ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার বাজেট পেশ অর্থমন্ত্রীর

সকাল সকাল ডেস্ক,

রাঁচি : ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের পঞ্চম দিনে মঙ্গলবার ঝাড়খন্ড–এর অর্থমন্ত্রী রাধাকৃষ্ণ কিশোর ২০২৬–২৭ আর্থিক বছরের জন্য ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এটি আগের অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। টানা দ্বিতীয়বার বাজেট পেশ করলেন তিনি। এই বাজেটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আবুয়া দিশম’ বাজেট।

এদিন বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ দিশম গুরুজির অভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে। তিনি জানান, এই বাজেট ঝাড়খণ্ডবাসীর মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। দারিদ্র্যমোচন, স্বাস্থ্য, শক্তি ও শিক্ষা এই চারটি ক্ষেত্রকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিগত অর্থবর্ষে ঝাড়খন্ড সরকার ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিল। তার মধ্যে ৯১ হাজার ৭৪১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা ছিল পরিকল্পনা খাতে এবং ১৭ হাজার ৭৩ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা ছিল কেন্দ্রীয় প্রকল্প-সংযুক্ত ব্যয়। চলতি বাজেটে সামাজিক ক্ষেত্রের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট সামাজিক ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ভিতকে আরও মজবুত করবে। দরিদ্র, মহিলা ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

বাজেট পেশের আগে অর্থমন্ত্রীর স্ত্রী তাঁকে দই-চিনি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব প্রশান্ত কুমার। অর্থমন্ত্রীর স্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগের বছরের মতো এ বছরও মহিলাদের স্বার্থ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বকেয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কর বাবদ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং অনুদান বাবদ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা এখনও রাজ্য পায়নি। এছাড়া জি-রামজি প্রকল্পের ফলে প্রতিবছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা রাজ্যের উপর চাপবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিজেদের সম্পদ ও সামর্থ্যের উপর ভর করেই রাজ্যের উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্রামসভাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ধানবাদ, গিরিডিহ, জামতাড়া এবং খুন্তির সদর হাসপাতালগুলিকে পিপিপি মডেলে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সাহেবগঞ্জ এবং সরাইকেলার সদর হাসপাতালগুলিকেও একইভাবে উন্নত করা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে রাজ্যে এমবিবিএস আসন সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছত্রায় ড. ভীমরাও আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথাও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট পেশের শেষে তিনি বলেন, এই বাজেট তিনি তাঁর গুরুজিকে উৎসর্গ করেছেন। তাঁর কথায়, “কারও পায়ে পড়ে কিছু পাওয়ার চেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সাফল্য অর্জন করাই শ্রেয়। এই বাজেট দরিদ্র মানুষের চোখের জল মোছার বাজেট।”

Read More News

Read More