চলে গেলেন কিংবদন্তি: ৯০ ছোঁয়ার আগেই থেমে গেল ধর্মেন্দ্রর জীবনের আলো

সকালে সকালে ডেস্ক

মুম্বই

বলিউডে নেমে এসেছে শোকের কালো মেঘ। এবার আর অলৌকিক প্রত্যাবর্তন ঘটল না। ঠিক ১১ নভেম্বরই হঠাৎ গুজব ছড়িয়েছিল ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর, কিন্তু ভক্তদের প্রার্থনায় সেইবার মৃত্যুকে হার মানিয়ে আবার ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু সোমবার আর সেই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হল না। দুপুর গড়াতেই গোটা দেশ জেনে যায়—চলে গেলেন বলিউডের প্রিয় ‘হি-ম্যান’। থেমে গেল এক উজ্জ্বল অধ্যায়।

এক জীবনে ২৪৭টি ছবি, চূড়ান্ত জনপ্রিয়তার স্বাদ, ‘জয়-ভিরু’ আইকনিক জুটি—সেইসব গল্প আজ ইতিহাস। বহুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছিলেন ধর্মেন্দ্র। শেষ সময়টা কাটছিল তাঁর প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌরের সঙ্গেই। ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছিলেন বলেই পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগেই তাঁকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়—আপাতত রুটিন চেকআপের জন্য, এমনটাই জানা গিয়েছিল।

হাসপাতালের দোরগোড়ায় লড়াই, শেষ পর্যন্ত হার মানলেন হি-ম্যান

সোমবার সকালে হঠাৎ পরিস্থিতি বদলে যায়। জানা যায়, মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে; দেওয়া হয়েছে ভেন্টিলেশন। চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি হয়, ঘণ্টায় ঘণ্টায় পর্যবেক্ষণ চলছিল। দুপুর হতেই খবর আসে—সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেছেন কিংবদন্তি।

ডিসেম্বরে ৯০—ঠিক তার আগেই থেমে গেল দীপ্তিময় পথচলা

ডিসেম্বরে ৯০-এ পা দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। বয়স ৮৯ হলেও তিনি থামেননি একদিনও। এখনও বলিউডে সমান দাপটে কাজ করে যাচ্ছিলেন। জয়া বচ্চন ও শাবানা আজমির সঙ্গে করণ জোহরের ‘রকি ঔর রানি কি প্রেম কাহানি’-তে তাঁর অভিনয় দর্শকদের আবার সেই পুরনো ধর্মেন্দ্রকে মনে করিয়ে দিয়েছিল। সদ্য প্রকাশ্যে এসেছিল তাঁর পরবর্তী ছবির প্রথম ঝলকও। কিন্তু সেই ছবি আর তাঁর জীবনে মুক্তির আলো দেখল না।

শেষ দেখা দেখতে ছুটলেন হেমা মালিনী—ভারত প্রার্থনায়, তবুও রক্ষা হল না

সোমবার বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে নেমে আসে তৎপরতা। তাড়াহুড়ো করে পৌঁছন হেমা মালিনীও। দেশজুড়ে তখন প্রার্থনা একটাই—ধর্মেন্দ্র দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রার্থনা অধরাই রইল।

চলে গেলেন রূপোলি পর্দার এক অদম্য নায়ক, এক অমলিন স্মৃতি। ভারতীয় চলচ্চিত্রের আকাশ থেকে খসে পড়ল এক দীপ্ত নক্ষত্র।

Read More News

Read More