সকাল সকাল ডেস্ক
ওয়াশিংটন : মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্যাটিকানের প্রধান পোপ লিও চতুর্দশের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপের অবস্থানকে তিনি নিন্দা করেন। ট্রাম্প বলেন, পোপ লিওর বিদেশনীতি অত্যন্ত খারাপ। রবিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা এমন কোনো পোপকে পছন্দ করি না, যিনি বলেন যে পরমাণু অস্ত্র রাখা ঠিক। তিনি বুঝতে চান না, ইরান যদি পরমাণু শক্তিধর হয়ে ওঠে, তাহলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।”
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম মার্কিন পোপ এবং ভ্যাটিকানের প্রধান লিও আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ক্রমাগত সরব হচ্ছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের ইরানকে দেওয়া হুমকির নিন্দা করে পোপ বলেছিলেন, এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, “আজ রাতেই গোটা সভ্যতা মুছে যেতে পারে।” এই হুমকি ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সমঝোতার কয়েক ঘণ্টা আগে আসে।
এই সংঘর্ষের সময় ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাঁদের বক্তব্যে ঈশ্বরের উল্লেখ করেছেন। হেগসেথ এই যুদ্ধকে ঈশ্বরসমর্থিত বলেও দাবি করেন এবং ধর্মীয় গ্রন্থের উল্লেখ করেন। তবে পোপ লিও এই মতের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। পাম রবিবার উপলক্ষে তিনি বলেন, “যিশু শান্তির রাজা। তিনি যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করেন। যুদ্ধকে ন্যায্য প্রমাণ করতে তাঁর নাম ব্যবহার করা যায় না।” এরপর ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোপের সমালোচনা করেন।
রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি এমন কোনো পোপ চাই না, যিনি মনে করেন ইরানের কাছে পরমাণু অস্ত্র থাকা ঠিক। এবং যিনি মনে করেন, ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার হামলা করা অত্যন্ত খারাপ সিদ্ধান্ত ছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমি এমন পোপ চাই না, যিনি আমেরিকার রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করেন।” ট্রাম্প দাবি করেন, লিওর পোপ হওয়ার কোনো যোগ্যতা ছিল না; তিনি শুধু আমেরিকান হওয়ার কারণেই গির্জা তাঁকে গ্রহণ করেছে।
ট্রাম্পের এই সমালোচনার জবাবে ভ্যাটিকানের কর্মকর্তা ফাদার আন্তোনিও স্পাদারো বলেন, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প একটি নৈতিক কণ্ঠস্বরকে চুপ করাতে চাইছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ট্রাম্প পোপ লিওর সঙ্গে বিতর্ক করতে পারেন না। পোপের বক্তব্যের গভীর প্রভাব রয়েছে, তাই ট্রাম্প অস্বস্তিতে পড়েন। পোপ লিও আগেও পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গত জুনে যখন ট্রাম্প ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার কথা ভাবছিলেন, তখন পোপ বলেছিলেন, “পরমাণু হুমকি থেকে মুক্ত একটি নিরাপদ বিশ্ব গড়তে পারস্পরিক সম্মান ও আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে এগোতে হবে, যাতে ন্যায়, ভ্রাতৃত্ব ও সবার কল্যাণের ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়।”
এই বিতর্কে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।
No Comment! Be the first one.