সকাল সকাল ডেস্ক।
দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশিদের জন্য পুনরায় শুরু হচ্ছে India Tourist Visa, ২৮ জুন থেকে আবেদন গ্রহণ করবে ভারতীয় হাইকমিশন
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য পুনরায় চালু হচ্ছে India Tourist Visa। ভারত সরকার ঘোষণা করেছে, আগামী ২৮ জুন ২০২৬ থেকে পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং ১ জুলাই ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা প্রদান করা হবে। এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন, ব্যবসা এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বৃহস্পতিবার ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি India Tourist Visa পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন।
কী জানাল ভারতীয় হাইকমিশন?
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, পর্যটন ভিসার পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মেডিক্যাল ভিসাও আগের মতো চালু থাকবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা এবং সিলেটের পাঁচটি প্রধান ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, আবেদনকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও নতুন ভিসা কেন্দ্র চালু করা হতে পারে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ সহজেই India Tourist Visa-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
কেন বন্ধ ছিল India Tourist Visa?
২০২৫ সালে উদ্ভূত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পর্যটন ভিসা কার্যত স্থগিত থাকায় চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক সাক্ষাৎ এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত নানা পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে India Tourist Visa পুনরায় চালুর অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে নতুন এই ঘোষণার মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা কার্যক্রম সীমিত হওয়ার ফলে শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াত নয়, দুই দেশের মধ্যে পর্যটন শিল্প, ছোট ব্যবসা এবং সীমান্তবর্তী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও প্রভাবিত হয়েছিল।
দুই দেশের সম্পর্কে নতুন বার্তা
কূটনৈতিক মহলের মতে, India Tourist Visa পুনরায় চালু করা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা।
নতুন হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত পারস্পরিক বিশ্বাস পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং পারিবারিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি পর্যটন, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ভারতে যান। ফলে India Tourist Visa চালু হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পর্যটন ও অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে দুই দেশের পর্যটন খাতে নতুন গতি ফিরে আসবে। বিমান সংস্থা, হোটেল শিল্প, ট্রাভেল এজেন্সি এবং সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন খাত সরাসরি উপকৃত হবে।
এছাড়া স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী চলাচল বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, India Tourist Visa চালুর ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা পর্যটন বাজারে নতুন প্রাণ ফিরে আসবে।
আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –
আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, ২৮ জুন থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং ১ জুলাই থেকে ভিসা ইস্যু করা হবে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।
ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি ভিড়ের সম্ভাবনা থাকায় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি অফিসিয়াল নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, India Tourist Visa পুনরায় চালু হওয়ার ফলে শুধু ভ্রমণ নয়, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও দ্বিপাক্ষিক আস্থা বৃদ্ধিতে এটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। সীমান্ত বাণিজ্য, পর্যটন শিল্প এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিমান, স্থলবন্দর ও পর্যটন খাতে ফিরবে নতুন গতি।
ভিসা সহজীকরণ সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে দৃশ্যমান কূটনৈতিক পদক্ষেপ হওয়ায়, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২৮ জুন থেকে আবেদন প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হলে ভিসা সেন্টারগুলোতে আবেদনকারীদের ভিড় বাড়বে, যা সামাল দিতে ভারতীয় হাইকমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
No Comment! Be the first one.