সকাল সকাল ডেস্ক।
GI-ট্যাগযুক্ত Rewa Sundarja Mango প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে UAE-তে রপ্তানি, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলল।
ভারতের জিআই-ট্যাগযুক্ত কৃষি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি আরও এক ধাপ এগোল। Rewa Sundarja Mango-এর প্রথম বাণিজ্যিক রপ্তানি সফলভাবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে (UAE) পৌঁছে দিয়েছে কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য রপ্তানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এপিইডিএ)। এই পদক্ষেপ শুধু একটি নতুন রপ্তানি অধ্যায়ের সূচনা নয়, বরং মধ্যপ্রদেশের আমচাষিদের জন্য আয় বৃদ্ধির নতুন দিগন্তও খুলে দিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, Rewa Sundarja Mango-এর এই সাফল্য ভবিষ্যতে ভারতের অন্যান্য জিআই-ট্যাগযুক্ত কৃষি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
Rewa Sundarja Mango-এর প্রথম বাণিজ্যিক রপ্তানি
ভারত সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অধীনস্থ এপিইডিএ দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রদেশ সরকারের উদ্যানপালন বিভাগ, কৃষক উৎপাদক সংগঠন (FPO), রপ্তানিকারক, প্যাক হাউস অপারেটর এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছিল। সেই প্রচেষ্টার ফলেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে একজন উপযুক্ত ক্রেতা চিহ্নিত হয় এবং Rewa Sundarja Mango-এর প্রথম বাণিজ্যিক রপ্তানি সম্ভব হয়।
২৬ জুন ২০২৬ তারিখে মেসার্স সল্ট রেঞ্জ ফুডস প্রাইভেট লিমিটেড এক মেট্রিক টন জিআই-ট্যাগযুক্ত আম সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে পাঠায়। এই চালান ভবিষ্যতে নিয়মিত রপ্তানির সম্ভাবনাকেও আরও শক্তিশালী করেছে।

কৃষকদের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুযোগ
এই রপ্তানির সবচেয়ে বড় সুফল পাচ্ছেন মধ্যপ্রদেশের রেওয়া অঞ্চলের আমচাষিরা। স্থানীয় বাজারে যেখানে Rewa Sundarja Mango প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হতো, সেখানে রপ্তানিকারক কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে আম সংগ্রহ করেছেন।
অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা অতিরিক্ত মূল্য কৃষকদের হাতে পৌঁছেছে। ফলে উন্নত মানের উৎপাদন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং ফসল-পরবর্তী পরিচর্যার প্রতি কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কীভাবে সম্পন্ন হল রপ্তানি প্রক্রিয়া
রপ্তানির জন্য উৎকৃষ্ট মানের Rewa Sundarja Mango সংগ্রহ করা হয় মেসার্স সেওন্ধা ফার্মার প্রোডিউসার কোম্পানি লিমিটেড এবং রেওয়ার গোবিন্দগড়ের প্রগতিশীল কৃষক সোনু গুপ্তের কাছ থেকে।
এরপর উত্তরপ্রদেশের ভাদোহিতে অবস্থিত এপিইডিএ অনুমোদিত প্যাক হাউসে আমগুলির গ্রেডিং, বাছাই এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্যাকেজিং সম্পন্ন করা হয়। ফাইটোস্যানিটারি পরীক্ষাসহ সমস্ত রপ্তানি-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বারাণসী বিমানবন্দর থেকে চালানটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে পাঠানো হয়।
GI ট্যাগের গুরুত্ব আরও বাড়ল
এই সফল রপ্তানি আবারও প্রমাণ করল যে জিআই (Geographical Indication) ট্যাগ শুধুমাত্র একটি স্বীকৃতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে একটি কৃষি পণ্যের আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলার শক্তিশালী মাধ্যম।
আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –
Rewa Sundarja Mango তার অসাধারণ মিষ্টতা, মনোমুগ্ধকর সুগন্ধ, আঁশবিহীন শাঁস এবং স্বতন্ত্র স্বাদের জন্য বহুদিন ধরেই পরিচিত। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বৈশিষ্ট্যগুলিই ভারতীয় আমের ব্র্যান্ড ভ্যালু আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি উদ্যোগ ও এপিইডিএর ভূমিকা
এপিইডিএ দীর্ঘদিন ধরে দেশের জিআই-ট্যাগযুক্ত কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে। রপ্তানি অবকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং কৃষকদের রপ্তানিমুখী উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
২৬ জুন ২০২৬ এই ঐতিহাসিক রপ্তানিকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কৃষকদের এই সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়।
ভবিষ্যতে কী প্রভাব পড়বে
বিশেষজ্ঞদের মতে, Rewa Sundarja Mango-এর এই বাণিজ্যিক রপ্তানি ভারতের অন্যান্য জিআই-ট্যাগযুক্ত কৃষিপণ্যের জন্যও নতুন আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি করবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রদেশকে উচ্চমানের আম রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।
এছাড়া কৃষকদের টেকসই আয় বৃদ্ধি, উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, রপ্তানি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং ভারতীয় কৃষিপণ্যের বৈশ্বিক পরিচিতি বৃদ্ধিতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারেও Rewa Sundarja Mango-এর চাহিদা বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.