সকাল সকাল ডেস্ক
Minab School Missile Attack ঘিরে নতুন বিতর্ক, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রহস্য কাটছে না বলে ইঙ্গিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের
ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে সংঘটিত প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। Minab School Missile Attack-এর প্রকৃত দায় কার, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ঘটনার সময় চারদিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ হচ্ছিল, ফলে হামলার উৎস নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত কঠিন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের সূচনালগ্নে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ওই ঘটনায় বহু ছাত্রছাত্রী ও স্কুলকর্মী নিহত হন। হামলার পর থেকেই Minab School Missile Attack আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, কূটনৈতিক মহল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
হামলার পটভূমি
মিনাব শহর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে ওই এলাকায় একাধিক সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। সেই সময় স্কুলে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে।
মার্চ মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন জল্পনা
Minab School Missile Attack নিয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তদন্তকারীরা হয়তো কখনও পুরো সত্য উদঘাটন করতে পারবেন না। তাঁর মতে, সংঘাতের সময় একাধিক পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছিল, ফলে দায় নির্ধারণ অত্যন্ত জটিল।
তিনি বলেন, “কেউ কেউ বলছেন এটি আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। আবার এমনও হতে পারে যে তা নয়। আমি এখনও এমন কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ দেখিনি যা আমাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে।”
জি-৭ সম্মেলনের সময়ও ট্রাম্প ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তখন তিনি এটিকে একটি সম্ভাব্য ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ বলে উল্লেখ করলেও সরাসরি দায় স্বীকার করেননি। তাঁর বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইরানের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
হামলার পরপরই ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে দায়ী করে। তেহরানের দাবি, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয় বরং একটি পরিকল্পিত হামলা। যদিও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদের জরুরি বৈঠকে Minab School Missile Attack-কে ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, স্কুলের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধনীতি লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ।
ভিডিও ফুটেজ নিয়ে বিতর্ক
গত মার্চে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে দ্রুতগতিতে এসে স্কুল ভবনে আঘাত হানতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। মেহের নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ফুটেজে বিস্ফোরণের দৃশ্যও দেখানো হয়।
তবে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থাগুলো এখনও ভিডিওগুলোর সত্যতা ও উৎস যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ফুটেজ প্রকাশ পেলেও Minab School Missile Attack-এর দায় নির্ধারণে তা এখনও চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়নি।
আন্তর্জাতিক প্রভাব ও কূটনৈতিক সংকট
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত ছিল, তখন এই হামলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আব্বাস আরাগচির অভিযোগ, হামলার ফলে আলোচনার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পারস্পরিক আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের একটি অংশও মনে করছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
সরকারি অবস্থান ও জনসাধারণের জন্য তথ্য
এখনও পর্যন্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর হামলা সংক্রান্ত কোনও চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দেবেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে দায় নির্ধারণ করা হয়নি।
Minab School Missile Attack-এর প্রকৃত দায় কার, তা নিয়ে বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে। চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন, জল্পনা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বহাল থাকবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
No Comment! Be the first one.