‘সব সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করুন’, ইরানিদের কাঁধে বন্দুক রেখে তেহরানকে হুমকি ট্রাম্পের
সকাল সকাল ডেস্ক ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও সহিংস হয়ে উঠেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই দেশে মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এরই মাঝে আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেই এই সব মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। এদিকে সাহায্যের বার্তা দিলেও, কার্যত আন্দোলনকারী ইরানিদের কাঁধে বন্দুক রেখেই খামেনেইকে ভয় দেখাচ্ছেন ট্রাম্প। এদিকে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছেন । এরই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি তথা পার্লামেন্টের প্রাক্তন স্পিকার আলি লারিজানি কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্পের। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে একটি পোস্টে লারিজানি লেখেন, এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে দায়ী। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানি জনগণের প্রকৃত হত্যাকারীদের নাম ঘোষণা করছি। প্রথমজন ট্রাম্প এবং দ্বিতীয়জন নেতানিয়াহু।’ লারিজানি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল দেশটিতে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ একটি পোস্ট শেয়ার করে বলেন, ‘ইরানি দেশপ্রেমিকরা, প্রতিবাদ অব্যাহত রাখুন। আপনার প্রতিষ্ঠানগুলি দখল করুন! সাহায্য আসছে।’ তবে কী ধরনের সহায়তা করা হবে তা তিনি স্পষ্ট করেননি। ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইরানের সাথে কোনও স্তরের আলোচনা করবেন না। ইরানে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি? মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মীর মতে, এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ২০০৩ জন লোক নিহত হয়েছে এই বিক্ষোভে। একই সময়ে, কিছু আন্তর্জাতিক সূত্র দাবি করে যে এই সংখ্যাটি ১২০০০ থেকে ২০০০০-এর মধ্যে হতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রথমবারের মতো পরোক্ষভাবে মৃত্যুর কথা স্বীকার করে বলেছে, দেশটিতে অনেকে প্রাণ হারিয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলনে নেমেছেন ইরানের জনগণ। মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনীতির অবনতির ইস্যুতে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। রাজধানী তেহরানসহ ইরান জুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। ইরানি বাহিনীকে বহু জায়গায় তাড়া করছে সাধারণ মানুষ। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর যে জনরোষ ইরানের পথেঘাটে দেখা গিয়েছিল, তারপর থেকে এটাই সবচেয়ে বড় আন্দোলন সেই দেশে। তবে তেহরান বলছে, এর পেছনে রয়েছে আমেরিকা। অনেক জায়গায় নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পহলভির নামে স্লোগানও দিচ্ছেন মানুষ। এর আগে ১৯৭৯ ইসলামি বিপ্লবের সময় তৎকালীন রাজা তথা রেজার বাবা ইরান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এদিকে এই সবের মাঝেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
ইরানে মাস্কের স্টারলিংক ইন্টারনেট এখন ফ্রি
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকার মধ্যে ধনকুবের ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স সেখানে তাদের স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা বিনা মূল্যে প্রদান করছে। ইরানি স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা একজন প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রযুক্তিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘হোলিস্টিক রেজিলিয়েন্স’-এর নির্বাহী পরিচালক আহমদ আহমাদিয়ান বলেন, ইরানে স্টারলিংকের যেসব অ্যাকাউন্ট আগে নিষ্ক্রিয় ছিল, সেগুলোতে এখন সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং গতকাল মঙ্গলবার থেকে সেগুলোর সাবস্ক্রিপশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। সিএনএনকে আহমদ আহমাদিয়ান বলেন, ‘এটি এখন শুধু প্লাগ ইন ও কানেক্ট করার বিষয়। স্যাটেলাইট টার্মিনালটি শুধু এমন কোথাও রাখতে হবে; যেখান থেকে আকাশ পরিষ্কার দেখা যায়, তবেই কাজ শুরু হবে।’ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের মধ্যে একটি ফোনালাপের পর এ খবর সামনে এল। ওই ফোনালাপে তাঁরা ইরানে স্টারলিংক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে স্পেসএক্স বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কয়েক দিন ধরে ইরান সরকার দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে রেখেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’ বা ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা। এ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটিতে সহিংস বিক্ষোভে অন্তত ২ হাজার ৫০০ নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। মূলত যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় হতাহতের সঠিক হিসাব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেটে বিনা মূল্যে প্রবেশের এ সুযোগ আন্দোলনকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সুবিধা পাবে ইরানের ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র ক্ষুদ্র একটি অংশ। এ ছাড়া ইরান সরকারের স্টারলিংকের সিগন্যাল জ্যাম করে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আলমোড়ায় খাদে বাস পড়ে মৃত ৭, শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
7 dead as bus falls into ditch in Almora, PM expresses condolences
আন্তর্জাতিক মহিলা ক্রিকেটে ১০ হাজার রান পূর্ণ করলেন স্মৃতি মান্ধানা
Smriti Mandhana completes 10,000 runs in international women’s cricket.
ঝাড়খণ্ড সফরে রাষ্ট্রপতি, তিনদিন নির্দিষ্ট এলাকায় নো-ফ্লাই জোন
President on Jharkhand visit, no-fly zone in certain areas for three days
গাভাইয়ের উত্তরসূরি সূর্য কান্ত, শপথ নিলেন সুপ্রিম কোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি
নয়াদিল্লি : সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে শপথ নিলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। বিদায়ী প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই অবসর নেওয়ার পর ৫৩-তম প্রধান বিচারপতি পদে শপথ নিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সূর্য কান্তকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এর আগে বিদায়ী প্রধান বিচারপতি গাভাইয়ের প্রস্তাব অনুসারে রাষ্ট্রপতিই বিচারপতি সূর্য কান্তকে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন।
পানীয় জলের দাবি কারখানা গেটের সামনে শ্রমিক পরিবারের মহিলাদের বিক্ষোভ
সোমনাথ গুপ্ত, দুর্গাপুর : রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা দুর্গাপুর কেমিকেলস কারখানা ২০১৯ সালে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কারখানার রক্ষনাবেক্ষণের জন্য প্রায় দুশো জন অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করে চলেছেন আজও। টানা ছ মাস ধরে জল যন্ত্রনায় জেরবার এই অস্থায়ী শ্রমিকদের পরিবার পরিজন, ২২ দিন হলো পরিস্তিতি আরো ভয়ঙ্কর হয়েছে। বারবার বলার পর কর্তৃপক্ষ গা না করাতে বৃহস্পতিবার মহিলারা চলে আসেন কারখানার গেটের সামনে, শুরু করেন গেটের সামনে বিক্ষোভ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কোকওভেন থানার পুলিশ। যতক্ষণ দাবী না মিটছে ততক্ষন আন্দোলন জারি রাখার হুশিয়ারী দেন শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা। জলের জন্য টাকা নেওয়ার পরও কেন জল দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ? এই প্রশ্ন তুলে সরব হয় আন্দোলনকারীরা। শেষে ঘন্টা খানেক আন্দোলন চলার পর পুলিশের মধ্যস্ততায় শেষে কর্তৃপক্ষ কথা দেয় খুব তাড়াতাড়ি সমস্যা মিটবে। এইদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে দুর্গাপুর নগর নিগম থেকে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা হবে, তবে বিরোধীরা যেন এই সমস্যায় ইন্ধন না দেয় প্রতিক্রিয়া তৃণমূল নেতা উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়ের। শাসক দলকে পাল্টা কটাক্ষ জেলা বিজেপি নেতৃত্বের। সব মিলিয়ে গোটা ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে নিমেষে উতেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুর্গাপুরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে দুর্গাপুর কেমিকেলস কারখানার সামনে।
এনডিএ সরকার অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী
সকাল সকাল ডেস্ক। আরারিয়া: এনডিএ সরকার অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে ফের বিরোধীদের কড়া আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার আরারিয়ায় এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অনুপ্রবেশকারীরা। এনডিএ সরকার প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে দেশ থেকে বিতাড়িত করার জন্য সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু আরজেডি এবং কংগ্রেসের নেতারা এই অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতে ব্যস্ত। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে নানা মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেস হোক বা আরজেডি — দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের আস্থার বিষয়ে তাদের কোনও চিন্তা নেই। এ কারণেই তারা আমাদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে অপমান করে। কংগ্রেসের নামদার নেতা বিহারে এসে ছঠি মাইয়া পূজাকে নাটক বলে অভিহিত করেছেন। এটি আমাদের মা-বোনেদের আস্থার প্রতি চরম অসম্মান। যারা ছঠি মাইয়ার উপাসনা করেন, তারা উপবাস থেকে জলও পান করেন না — আর কংগ্রেস সেটিকে প্রহসন বলে কটাক্ষ করছে।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এনডিএ সরকার দেশের নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ, আর বিরোধীরা কেবল ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের তোষণ করছে।
হিংসার প্রতি নির্বাচন কমিশনের শূন্য সহনশীলতা : জ্ঞানেশ কুমার
সকাল সকাল ডেস্ক। কানপুর।মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট বার্তা দিলেন— হিংসার প্রতি নির্বাচন কমিশনের শূন্য সহনশীলতা রয়েছে। রবিবার উত্তর প্রদেশের কানপুরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “বিহার নির্বাচন ২০২৫”-এ প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজস্ব উপায়ে প্রচার করছে, তবে কমিশনের কাছে শাসক ও বিরোধী দল— উভয়ই সমান।জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “আমি বিহারের সমস্ত ভোটারদের কাছে আবেদন করছি— আসুন আমরা সকলে মিলে নির্বাচনের এই গণতান্ত্রিক উৎসব উদযাপন করি এবং নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করি।”তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, যাতে প্রতিটি ভোটার শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। কোনও ধরনের নির্বাচনী হিংসা বা ভয়ভীতি বরদাস্ত করা হবে না, বলেও তিনি সতর্ক বার্তা দেন।মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, “বিহারের এই নির্বাচন শুধু স্বচ্ছতার জন্য নয়, দক্ষতা, সরলতা ও উৎসবমুখর পরিবেশের জন্যও একটি অনন্য উদাহরণ স্থাপন করবে। এটি ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের জন্যও একটি মডেল নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী ‘রিগ্যান’ বিজ্ঞাপন নিয়ে ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চাইলেন
সকাল সকাল ডেস্ক গ্যংজু, দক্ষিণ কোরিয়া। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শনিবার জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি ‘আমদানি শুল্ক’ সংক্রান্ত কানাডার একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি আরও জানান, ওই বিজ্ঞাপন প্রচার না করার পরামর্শও তিনি অন্টারিও প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডগ ফোর্ডকে দিয়েছিলেন। এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় কার্নি এই কথা বলেন। তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং আয়োজিত এক নৈশভোজে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হলে ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই ক্ষমা চান। কার্নি বলেন, “আমি প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম।” তিনি জানান, বিজ্ঞাপন প্রচারের আগে তিনি ফোর্ডের সঙ্গে এটি পর্যালোচনা করেছিলেন এবং ব্যবহারের বিপক্ষে ছিলেন। “আমি ফোর্ডকে বলেছিলাম যে আমি এই বিজ্ঞাপনটি এগিয়ে নিতে চাই না,” বলেন কার্নি। বিজ্ঞাপনটি তৈরি করেছিলেন ডগ ফোর্ড, যিনি একজন সোচ্চার রক্ষণশীল রাজনীতিক এবং প্রায়ই ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করা হয়। বিজ্ঞাপনে আমেরিকার রিপাবলিকান পার্টির ‘আইকন’ ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের একটি সংক্ষিপ্ত ক্লিপ ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে তিনি বলছেন— “আমদানি শুল্ক বাণিজ্য যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক ধ্বংসের কারণ হয়।” এই বিজ্ঞাপন দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দেন এবং বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে দেন। এদিকে, এই সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়া ত্যাগ করার সময় ট্রাম্প বলেন যে, কার্নির সঙ্গে নৈশভোজে তাঁর “খুব ভালো” আলোচনা হয়েছে, তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। শুক্রবার আবার ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু হবে না। কার্নি বলেন, শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর আলোচনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। কানাডা ও চীনের নেতাদের মধ্যে সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছিল ২০১৭ সালে, যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সান ফ্রান্সিসকোতে এক সভায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে আটক কানাডার একাধিক নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কানাডার গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, চীন অন্তত দুটি ফেডারেল নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে। কার্নি জানান, তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিদেশি হস্তক্ষেপসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর কথায়, এশিয়া সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল কানাডার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো। তিনি বলেন, “এটি রাতারাতি সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা এই দিকেই দ্রুত অগ্রসর হচ্ছি।”