সকাল সকাল ডেস্ক।
কলকাতা
রাজবংশী সমাজের বিশিষ্ট নেতা ও সমাজসংস্কারক রায়সাহেব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার মৃত্যুবার্ষিকীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রদ্ধাঞ্জলি জানালেন। তিনি জানান, “রাজবংশী সমাজের প্রাণপুরুষ ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার প্রয়াণ দিবসে তাঁকে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁর ভাবনা ও আদর্শ কখনো মরে যায়নি এবং তা ভবিষ্যতেও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে কোচবিহারে পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তাঁর জন্মস্থান খলিসামারিতে এর দ্বিতীয় ক্যাম্পাসও চালু হয়েছে। তাঁর জন্মদিনকে রাজ্য সরকার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। তাঁর বাড়িকে সংস্কার করে ‘পঞ্চানন বর্মা সংগ্রহশালা ও গবেষণাকেন্দ্র’ গড়ে তোলা হয়েছে এবং তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তিও স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজবংশী ভাষাকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কামতাপুরী, সাঁওতালী, কুরুখ, কুড়মালী, নেপালী, হিন্দি, উর্দু, ওড়িয়া, পাঞ্জাবি, তেলুগু প্রভৃতি ভাষাকেও সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। রাজবংশী সমাজের উন্নয়নের জন্য রাজবংশী ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, রাজবংশী কালচারাল একাডেমি, রাজবংশী ভাষা অ্যাকাডেমি এবং কামতাপুরী ভাষা অ্যাকাডেমি গঠন করা হয়েছে। প্রায় ২০০টি রাজবংশী স্কুলকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য পুলিশে ‘নারায়ণী ব্যাটেলিয়ন’ গঠন করা হয়েছে যার সদর দফতর মেখলিগঞ্জে। বাবুরহাটে মহাবীর চিলা রায়ের ১৫ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জের মূর্তি বসানো হয়েছে। এছাড়া কোচ-কামতাপুরী-রাজবংশী সমাজের ঐতিহ্য ও গৌরবকে সম্মান জানিয়ে কোচবিহার শহরকে হেরিটেজ সিটির মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
No Comment! Be the first one.