সকাল সকাল ডেস্ক।
India-US Trade Deal নিয়ে কড়া বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর, প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক চায় ভারত
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত India-US Trade Deal নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় শুল্ক বা ট্যারিফ ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা না পেলে ভারত এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে সই করবে না। তবে একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সমঝোতার সম্ভাবনাও যথেষ্ট উজ্জ্বল।
লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া গ্লোবাল ফোরাম (আইজিএফ) ইউকে-ইন্ডিয়া উইক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পীযূষ গোয়েল বলেন, ভারত এমন কোনও বাণিজ্য চুক্তি করতে চায় না, যা দেশের উৎপাদন শিল্প এবং রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। তাঁর মতে, India-US Trade Deal এমনভাবে তৈরি হতে হবে যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।
প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় সুবিধা চায় ভারত
পীযূষ গোয়েল বলেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চিন, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার মতো দেশ। এই দেশগুলির তুলনায় ভারত যদি শুল্ক সুবিধায় পিছিয়ে থাকে, তাহলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা কমে যাবে।

তাঁর বক্তব্য, ভারতের লক্ষ্য শুধুমাত্র কম শুল্ক পাওয়া নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলির তুলনায় আরও অনুকূল শুল্ক কাঠামো নিশ্চিত করা। কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্কের সামান্য পার্থক্যও রপ্তানির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
India-US Trade Deal নিয়ে ভারতের এই অবস্থানকে দেশের উৎপাদন শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
চুক্তির আলোচনায় রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে
ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মুকেশ আঘি মনে করেন, বিষয়টি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত নয়; এর সঙ্গে রাজনৈতিক দিকও জড়িত রয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। ভারত এমন শুল্ক সুবিধা চায় যা তাকে প্রতিবেশী এবং প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় বাড়তি সুবিধা দেবে। এর ফলে ভারতীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
মুকেশ আঘির মতে, India-US Trade Deal-এর সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে এই শুল্ক কাঠামোর উপর। কারণ ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শুল্ক বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ
মুকেশ আঘি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বর্তমানে ভারতের উপর ১২.৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি ভারতের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এতে ভারতীয় পণ্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে।
তাঁর মতে, বিষয়টি ১০ শতাংশ বা ২০ শতাংশ শুল্কের নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলির তুলনায় কতটা সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, সেটাই মূল প্রশ্ন। তাই India-US Trade Deal-এর ক্ষেত্রে ভারত অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, মার্কিন প্রশাসন এমন একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করবে, যা ভারত ও আমেরিকা—উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।
নয়াদিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
চলতি সপ্তাহেই নয়াদিল্লির বাণিজ্য ভবনে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দুই দিনব্যাপী মন্ত্রীস্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে প্রস্তাবিত India-US Trade Deal-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পীযূষ গোয়েল এবং আমেরিকার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার। উভয় পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শুল্ক এবং বাজার প্রবেশাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।
২৪ জুলাইয়ের আগে চুক্তির সম্ভাবনা
বৈঠকে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আলোচনা চূড়ান্ত করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই এই অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই সময়সীমার আগেই India-US Trade Deal নিয়ে বড় অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই ঘোষণা করা হয়েছিল।
আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –
ভারতের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই চুক্তি সফল হলে ভারতের রপ্তানি খাত, উৎপাদন শিল্প এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ এবং কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, দেশের শিল্প ও ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে আপস করে কোনও চুক্তি করা হবে না। তাই প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় যথাযথ ট্যারিফ সুবিধা নিশ্চিত হলেই কেবল India-US Trade Deal চূড়ান্ত হবে।
No Comment! Be the first one.