Indus Water Treaty Crisis

Indus Water Treaty Crisis: 7 বড় কারণে ফের বাড়ল ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা, কড়া বার্তা পাক সেনাবাহিনীর

সকাল সকাল ডেস্ক

Indus Water Treaty Crisis ঘিরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কড়া অবস্থান, জল অধিকার রক্ষায় ‘সব ধরনের পদক্ষেপ’-এর ঘোষণা; অনড় ভারতও।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে Indus Water Treaty Crisis নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ক্রমশ কঠোর হওয়ায় সীমান্তের বাইরে জল-রাজনীতি এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর ইসলামাবাদ জানিয়েছে, দেশের ন্যায্য জলপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, ভারতও স্পষ্ট করেছে যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কড়া বার্তা

ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ২৭৬তম কর্পস কমান্ডার্স সম্মেলনে Indus Water Treaty Crisis-কে কেন্দ্র করে বিস্তৃত আলোচনা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশের জনগণের প্রত্যাশা এবং সরকারের নির্দেশনার ভিত্তিতে জল অধিকার রক্ষায় সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ভারত নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। সম্প্রতি বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ স্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে। ভারতের মতে, সন্ত্রাসবাদ এবং স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একইসঙ্গে চলতে পারে না।

১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী, রাভি, বেয়াস এবং শতদ্রু নদীর জল ব্যবহারের অধিকার ভারতের, আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর জল ব্যবহারের মূল অধিকার পাকিস্তানের। চুক্তি কার্যকর থাকাকালীন বর্ষাকালে বন্যার পূর্বাভাস এবং জলপ্রবাহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভারত নিয়মিত পাকিস্তানকে জানাত। তবে চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর সেই বাধ্যবাধকতা বর্তমানে কার্যকর নয়।

বিবৃতিতে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সিদ্ধান্তও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল, ভারত যদি সিন্ধু নদী ব্যবস্থার জলপ্রবাহে হস্তক্ষেপ করে, তবে তা পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গুরুতর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Indus Water Treaty Crisis

ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত

ভারত অবশ্য নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেনি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি জানিয়েছেন, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ স্থায়ীভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত Indus Water Treaty Crisis-এর প্রেক্ষিতে সিন্ধু জলচুক্তি কার্যকর করা হবে না।

ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদ এবং স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক একইসঙ্গে চলতে পারে না। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে জলচুক্তি পুনরায় চালু করার কোনও পরিকল্পনা নেই।

আফগানিস্তান ও কাশ্মীর ইস্যুও বৈঠকে

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বৈঠকে শুধু জলচুক্তিই নয়, আফগানিস্তান সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে। পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনগুলি হামলা চালাচ্ছে। এ কারণে ‘অপারেশন গাজাব-উল-হক’-এর আওতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সিন্ধু জলচুক্তির গুরুত্ব কী?

১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী রাভি, বেয়াস এবং শতদ্রু নদীর জল ব্যবহারের অধিকার ভারতের হাতে রয়েছে। অন্যদিকে সিন্ধু, ঝিলম এবং চেনাব নদীর জল ব্যবহারের মূল অধিকার পাকিস্তানের।

চুক্তি কার্যকর থাকাকালীন ভারত নিয়মিতভাবে বন্যার পূর্বাভাস এবং জলপ্রবাহ সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানকে সরবরাহ করত। তবে বর্তমানে চুক্তি স্থগিত থাকায় সেই বাধ্যবাধকতা কার্যকর নয়।

জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ভারত ইতিমধ্যেই সিন্ধু অববাহিকায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সাওয়ালকোট, রাতলে, বুরসার, পাকাল দুল, কুয়ার, কিরু এবং কিরথাই-১ ও কিরথাই-২ প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ বাড়ছে। ইসলামাবাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এসব প্রকল্পের ফলে জলপ্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে।

Background

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের কৃষি উৎপাদনের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই সিন্ধু নদী ব্যবস্থার জলের ওপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি টারবেলা ও মাঙ্গলা জলাধারের মতো প্রধান জলাধারগুলিতে জলস্তর কমে যাওয়ায় দেশটির জল নিরাপত্তা আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

Impact

সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ফলে ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জল নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

Official Statement

পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশের জল অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে।

আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

Public Information

  • স্থান: ইসলামাবাদ
  • ইস্যু: সিন্ধু জলচুক্তি
  • পাকিস্তানের অবস্থান: জল অধিকার রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা
  • ভারতের অবস্থান: সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে চুক্তি পুনরায় কার্যকর নয়
  • গুরুত্বপূর্ণ নদী: সিন্ধু, ঝিলম, চেনাব, রাভি, বেয়াস ও শতদ্রু
  • মূল চুক্তি: ১৯৬০ সালের ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি

Read More News

SIR Process: যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা, বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশিক্ষণ দিলেন সিইও

সকাল সকাল ডেস্ক ৩০ জুন থেকে শুরু ইনুমেরেশন পর্ব, ভুল তথ্য দিলে হতে পারে আইনি ব্যবস্থা SIR...

রাঁচি স্টেডিয়াম পদদলিতের ঘটনায় জেএসসিএ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিজেপির তীব্র আক্রমণ, এফআইআরের দাবি

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি রাঁচি স্টেডিয়ামে সাম্প্রতিক পদদলিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় জনতা...

ডুরান্ড কাপ আয়োজন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি রাঁচির কাঁকে রোডে অবস্থিত মুখ্যমন্ত্রীর আবাসিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার...

মাদকাসক্তি বিরোধী সচেতনতায় রাঁচিতে ম্যারাথন দৌড়, তরুণদের শপথ ঝাড়খণ্ডকে নেশামুক্ত গড়ার

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হেমন্ত সোরেনের নির্দেশে ঝাড়খণ্ডজুড়ে মাদকাসক্তি বিরোধী...

Read More