সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন। রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দণ্ডিত মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)-র প্রাক্তন কর্মকর্তা এলড্রিচ এমসের সোমবার ফেডারেল কারাগারে মৃত্যু হয়েছে। মেরিল্যান্ডের কাম্বারল্যান্ডে অবস্থিত ফেডারেল কারেকশনাল ইনস্টিটিউশনে আজীবন কারাদণ্ড ভোগরত অবস্থায় ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মার্কিন কারা ব্যুরোর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এলড্রিচ এমস প্রায় ৩১ বছর সিআইএ-তে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্বীকার করেছিলেন যে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বিনিময়ে মস্কোর কাছ থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ মার্কিন ডলার পেয়েছিলেন। কারা ব্যুরোর তরফে আরও জানানো হয়েছে, এমস আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন এবং তাঁর প্যারোল পাওয়ার কোনও সম্ভাবনাও ছিল না। তিনি প্রথমে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরে রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেছিলেন।
সিবিএস নিউজ ও সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এমসের গুপ্তচরবৃত্তির ফলে শতাধিক গোপন গোয়েন্দা অভিযান বিপদের মুখে পড়ে। দোষ স্বীকার করে এমস মেনে নিয়েছিলেন যে সিআইএ এবং অন্যান্য মার্কিন ও বিদেশি সংস্থার প্রায় সব সোভিয়েত এজেন্টের পরিচয় তিনি ফাঁস করে দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এমস অন্তত ১০ জন এজেন্টের পরিচয় জানিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে কমপক্ষে ন’জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
১৯৪১ সালে উইসকনসিনের রিভার ফলস-এ জন্মগ্রহণ করেন এলড্রিচ এমস। তাঁর শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। তাঁর পিতাও ওই অঞ্চলে সিআইএ-র হয়ে কাজ করতেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় একাধিক বিষয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৬২ সালে এমস সিআইএ-তে কেরানি পদে যোগ দেন। পরে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ১৯৬৭ সালে ইতিহাসে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৯ সালে তাঁর প্রথম বিয়ে হয়, তাঁর স্ত্রীও সিআইএ-তে কর্মরত ছিলেন।
১৯৮১ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত এমস মেক্সিকো সিটিতেও কাজ করেন। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় কলম্বিয়ার দূতাবাসের আধিকারিক রোসারিওর সঙ্গে। পরবর্তীতে তাঁকে বিয়ে করেন এমস। এরপর তাঁকে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনের সোভিয়েত শাখার প্রধান করা হয়। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। সেই আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতেই ১৯৮৫ সালে সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি-র আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। ৫০ হাজার ডলার গ্রহণের বিনিময়ে তিনি কেজিবি-কে সিআইএ এজেন্টদের একটি তালিকা তুলে দেন, যা আমেরিকার কাছে বড় ধাক্কা ছিল।
১৯৯৪ সালে সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, সহযোগিতার বিনিময়ে কেজিবি এমসকে দুই মিলিয়ন ডলারেরও বেশি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনের পর মস্কো সফরের আগেই ১৯৯৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় দুই মাস পর এমস ও তাঁর স্ত্রী গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এমসের স্ত্রীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তৎকালীন সিআইএ পরিচালক আর. জেমস উলসি বলেছিলেন, এমস ছিলেন “নিজের দেশের জন্য এক ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতক, যার কারণে এমন বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যারা আমেরিকা ও পশ্চিমি বিশ্বকে শীতল যুদ্ধ জিততে সাহায্য করেছিলেন।” গ্রেপ্তারের পর নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমস জানান, অর্থই ছিল অন্য পক্ষের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি শুরু করার মূল কারণ।
No Comment! Be the first one.