সকাল সকাল ডেস্ক
মাদ্রিদ (স্পেন) : স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফে শনিবার পৌঁছলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ডক্টর টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস। একটি ডাচ ক্রুজে বিরল ও প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে আটকে থাকা শতাধিক যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে আনার তদারকি করতেই তাঁর এই সফর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান জানিয়েছেন, জাহাজটি টেনেরিফ উপকূলের কাছে নোঙর করবে। করোনা মহামারির অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “হান্টা ভাইরাস কোভিড নয়।”
টেড্রোস বলেন, “এই রোগের ঝুঁকি স্থানীয় মানুষের জন্য খুবই কম। হান্টা ভাইরাসের প্রকৃতি করোনা ভাইরাসের মতো নয়। তবে কোভিডের ধাক্কা এখনও মানুষের মনে রয়েছে।” তিনি আরও জানান, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করেই তিনি নিজের অন্যান্য কর্মসূচি বদলে টেনেরিফে এসেছেন।
জানা গিয়েছে, ডাচ পতাকাবাহী ওই ক্রুজটি রবিবার সকালে টেনেরিফে পৌঁছতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, জাহাজে অন্তত আট জনের মধ্যে হান্টা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা গিয়েছে এবং ইতিমধ্যেই তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে জাহাজের মালিকপক্ষের দাবি, বর্তমানে ৬০ জন কর্মী-সহ মোট ১৪৭ জন যাত্রীর মধ্যে কারও শরীরে সক্রিয় উপসর্গ নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের অনুমান, যাত্রীদের সরিয়ে আনতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির জন্য ছ’টি এবং অন্যান্য দেশের জন্য চারটি বিমানের ব্যবস্থা করা হতে পারে। ক্রুজে ১৭ জন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। তাঁদের ছোট নৌকায় করে জাহাজ থেকে নামিয়ে বিমানে তোলা হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ভাইরাসের সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসার শেষ দিন থেকে ৪২ দিন পর্যন্ত যাত্রীদের আইসোলেশনে থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এই ক্রুজটি। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের একাধিক প্রত্যন্ত দ্বীপে এটি থামে। এর মধ্যে ট্রিস্টান দা কুনহা ও সেন্ট হেলেনা দ্বীপও রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, দক্ষিণ আমেরিকা সফর করে আসা এক ডাচ দম্পতির মাধ্যমেই জাহাজে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়ে থাকতে পারে।
No Comment! Be the first one.