভূতি। দেশের মানুষের জন্য এই সাফল্য এনে দিতে পেরে আমরা গর্বিত। তবে আমাদের যাত্রা এখানেই শেষ নয়।”
সালাহর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, দল এখন আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্যে এগোতে চায়।
সমর্থকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
টাইব্রেকারে জয়ের পর প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনার মুখোমুখি হবে মিশর। লিওনেল মেসিদের বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হলেও এই বিশ্বকাপে শৃঙ্খলাবদ্ধ দলগত ফুটবল, আত্মবিশ্বাস এবং দুর্দান্ত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে সালাহর দল।
Egypt vs Australia ম্যাচ শুধু একটি জয় নয়, এটি মিশরের ফুটবল ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রথম নকআউট জয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে আর্জেন্তিনার বিপক্ষে মিশরের পরবর্তী মহারণের দিকে, যেখানে ইতিহাসের আরেকটি নতুন অধ্যায় লেখার স্বপ্ন দেখছেন সালাহরা।
No Comment! Be the first one.