সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন/তেহরান: ইরানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের শাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের মধ্যেই মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত মিলতেই ইজরায়েল আক্রমণের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই উত্তেজনার আবহে ইরানের সংসদের স্পিকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশটির ওপর হামলা হলে ইরান পিছিয়ে যাবে না এবং আমেরিকা ও ইজরায়েলকে উপযুক্ত জবাব দেবে।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল একাধিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সাহায্যে আমেরিকা প্রস্তুত— এমন মন্তব্য করার পর থেকেই ইজরায়েলকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প বারবার বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ না করার জন্য ইরানকে সতর্ক করেছেন। শনিবার তিনি বলেন, আমেরিকা সব রকমভাবে ইরানের বিক্ষোভকারীদের পাশে রয়েছে। এমনকি তিনি সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার বিকল্প নিয়েও আলোচনা শুরু করেছেন বলে খবর।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও ফোনে কথা বলেন। আলোচনায় ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার পাশাপাশি গাজা ও সিরিয়ায় চলা বিক্ষোভ পরিস্থিতিও উঠে আসে।
এদিকে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের লেখিকা জে.কে. রাওলিং। রবিবার এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ দেওয়া পোস্টে তিনি ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত ইরানিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করাই তাঁর উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকা যদি সামরিক হামলা চালায়, তবে ইজরায়েল ও আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি এবং নৌপরিবহণ ব্যবস্থা ইরানের নিশানায় থাকবে। ট্রাম্পের তেহরানকে দেওয়া সতর্কবার্তার পরই এই পাল্টা হুঁশিয়ারি আসে।
গালিবাফ বলেন, “আত্মরক্ষার স্বার্থে ইরান সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। এতে আমেরিকার অহংকার ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ক্ষমতাকে খাটো করে দেখছেন। খুব শিগগিরই সেই ভুল ধারণা ভেঙে যাবে।”
No Comment! Be the first one.