নারী মুক্তি আন্দোলনঃ মানব সমাজ সংরচনার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ

সকাল সকাল ডেস্ক
মনোতোষ মণ্ডল, বোকারো

আমাদের সমাজ — মানুষের সমাজ। বস্তুতঃ নারী ও পুরুষের সম্মিলিত সমাজ। বাস্তবে নারী ও পুরুষ দুটো ভিন্ন সত্ত্বা নয় — একই সত্ত্বার দুটো দিক। যেমন, একটি কাগজের দুটো পৃষ্ঠাই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি মানব সমাজ নির্মাণকল্পে নারী ও পুরুষ উভয়েরই ভূমিকা সমভাবে প্রযোজ্য। অতএব সুষ্ঠু সমাজ সংরচনার ক্ষেত্রে কেউ অবজ্ঞেয় নয়, কেউ অপাংক্তেয় নয়। সুতরাং সামাজিক উন্নয়ন কল্পে নারী ও পুরুষ উভয়কেই হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, তবেই মানব সমাজ — মানব সমাজ রূপে পরিগণিত হতে পারবে। বাস্তব সত্য এই যে, নারী ও পুরুষ কেউ কারো উপর নির্ভরশীল নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক। নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা সম্বন্ধে আলোচনা প্রসঙ্গে বিংশ শতাব্দীর মহান দার্শনিক ও সত্যদ্রষ্টা ঋষি শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার বলেছেন — ” মানুষের সমাজে কেউ অপাংক্তেয় নয়। একজন এক ‘শ বছরের অতি বৃদ্ধা বিধবা মহিলা তারও জীবনের মূল্য অপরিসীম। এই বিশ্ব সভায় সেও বর্জনীয় নয়, সেও তুচ্ছ নয়। আমরা তার সার্বিক মূল্যায়ন করতে পারিনি বলে ভাবি সে বুঝি পৃথিবীর বোঝা। এরকম ভাবাটাই আমাদের বুদ্ধির অল্পতার কারণ।”
অতএব উপরোক্ত বক্তব্যটি থেকে এটাই স্পষ্ট যে, নারী রূপে জন্মগ্রহণ করাটা তার জন্য মোটেই অপরাধের বিষয় নয়, আসল কথাটা হচ্ছে এই যে, তাঁর যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে আমরা পারি না আর তাছাড়া সমাজের উন্নয়নে তাঁর কষ্টার্জিত ভূমিকাকে মোটেই সমর্থন করতে চাই না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে গিয়ে পুরুষ জাতি সর্বদাই নারী জাতির প্রগতিপথ অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে এসেছে। কারণ একটাই — তাঁরা যেন কোনো মতেই দক্ষতার ক্ষেত্রে এগিয়ে না যায়। আমরা অবশ্যই ভূলে যাই যে, নারী ও পুরুষ একই পরমপিতার সন্তান। অতএব মহান সমাজ শাস্ত্রবিদ্ শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার বলেছেন — ” প্রকৃতির সন্তান হিসেবে যে আলো, হাওয়া, মাটি, জল পুরুষের ভোগ্য হিসেবে থাকে, তার অধিকার অবাধভাবে নারীর ক্ষেত্রেও স্বীকার করে নিতে হবে।” অতএব জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁদেরকেও এগিয়ে যাবার সমান সুযোগ ও অবসর প্রদান করতে হবে। আর এটাই হবে মানুষ হিসেবে আমাদের একান্ত দায়িত্ব।
একটা কথা অবশ্যই স্মরণীয় যে, নারী ও পুরুষ উভয়েই পরমপিতার সন্তান। তিনি উভয়কেই শক্তি, সামর্থ্য ও বুদ্ধি সমানভাবেই দিয়েছেন। কিন্তু সেই শক্তি ও সামর্থ্যের যথাযথ উপযোগ না করার জন্য আমরাই দায়ী। সুতরাং জীবনযুদ্ধে মানুষ তাঁর অন্তর্নিহিত গুণাবলীর উৎকর্ষ সাধনে, যিনি যত বেশি সচেষ্ট, তিনি তত বেশি কাজে লাগাতে পারবেন ও তত বেশি সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। কারণ এটাই প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। অতএব প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিটি বস্তুর উপর সবারই সমান অধিকার আর প্রকৃতি প্রদত্ত প্রতিটি সম্পদের যথোচিত ও বিচার সমর্থিত প্রয়োগ করাই আমাদের পবিত্র কর্তব্য।
যদিও প্রাকৃতিক নিয়মে নারী ও পুরুষ উভয়েই একই পরমসত্ত্বার অবদান, তবুও বাস্তব ক্ষেত্রে নারী জাতি পুরুষের দ্বারা সর্বৈবভাবেই অবহেলিত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত ও অবদমিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যধিক পরিমাণে নির্যাতীতাও বটে। সুষ্ঠু ও বলিষ্ঠ সমাজ নির্মণকল্পে এটাই হচ্ছে — সবচেয়ে বড় বাধা। বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থাৎ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় আমরা নারী জাতিকে পরান্নভোজী ও পরমুখাপেক্ষী করে রাখাটাকেই — আমাদের সর্বাধিক সফলতা মনে করি যা সমাজ সংরচনার ক্ষেত্রে মস্ত বড় বাধা।
আমাদের সবচেয়ে বড় দোষ — মহিলাদেরকে আমরা সব সময় রান্না ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে বেঁধে রাখার চেষ্টা করি। আর এটাকেই নারীর মর্যাদা রক্ষার সাথে সাথে পুরুষের পৌরুষ প্রদর্শন মনে করি। নারী সমাজকে অবদমিত ও অবহেলিত রেখেই আমরা আমাদের পুরুষত্ব জাহির করতে অভ্যস্ত। এর পিছনে দুটো মূখ্য কারণ — এক, নারীর শারীরিক দুর্বলতা ও দুই, তাঁদের আর্থিক পরনির্ভরতা ও সকল কাজে পরমুখাপেক্ষিতা। সুতরাং সামাজিক অগ্রগতির পথ নির্বাধ করার নিমিত্তে নারী জাতিকে অবশ্যই আত্মনির্ভরশীল করার জন্য আমাদেরকেই সচেষ্ট হতে হবে। আর এটাই হবে সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবে আমাদের প্রকৃষ্ট ভূমিকা।
একথা অবশ্যই অতি সত্য যে, শারীরিক সংরচনার ক্ষেত্রে নারী জাতি অনেকটাই দুর্বল। কারণ প্রতিটি জীবের ক্ষেত্রেই এটা স্বাভাবিক ভাবেই পরিলক্ষিত। স্নায়বিক দুর্বলতার কারণে তাঁরা মনের দিক দিয়েও অনেকটা দুর্বল। তাই নারীরা অতি সহজেই পুরুষদের পদতলে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে। আর তাঁদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই পুরুষ সমাজ নারীদেরকে বস্তুর ন্যায় ব্যবহার করে এসেছে। এটাই অবশ্যই বিবেকসম্মত সুবিবেচনা নয় — এটা স্পষ্টভাবেই অবিবেকিতা। এক কথায় দুর্বলের প্রতি সবলের শোষণ যন্ত্র। যেহেতু কোনো রকম শোষণকেই প্রশ্রয় দেওয়া অমানবিকতা, সুতরাং নারী জাতির অবমাননাও এক ধরণের পাশবিকতা, মানবতা নয়। মানুষ হিসেবে আমাদের একান্ত উচিত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মানবকল্যাণের পথে এগিয়ে যাওয়া। কাউকে পিছনে রেখে এগিয়ে যাওয়া যায় না। তাই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন —
” যারে তুমি নীচে ফেল সে তোমারে বাঁধিবে যে নীচে,
পশ্চাতে রেখেছ যারে সে তোমারে পশ্চাতে টানিছে।”
সুতরাং মানুষ হিসেবে আমাদের ধর্ম — অগ্রসরের ক্ষেত্রে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া। কারণ সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে চলার মধ্যেই সামাজিক সার্থকতা বিদ্যমান। সহযাত্রীদের মধ্যে কেউ যদি যাত্রাপথে পিছিয়ে পড়ে, গভীর রাতের ঘনতমসায় দমকা হাওয়ায় যদি কারো দীপ নিভে যায়, তবে তাঁকে অন্ধকারের মধ্যে একলাটি ছেড়ে চলে যাওয়াটা মোটেই মানবোচিত কাজ বলে বিবেচিত হবে না। তাই তাঁকেও হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াতেই মানবতা পরিলক্ষিত হয়। সহযাত্রীদের একান্ত উচিত — নিজের প্রদীপের আলোয় সহযাত্রীর নিভে যাওয়া দীপশিখাটি পুনরায় প্রজ্জ্বলিত করে দেওয়া। এই কথা মনে রেখেই জনৈক কবি লিখেছেন:–
” বর্তিকা লইয়া হাতে, চলেছিল একসাথে,
পথে নিভে গেছে আলো, পড়ে আছে তাই।
তোমরা কি দয়া করে, তুলিবে না হাত ধরে
অর্ধদণ্ড তার তরে থামিবে না ভাই?
হ্যাঁ, অবশ্যই থামতে হবে। কারণ তা না করলে সমাজের মিলন সূত্রটি হারিয়ে যাবে। অতএব সব সময় একটা কথা অবশ্যই স্মরণীয় —
সমমন্ত্রেণ জায়তে সমাজঃ
অর্থাৎ এক সাথে মিলে মিশে যাওয়ার নাম — সমাজ। সুতরাং পিছিয়ে পড়া মানুষটিকেও এক সঙ্গে টেনে নিয়ে যাওয়াই, সামাজিক বন্ধন রক্ষা করার — সঞ্জীবনী শক্তি। সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে মহান দার্শনিক ও সমাজবেত্তা শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার বলেছেন —
“তাই পাপী, তাপী, চোর, চরিত্রহীন, অপরাধী — যে কেউ হোক না কেন, এগুলো তার বাইরের পরিচয়। ভেতরে সে পবিত্র হওয়ার সম্ভাবনায় ভরপুর। সেই সম্ভাবনার উদ্বোধন করাই সদবিপ্রদের ব্রত। তারা মানবিক মূল্য প্রদানে কখনও বাছ-বিচার করবে না। অতি ঘৃণ্য কাজ করার জন্য শাস্তি তার নিশ্চয়ই হবে কিন্তু তাকে ঘৃণা করে, না খেতে দিয়ে শুকিয়ে মেরে ফেলা মানবতাবাদী সদবিপ্রদের দ্বারা কখনও হয়ে উঠবে না। “
অতএব তিনিই সদ্বিপ্র যিনি উচ্চ-নীচ, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র সবাইকে সমানভাবে ভালোবাসতে পারেন। এতদর্থে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কারণ তিনি সমাজবর্জিত রোগগ্রস্ত যবন হরিদাসকে নিজের হাতে সেবা করে মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখেছেন। অতএব শ্রী চৈতন্যদেবকে সম্মান প্রদর্শন করার একটাই মহামন্ত্র:–
“সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।”
যেহেতু নারী-পুরুষ দুইই পরমপিতার স্নেহের সন্তান, অতএব জীবনের অভিব্যক্তি ও স্বাধিকারের ক্ষেত্রে উভয়েরই সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকার থাকা একান্ত প্রয়োজন। কারণ সুদৃঢ় সামাজিক সংরচনার ক্ষেত্রে উভয়েরই ভূমিকা সমভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নারীদের মধ্যেও সম্ভাবনার কোন অভাব নেই। কিন্তু যথোচিত পরিবেশের অভাবে নারীদের মধ্যে নিহিত সম্ভাবনা সমূহ প্রস্ফুটিত হবার সুযোগ পায় না। বরং প্রস্ফুটিত হবার আগেই নষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং প্রবুদ্ধ পুরুষ জাতির একান্ত উচিত — তাঁদেরকেও হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর এর জন্য সমমৈত্রীভিত্তিক ও সহযোগিতা মূলক স্বচ্ছ ও সুন্দর মানবীয় ব্যবহার একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু স্বার্থান্বেষী পুরুষ জাতি তাঁদের দ্বারা পরিচালিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে অক্ষত রাখার জন্য নারীদের সাথে প্রভু-ভৃত্য সুলভ আচরণকে বলবৎ রাখার জন্য সর্বদাই সক্রিয়।
আজকের পরিপ্রেক্ষিতে যৎকিঞ্চিৎ নারী সামাজিক উন্নয়নে সহভাগী হলেও তাঁদের সংখ্যা অতিশয় নগণ্য। কারণ যথোচিত শিক্ষার অভাবে তাঁরা আজো অবহেলিত, অবদমিত, অবজ্ঞেয় ও অপাংক্তেয়। সুতরাং সুশিক্ষার মাধ্যমে — তাঁদের অগ্রগতির পথ পরিষ্কার করে দিতে হবে — এটাই হবে প্রকৃতপক্ষে নারী মুক্তি আন্দোলনের — প্রারম্ভিক পদক্ষেপ।
শিক্ষাই হচ্ছে — মানব সমাজের মেরুদণ্ড। শিক্ষাই হচ্ছে — মানব সভ্যতাকে উন্নীত করার একমাত্র বিকল্প। শিক্ষাই হচ্ছে — সমস্ত রকম সামাজিক ব্যাধির মহৌষধি। আর বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে নোতুন প্রজন্মকে সূশিক্ষিত করার সর্বাধিক শাণিত হাতিয়ার — মহান দার্শনিক ও সত্যদ্রষ্টা ঋষি শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার প্রবর্তিত নব্যমানবতাবাদ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রণয়ন। কারণ এই পদ্ধতিতে মানব শিশুর ত্রিভৌমিক বিকাশের উপর যথোচিত ধ্যান দেওয়া হয়। এখানে শিক্ষা মানে, কেবল ঔপচারিক শিক্ষা নয়, এখানে শিক্ষা মানে মানব মনে অন্তর্নিহিত সমস্ত রকম বন্ধনের বীজকে সমূলে বিনষ্ট করা। সুতরাং শিক্ষারম্ভের পূর্বেই এখানে ছাত্রদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় — সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে। অতএব বিদ্যা তাই যা মানুষকে সব রকম বন্ধন থেকে চিরতরে মুক্তি দেয়। প্রাকৃতিক নিয়মানুযায়ী মনুষ্য যোনিতে জন্মগ্রহণ করার অব্যবহিত পরেই মানুষ আধিভৌতিক, আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের আওতায় এসে যায়। আর প্রতিটি মানুষ অজ্ঞাতসারেই এই সব বন্ধন থেকে মুক্তি পেতে চায়। এই সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে জগদ্গুরু শ্রী শ্রী আনন্দমূর্তিজী তাঁর রচিত “নমঃ শিবায় শান্তায়” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন:–
“মানুষ এই ত্রিবিধ বন্ধন থেকে মুক্তি পাবার প্রয়াস করে। এই প্রয়াস যার দ্বারা সাময়িক ভাবে সংসাধিত হয় তাকে বলা হয় — অর্থ। সাময়িক ভাবে কিন্তু বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতে যার দ্বারা সংসাধিত হয় তাকে বলি — মধ্যার্থ। আর যার দ্বারা স্থায়ীভাবে সংসাধিত হয় তাকে বলি — পরমার্থ।”
এই পরমার্থই বাস্তবপক্ষে — বিদ্যা পদবাচ্য। কারণ বিদ্যার্জনের মাধ্যমেই পরমার্থ সাধনের সন্ধান পাওয়া যায়। অতএব এটাই সুস্পষ্ট যে, একমাত্র বিদ্যার্জনের মাধ্যমেই সমস্ত রকম বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুতরাং যথোচিত শিক্ষাই একমাত্র মাধ্যম যা নারী ও পুরুষ উভয়কেই সকল রকম বন্ধন থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম। অতএব নারী মুক্তি আন্দোলনের জন্য জাগতিক ক্ষেত্রে বিশেষ আন্দোলনের কোন প্রয়োজন নেই। এখানে আরেকটা কথা স্মরণীয় যে, মুক্তি মানে অবাধ স্বাধীনতা বা বিশৃঙ্খল স্বেচ্ছাচারিতা নয়। মুক্তি মানে সবরকম সামাজিক আবিলতা, উচ্ছৃঙ্খলতা ও ভাবজড়তা থেকে দূরে থাকা। যথোচিত অনুশাসনের মাধ্যমে সুশৃঙ্খলা বজায় রেখে শোষণবিহীন সমাজ নির্মাণ করাই মুক্ত জীবনযাত্রার একমাত্র লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে জনৈক কবি বলেছেন:–
আপনার তরে বিব্রত রহিতে আসে কেহ অবনী পরে।
সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।।

Read More News

Read More