সকাল সকাল ডেস্ক
কলকাতার লেকটাউনে স্থাপিত ৭০ ফুট উচ্চতার লিওনেল মেসির মূর্তি একসময় ফুটবলপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সম্প্রতি সেই মূর্তিটি ক্রেনের সাহায্যে নামিয়ে ফেলা হয়। এতে অনেক মেসিভক্তের মন খারাপ হলেও সেই হতাশা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ, কলকাতার মূর্তি নামার অল্প সময়ের মধ্যেই আর্জেন্তিনার পাটাগোনিয়া অঞ্চলে উন্মোচিত হয়েছে আরও বৃহৎ এক মেসি-মূর্তি, যার উচ্চতা ৮৫ ফুট। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মেসি-মূর্তির স্বীকৃতি এখন আর্জেন্তিনার দখলে।
পাটাগোনিয়ার তেলসমৃদ্ধ শহর কুত্রাল কো-তে ১৬ জুন এই বিশাল ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়। আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপ অভিযানের সূচনাদিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয় মূর্তিটি। প্রায় ৭০ টন ইস্পাত দিয়ে তৈরি এই শিল্পকর্মের উচ্চতা সাড়ে ২৫ মিটার বা প্রায় ৮৫ ফুট। ভাস্কর ৬১ বছর বয়সি আলদো বেরোইসা স্বীকার করেছেন, মূর্তিটি হয়তো শতভাগ মেসির মুখাবয়বের সঙ্গে মেলে না, তবে আকারের দিক থেকে এটিই এখন বিশ্বের বৃহত্তম মেসি-মূর্তি।
এই ভাস্কর্যের বিশেষত্ব শুধু উচ্চতায় নয়, এর ভঙ্গিমাতেও। এখানে মেসিকে দাঁড়িয়ে নয়, হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায় দেখানো হয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্তিনার জয়ের পর লুসাইল স্টেডিয়ামে মেসির সেই আবেগঘন মুহূর্তকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এক হাতে জার্সি আঁকড়ে ধরা এবং অন্য হাতের তর্জনী আকাশের দিকে তোলা—যা ছিল তাঁর প্রয়াত দিদিমার প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।
ভাস্কর আলদো বেরোইসা জানান, এই মূর্তি নির্মাণে তাঁর প্রায় ১৮ মাস সময় লেগেছে। তাঁর মতে, মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি আর্জেন্তিনার পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক। তাই এই কাজ তাঁর কাছে শিল্পচর্চার পাশাপাশি জাতীয় গর্বের বিষয়ও।
এদিকে কলকাতার লেকটাউনের মূর্তিটি ধ্বংস করা হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেটিকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে। যদিও উচ্চতার বিশ্বরেকর্ড আর কলকাতার দখলে নেই, তবু ফুটবলপ্রেমীদের আবেগে সেই মূর্তির গুরুত্ব অটুট রয়েছে।
মেসিকে ঘিরে উন্মাদনা বিশ্বজুড়েই অব্যাহত। মাঠে তাঁর সাফল্য যেমন আলোচনায়, তেমনই মূর্তি, ম্যুরাল ও স্মারকের মাধ্যমে ভক্তদের হৃদয়ে তিনি ক্রমেই আরও বড় হয়ে উঠছেন।
No Comment! Be the first one.