সকাল-সকাল ডেস্ক:
তেহরান/ওয়াশিংটন | ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে চলমান সংঘর্ষবিরতির মাঝেই ওমান উপসাগর-এ এক নতুন উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা দুই দেশের শান্তি আলোচনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী রবিবার সতর্ক করে জানিয়েছে, একটি কন্টেনার জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটিকে দখলে নেওয়ার জন্য আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমেরিকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ওমান সাগরে সশস্ত্র জলদস্যুতার মতো কাজ করেছে।”
ইরান দাবি করেছে যে মার্কিন বাহিনী জাহাজটির নেভিগেশন যন্ত্র ধ্বংস করেছে এবং ডেকে নিজেদের সেনা মোতায়েন করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই “সশস্ত্র সামুদ্রিক দস্যুতার” জবাব শীঘ্রই দেওয়া হবে।
অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের একটি ডেস্ট্রয়ার ইরানের পতাকাবাহী একটি জাহাজে একাধিকবার গুলি চালায়, কারণ সেটি মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। US Central Command এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে অন্তত ২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তন বা ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি দল ইসলামাবাদ-এ পাঠাচ্ছেন। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা অবরোধ না তুললে কোনো ধরনের আলোচনা সম্ভব নয়।
যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি ভবন বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, হরমুজ প্রণালী-তে মার্কিন অবরোধ সংঘর্ষবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প “কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন।”
অন্যদিকে ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছেন, একটি ইরানি মালবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ এড়ানোর চেষ্টা করছিল, যা এখন আমেরিকার দখলে রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটিতে কী রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.